Header Ads

আমেরিকান গান কালচারঃ আমাদের ও তাদের পার্থক্য

ইদানিং ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা'য় প্রায়শই বন্দুকধারীদের আক্রমনের ঘটনা ঘটছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি বেশীরভাগ ঘটনাই 'বৈধ' অস্ত্র দিয়ে হচ্ছে। তাই বিশের অনেক দেশের মত বাংলাদেশ ও এর জনগণ আমেরিকায় অস্ত্রের সহজলভ্যতার ব্যাপারকে একই সাথে বিস্ময় প্রকাশ করছে ও এর দ্বারা সংগঠিত অপরাধের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করছে। এমনকি অনেক আমেরিকান যাদের বেশিরভাগই অভিবাসী বা স্বল্পকাল আগে সেদেশের নাগরিত্ত্ব গ্রহন করেছে তারাও এই অস্ত্র আইনকে বাতিল করার দাবী জানাচ্ছে।

আমেরিকান গান কালচারঃ আমাদের ও তাদের পার্থক্য

আমেরিকানদের বন্দুকবাজীকে 'বৈধতা'র প্রশ্ন করার আগে আমেরিকার ইতিহাস জানুন। বাঙালী আমেরিকার ইতিহাস বলতে কলম্বাসের ভুল জাহাজ চালনাকে বুঝে। যারা আউট বুক পড়ে তারা জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম ও প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনের 'সিভিল ওয়্যার' বিষয়ে জানে। কিন্তু কারা সেসব যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলো, সেখানকার সামরিক বাহিনীর গঠন ও গত ১০০ বছরের সিভিল লাইফের পরিবর্তন জানে না। আমরা আমেরিকানদের 'স্বাধীন' থাকা বা 'গণতন্ত্র'র বুলি আওড়াই কিন্তু সেগুলো বোঝার চেষ্টা আদৌ করি না। আমাদের পলিটিক্যাল নেতারা যা বলে সেটাই আপ্তবাক্য বলে বিশ্বাস করি।

আমেরিকার আকারের তুলনায় জনসংখ্যা নগণ্য। আমরা আমেরিকার নাম বললেই নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও আরো কিছু শহরের নাম বলি। এসব পরিচিত শহর ছাড়াও মিডিয়াতে কম আসা বা কম পরিচিত শহর আছে। এমনকি অনেকে ক্যাম্প করে বনে-জঙ্গলেও থাকে। শেষ লাইন পড়ে আমাকে ভুল বুঝবেন অনেকেই। কিন্তু খুব কম লোকই জানে 'প্রস্পেক্টার' বলে একটা পেশা আছে যারা পথে-প্রান্তরে, বনে-জঙ্গলে ঘুরে 'স্বর্ণ'র সন্ধান করে ও পেলে সেটা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা ধরে আমেরিকানরা শুধু হ্যাম বার্গার ও কোকাকোলা খেয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু তাদের কৃষি খামার ও পশু খামার যেগুলোর গল্প সেবা প্রকাশনীর 'ওয়েস্টার্ন' বইয়ে ও ক্লিন্ট ঈস্টউডের মুভিতে দেখেছি যা 'র‌্যাঞ্চ' নামে পরিচিত সেগুলোর কথা মাথায় আসে না। এই খামার গুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত। আমেরিকা মানেই হাই-রাইজ বিল্ডিং'র জঙ্গল না।

সেখানে এক একর জমির দাম গড়ে 'আড়াই লাখ' টাকা। জানি এখন আমার কথা বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু বাংলাদেশে আমি যদি পূর্বাচলের প্রতি কাঠা জমির দামের সাথে সিলেটের জৈন্তাপুর বা নওগাঁর কোন গ্রামের জমির তুলনা করি তাহলে বুঝতে পারবেন।

তো সেই দূর্গম এলাকায় যারা ফার্ম বা কটেজ বা হলিডে ভিলা করতে চায় তখন শর্তই থাকে নিজের নিরাপত্তা নিজে করবে। তা এমন না যে তারা 'ল এনফোর্সমেন্টের কোন সাহায্য পাবে না। তবে আউট'ল বা বন্য হিংস্র জন্তু আসলে নিশ্চয়ই কেউ পুলিশের আশায় বসে থাকবে না। সেখানে এমনও শহ্র আছে যার থেকে নিকটতম পুলিশ স্টেশন কয়েক ঘন্টা লাগে।

ভলান্টিয়ার সেনাবাহিনী আমাদের দেশে অপরিচিত। কিন্তু আমেরিকায় অত্যান্ত সুপরিচিত। এমনকি নিয়মিত বাহিনীর একটা অংশও এই 'ভলান্টিয়ার বাহিনী' থেকে আসে। আমরা তো সেই ব্রিটিশদের ধ্যান-ধারণা নিয়ে পড়ে আছি। আর এই 'বন্দুকবাজি'র জন্য কিংবদন্তীর পর্যায় যে কয়েকটি শহর আছে তার মাঝে প্রথম 'টেক্সাস।' একটু খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন আমেরিকার মিলিটারীর সেরা 'স্নাইপার' যায় টেক্সাস থেকে। বাঙালীর রক্তে যেমন জলযান নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারটা জীনগত ভাবে মিশে আছে বন্দুকের ব্যাপারটা স্প্যানীশ ধারার আমেরিকানদের মাঝে।

আরো একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার আছে। সাংবিধানিক ভাবে আমেরিকায় ব্যক্তিগত রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারটি বৈধ। যে ৫০টি স্টেটস নিয়ে আমেরিকা 'ইউনাইটেড' তারা স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার অধিকার রাখে।

আমাদের দেশে শটগান ও রাইফেলের জন্য বার্ষিক ১ লক্ষ টাকা ও রিভলভার এবং পিস্তলের জন্য ২ লক্ষ টাকা ট্যাক্স। সাথে হাজারটা নিয়ম। প্রয়োজনে পুলিশের সাহায্য পাওয়া লটারী পাওয়ার মত ভাগ্যের বিষয়। আমরা গান গেয়ে বিরিয়ানী খেয়ে বছরে কয়েকটা 'দিবস' পালন করার মাঝে 'স্বাধীনতা' খুজে বেড়াই। স্বাধীনতা বুঝতে হলে স্বাধীন ভাবে চিন্তা করতে হবে। আর তেমন চিন্তা করতে হলে বিদেশী শাসকদের 'আইন' সবার আগে নর্দমায় ফেলে নিজেদের 'মগজ' কাজে লাগাতে হবে। যে শাসকই আমেরিকানদের অস্ত্রের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছে তারই জনপ্রিয়তা কমেছে অস্বাভাবিকভাবে। লক্ষ্য করলে দেখবেন সামাজিক মিডিয়াতে যে আমেরিকানরা অস্ত্রের প্রতি আলাদা মমত্ব দেখাচ্ছে তারা রিপাবলিকান ঘরানার অথবা বেশ কয়েক জেনারেশন আমেরিকায় বাস করছে।

পরিসংখ্যান মতে প্রতি ২৬ জন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকের মাঝে ১ জন জীবনে একবার বন্দুক নিয়ে 'অবৈধ' কাজ করে। আমেরিকায় পুলিশের প্রমিজিং ইমার্জেন্সী রেসপন্স গড়ে ১০ মিনিট। আর ইমার্জেন্সী সেল্প ডিফেন্স ফায়ার আর্মস সেফটি গড়ে ৫০ সেকেন্ড।

ইদানিং যে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটছে তাতে মৃত্যুর ঘটনা আরো অনেক বাড়তো যদি অন্য কেউ আক্রমনকারীকে পালটা আঘাত না করতো। আর সেটা বন্দুকের সহজলভ্যতার কারণেই হয়। শেষ টেক্সাসের বন্দুকধারী ক্যালিকে একজন সিভিলিয়ান তার লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে পালটা ফায়ারিং শুরু করলে সে গাড়ী নিয়ে পালিয়ে যায়। সেই সিভিলিয়ান তাতে হাল না ছেড়ে বন্দুক সাথে নিয়ে গাড়ী করে পিছু নেয়। তার সাথে পরে পুলিশ যোগ দেয়। সেই সিভিলিয়ান পালটা আঘাত না করলে মৃতের সংখ্যা ২৭ না হয়ে ৭২ হতে পারতো। চার্চে তখন ১০০ জন লোক ছিলো। সেই হিরোর নাম জনি ল্যাঙ্গেনডর্ফ।

আমাদের বাংলাদেশে তো ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ে অনেক কঠোরতা। তাতে কি খুন-খারাপি কমেছে?

লিঙ্কঃ 

লেখক পরিচিতিঃ 
লিখেছেনঃ NAZMUS SAKIB

লিখাটি ভালো লাগলে দয়া করে শেয়ার করুন। এমন আরও লিখা নিয়মিত পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: