Header Ads

ব্ল্যাকহোলের মৌলিক কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা

ব্লাকহোল নিয়ে আমরা এত আলোচনা করেছি যে কিছু বিষয় বার বার দেখতে হয়ত আপনার বিরক্তি লাগে । তবে আজ ব্লাকহোল ফ্রাইডে হওয়াতে চলুন ব্লাকহোলের মৌলিক কিছু বিষয় জেনে নেই!

ব্ল্যাকহোলের মৌলিক কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা

সূর্যের চাইতে অধিক ভরসম্পন্ন দানবীয় শ্রেণীর নক্ষত্রগুলি তাদের পুরো জীবদ্দশায় হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম ফিউজ করে এদের কেন্দ্রে প্রচুর পরিমানে নিকেল, লোহা জাতীয় ভারী মৌল জমা করে । একসময় এদের পরিমান যথেষ্ট বেড়ে গেলে মহাকর্ষের দরুন এরা নক্ষত্রের কেন্দ্রে সংকুচিত হতে শুরু করে । আবার নক্ষত্রটি তার জ্বালানী শেষ করে পরবর্তী দশায় প্রসারিত হতে শুরু করে । এমন অবস্থায় দুই বিপরীতমুখী ক্রিয়ার দরুন নক্ষত্রটি একসময় প্রচণ্ডহারে বিস্ফোরিত হয় । এই বিস্ফোরণ এতটা উজ্জ্বল হয় যে একটা পুরো গ্যালাক্সির সমস্ত নক্ষত্রের মিলিত উজ্জ্বলতাকেও ছাড়িয়ে যায় । নক্ষত্রের ঘন কেন্দ্রীণটি ভর ও ঘনত্ব অনুযায়ী নিউট্রন নক্ষত্র বা ব্ল্যাকহোলে পরিনত হয় । ব্লাকহোলের ঘনত্ব অসীম যে তা স্থান-কাল পাত্রে অসীম বক্রতার সৃষ্টি করে । যে কারনে ফোটনও তার বেগ নিয়ে মুক্তি পায় না ! ফলে একে আমরা দেখতে পাই না ! তবে আমাদের প্রায় সবার ভুল ধারনা হল ব্লাকহোলের আকৃতি নিয়ে । বাস্তবিক অর্থে মুল ব্লাকহোল হোল শূন্য মাত্রার এক বিন্দু ! এই বিন্দুতে ব্লাকহোলের সমস্ত ভর পুঞ্জীভূত থাকে ।আর আমরা ব্লাকহোলের আকৃতি বলতে যা বুঝি তা হল এর ঘটনা দিগন্ত বা ইভেন্ট হরাইজোন ! আবার ব্লাকহোলকে আমরা কালো বলতে অভ্যস্ত । আমরা জানি যে ব্লাকহোল দেখতে কেমন , আর তাই একে কালো বলাটাও শুদ্ধ না !

সিঙ্গুলারিটি হচ্ছে একটি বিশেষ ক্ষেত্র যা আমাদের পদার্থবিদ্যা বোঝার ক্ষমতাকে অগ্রাহ্য করে। এর অস্তিত্ব ‘ব্লাকহোল’ এর অন্তস্থলে কল্পনা করা হয়।আমরা জানি ব্লাকহোল হচ্ছে তীব্র মহাকর্ষীয় চাপের অঞ্চল। এই চাপ এত তীব্র যে এর একটি সামান্য পদার্থকে অসীম ঘনত্বের আঁধার ধরা হয়। ক্লাসিক্যাল থিওরি অনুযায়ী এর ঘনত্ব হয় অসীম। কেননা সসীম ভর একেবারে বলতে গেলে শূন্য আয়তনে সঙ্কুচিত হয়। এই অসীম ঘনত্বের অঞ্চলকেই বলা হয় সিঙ্গুলারিটি। এটা স্থান ও সময়কে নির্দেশ করে এবং এখানে স্থান-কাল জালের বক্রতাও হয় অসীম। এখানে সাধারণ পদার্থবিদ্যার কোন নিয়ম খাটে না।এর বাংলা প্রতিশব্দ হল অদ্বৈত বিন্দু।আমরা ব্ল্যাকহোলকে দানবীয় একটি গোলক ভাবি।অনেকেই আবার ভাবি যে এটি ফানেল আকৃতির।যা এর নিকটে যায় আর মুক্তি পায় না।এর ভিতরে বুঝি চিরতরে হারিয়ে যায়।কিন্তু বাস্তবে ব্ল্যাকহোলের ভর অসীম ঘনত্বের একটি বিন্দুতে পুঞ্জীভূত। আমরা গনিতের যে বিন্দু জানি ঠিক তেমনি এই স্যিঙ্গুলারিটিরও প্রায় শূন্য আয়তন বলে বিবেচনা করা হয়। আবার কিছু তত্ত্বানুযায়ি,অদ্বৈত বিন্দুর অপরপাশে শ্বেতবিবর বা হোয়াইটহল থাকে।ব্ল্যাকহোলের বিপরীত হল হোয়াইটহল।হোয়াইটহোলে কোন কিছু ঢুকতে পারে না।

M ভরের কোনো বস্তু তখনই ব্লাকহোল হিসেবে কাজ করবে যখন এর ব্যাসার্ধ , একটি নির্দিষ্ট সংকট ব্যাসার্ধের সমান বা কম হবে । এই সংকট ব্যাসার্ধ বের করার জন্যে ১৯২৬ সালে কার্ল শোয়ার্জশিল্ড মুক্তিবেগ বের করার সমীকরনে আলোর জন্য মুক্তিবেগ হিসাব এর সাহায্য নেন ।

R=(2GM)/c^2 ;
এখানে , G=মহাকর্ষীয় ধ্রুবক ,
M=বস্তুটির ভর ,
c= আলোর দ্রুতি ,
R=সংকট ব্যাসার্ধ ।

সংকট ব্যাসার্ধ R কে শোয়ার্জশিল্ড ব্যাসার্ধ বলা হয় ।

তাত্ত্বিকভাবে , যেকোন পরিমানের বস্তু যদি এর সংকট ব্যাসার্ধের মধ্যে সংকুচিত হয়ে অবস্থান করতে পারে , তবে তা ব্লাক হোলে পরিনত হবে । সূর্যের ভরের হিসাব অনুযায়ী , এর সংকট ব্যাসার্ধ প্রায় তিন কিলোমিটার এবং পৃথিবীর জন্যে প্রায় নয় মিলিমিটার ! কোনো ব্লাকহোলের এই সংকট ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন বস্তু থাকলে তা ব্লাকহোলের মহাকর্ষ আকর্ষন দ্বারা আটকা পড়বে এবং ব্লাকহোল থেকে মুক্ত হতে পারবে না । ব্লাকহোলকে ঘিরে সংকট ব্যাসার্ধের গোলকের (ত্রিমাত্রিক) পৃষ্ঠকে বলা হয় 'ঘটনা দিগন্ত'' (event horizone) ।একে অনেক সময় একটি সীমানা হিসেবে ব্যখ্যা করা হয় যার অভ্যন্তরে কৃষ্ণবিবরের মুক্তিবেগ আলোর গতিবেগ অপেক্ষা শক্তিশালী। যদিও, আরও সঠিক ব্যখ্যা হবে এই যে, দিগন্তের অভ্যন্তরে সকল আলোকসম পথ(যে সকল পথ আলো গ্রহন করতে পারে) এবং কণার আলোক কোণক এর সম্মুখবর্তী সকল পথ এমন ভাবে থাকে যে কনা বিবরের দিকে ক্রমাগত অগ্রসর হতে থাকে।যখন একটি কনা দিগন্তের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে, সময়ের অগ্রসরমানতার মত কণার বিবরে পতন অবশ্যম্ভাবী এবং কণাও বিভিন্ন স্থানকাল স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা সাপেক্ষে তাই করে।
 
ব্ল্যাকহোলের মৌলিক কিছু বিষয়ের ব্যাখ্যা

ব্ল্যাকহোলের ঘটনা দিগন্তের সীমানায় গ্যাস ও ধুলিকনার একধরনের মেঘের উপস্থিতি থাকে যাকে আক্রিশন ডিস্ক(accretion disk) বলে । এই গ্যাসের মেঘ ব্ল্যাকহোলটিকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করতে থাকে । আর প্রথমবারের মত এই আক্রিশন ডিস্কের মাধ্যমে ব্ল্যাকহোলের চিত্র ধারন করা হবে। আমরা জানি ব্ল্যাকহোল থেকে কিছুই মুক্তি পায় না । কিন্তু স্টিফেন হকিং প্রমান করেছেন যে ব্ল্যাকহোল থেকেও একধরনের বিকিরন নিসসরিত হয় যাকে হকিং বিকিরন বলে। আবার যখন কোন ব্ল্যাকহোল কোন নক্ষত্রকে গিলে নেয় তখনও কিছু উচ্চশক্তির বিকিরিন নিঃসরণ করে।অনেকটা খাবার খাওয়ার পর ঢেঁকুর তোলার মত। এই বিকিরণের দরুন আক্রিশন ডিস্কের পদার্থ জ্বলে উঠে ।
আর তাই এই আক্রিশন ডিস্কই হল ব্ল্যাকহোল পর্যবেক্ষণের জন্য ট্রামকার্ড । আমাদের আকাশগঙ্গা(milkyway) ছায়াপথের কেন্দ্রে এমন একটি দৈত্যাকার কৃষ্ণবিবর( Blackhole)) উপস্থিত আছে। রেডিও টেলিস্কোপের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আকাশগঙ্গা ছায়াপথের কেন্দ্রের এই দৈত্যাকার কৃষ্ণবিবরের(যার নাম Sagittarius A*) স্থিরচিত্র ধারনের প্রথম দফার কাজ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয়েছিল । বর্তমানে এমআইটি ও জার্মানির মাক্স প্লাঙ্ক ইন্সটিটিউট অফ আস্ট্রোফিজিক্সে যার তথ্য বিশ্লেষণ চলছে । সম্মিলিত এই বাবস্থাকে ঘটনা দিগন্ত টেলিস্কোপ/event horizon telescope বলা হচ্ছে।এই টেলিস্কোপ ব্যাবস্থাটির হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ থেকে দক্ষিন মেরু,আমেরিকা থেকে ইউরোপ, চিলির আত্যাকামা মরুভুমি থেকে স্পেনের মাদ্রিদ পর্যন্ত নেটওয়ার্ক রয়েছে। আশা করা হচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই আমরা ব্লাকহোলের ঘটনা দিগন্তের সত্যিকার ছবি দেখতে যাচ্ছি ! সবাই ব্লাকহোলের চিত্র বললেও ,বাস্তবিক আমরা এর ঘটনা দিগন্ত দেখব ! আমার তো আর তড় সইছে না , কবে যে ডিসেম্বর আসবে ।

[কালো শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (নভেম্বর চতুর্থ বৃহস্পতিবার) মধ্যে থ্যাঙ্কসগিভিং ডে নিম্নলিখিত দিন জন্য একটি অনানুষ্ঠানিক নাম, যা 1952 সাল থেকে দেশের ক্রিসমাসের কেনাকাটা ঋতুর প্রারম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। বেশিরভাগ প্রধান খুচরো খুব তাড়াতাড়ি (এবং আরো সম্প্রতি খুলুন রাতারাতি ঘন্টা সময়) এবং প্রচারমূলক বিক্রয় প্রস্তাব ব্ল্যাক ফ্রাইডে একটি সরকারী ছুটির দিন নয়, কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার এবং অন্য কিছু রাজ্যের রাজ্য সরকার কর্মচারীদের জন্য ছুটির দিন হিসাবে "দিবসের পরে ধন্যবাদ" পালন করে, কখনও কখনও কলম্বাস দিবসের মত অন্য কোনও ফেডারেল ছুটির পরিবর্তে। বেশিরভাগ অ-খুচরো কর্মচারী ও স্কুলগুলি থ্যাঙ্কসজিভিং এবং পরের শুক্রবার বন্ধ রয়েছে, যা পরবর্তী নিয়মিত উইকএন্ডের সাথে, এটি চার দিনের সপ্তাহান্তে তৈরি করে, যার ফলে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়।]

যাই হোক হ্যাপি ব্লাকহোল ফ্রাইডে !!

তথ্যঃ 

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: