Header Ads

সময় - একটি অমীমাংসিত রহস্য

সময় - একটি অমীমাংসিত রহস্য

আমাদের জগতের সবচাইতে রহস্যময় বিষয়গুলির একটি হচ্ছে 'সময়'। মানুষ প্রশ্ন করতে শেখার পরেই যে বিষয়গুলি নিয়ে অনুসন্ধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার একটি এই সময়। সহস্র বছর ধরে দার্শনিক, বৈজ্ঞানিক এবং সাধারণ মানুষের চিন্তার খোরাক যোগাচ্ছে এটা। এই বিষয়ে জনপ্রিয় পদার্থবিদ ব্রায়ান গ্রিন বলেছেন,

সময় হচ্ছে মানবজাতির জানা সবচেয়ে পরিচিত অথচ দুর্বোধ্য একটি বিষয়। আমরা বলি, এটি চলমান, এটি অর্থ (টাকাপয়সা)। আমরা এটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করি, এটা নষ্ট হলে আমরা অপরাধবোধে ভুগি। কিন্তু সময় জিনিসটা আসলে কী?

সময় কী?


দুইটি মুহূর্ত বা ঘটনার মাঝখানের ব্যাপ্তিকালকে সময় বলা হয়। সময় অস্তিত্ব এবং ঘটনার অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হওয়ার একটি পরিমাপ যন্ত্র। মহাবিশ্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হচ্ছে সময় এবং এটি একটি মৌলিক রাশি। তিন মাত্রার জগতে সময়কে চতুর্থ মাত্রা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

একটি উদাহারণ...


আচ্ছা, এখন বিষয়টিকে একটি উদাহারনের সাহায্যে বোঝার চেষ্টা করি চলুন। কল্পনা করুন সময় বলতে কিছু নেই। আপনি জানেননা সময় কি, সময়ের অস্তিত্ব বলতে কী বোঝায়। এখন চিন্তা করুন দুইটা ট্রেইন A এবং B, দুইটা ট্রেনই ষ্টেশনের দিকে ছুটে চলেছে কিন্তু A ট্রেনটি আগে পৌঁছে গেলো অন্যদিকে B ট্রেনটি পৌছালো A ট্রেনের পরে। কিন্তু আপনি দুইটা ট্রেনের মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারছেন না কারণ সময় কী সেটা আপনি জানেন না, তাই কোন ট্রেনটি আগে পৌছে গেলো সেটা বোঝা সম্ভব হচ্ছেনা এবং আপনার কাছে দুইটা ট্রেনই আসলে সমান।

এক্ষেত্রে যদি আমরা মাপতে চাই কোন ট্রেইনটি কখন স্টেশনে পৌছেছে তাহলে আমাদের অবশ্যই মাপার একটি রাশি নির্ধারণ করতে হবে এবং মান নির্ধারণ করতে হবে।

সময় - একটি অমীমাংসিত রহস্য

আচ্ছা এখন আরেকটা উদাহারন নিই। কল্পনা করো আপনি লিখাটি পড়ছেন (আসলেই পড়ছেন!) এবং লিখাটি পড়া শেষ হলে একটু বিশ্রাম নিবেন এবং পুরো লিখাটি আরও একবার পড়বেন। এখন আমরা যদি সময় সম্পর্কে না জেনে থাকি তাহলে ১ম বার লিখা পড়ার ঘটনা এবং ২য় বার পড়ার ঘটনা দুইটি সমান হয়ে যাবে। যদিও ঘটনা দুইটি আসলে সমান নয় এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য বের করার জন্য আমাদের একটি রাশির প্রয়োজন হবে যা দুটি ঘটনার মাঝের পার্থক্য নির্দেশ করতে পারবে। রাশিটি হচ্ছে সময়। এটি ব্যাবহার না করলে আমরা ঘটনাদ্বয়ের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারবো না এবং সব ঘটনাই আমাদের কাছে একইরকম মনে হবে।

একটু ভিন্নভাবে বোঝার চেষ্টা...


পূর্বে উল্লেখ করেছি যে আমরা সময়কে চতুর্থ মাত্রা হিসেবে ধরে থাকি। সাধারনত আমরা ৪টা মাত্রা ব্যাবহার করি কোনকিছুর অবস্থান নির্দিষ্ট করার জন্য। স্পেসে x, y, z অক্ষ কোন বস্তুর অবস্থান এবং সময় (t) তার অস্তিত্ব নির্দেশ করে। বিখ্যাত পদার্থবিদ আলবার্ট আইন্সটাইন "স্পেশাল থিওরি অফ রিলেটিভিটি' তে সময়কে প্রথম চতুর্থ মাত্রা হিসেবে ব্যাবহার করেন।

আপনি সময়কে একটু ভিন্নভাবেও দেখতে পারেন। আসলে সময় যেকোনোকিছুর অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে। যদি এই মুহূর্তে আপনি জীবিত থাকেন এবং নিশ্বাস নেন তাহলে সময় আপনাকে সাহায্য করবে এই মুহূর্তের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে। যদি কেউ মৃত হয় তাহলেও সময় তার অতীতের অস্তিস্ত্ব এবং ঘটনা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে মারা গেলে সময় আমাদের ভবিষ্যতের অস্তিত্ব বর্ণনা করবে। সুতরাং সময় আমাদের অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের অস্তিত্ব প্রদান করে। সময় হচ্ছে অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের পথে অগ্রসরমান ঘটনাসমূহের পরিমাপ করার মাধ্যম।

পদার্থবিজ্ঞানে সময়ের মাধ্যমে গতি এবং বলকে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। 

আরও একটা মজার বিষয় রয়েছে। আমরা সময়কে পরিমাপ করতে পারি কিন্তু অনুভব করতে পারি না। আমরা বলতে পারি যদি এন্ট্রপি বৃদ্ধি পায় তাহলে সময় বৃদ্ধি পাচ্ছে। কখনো কি এই প্রশ্নটা করেছিলেন, আমরা কেন শিশু হয়ে জন্ম নিই এবং বৃদ্ধ হয়ে মারা যাই? একটু ভাবুন...

কারণ এনট্রপি বৃদ্ধি পাচ্ছে, সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে সময়। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন যদি একটি পাথর মাটিতে ফেলে দেয়া হয় এবং কেউ সেটাকে আঘাত না করে তাহলে কী সেটা শব্দ করবে? অবশ্যই! যদি এনট্রপি ছাড়াই সময় অতিবাহিত হয় এবং কেউ জিনিসটা না দেখে তাহলেও কি সেটাকে সময় হিসেবে ধরা হবে? হ্যা, তখনো সেখানে সময় ধরা হবে।

তাই, আমরা সময় পরিমাপ কিন্তু পারি কিন্তু সেটাকে অনুভব করতে পারি না! 

No comments: