Header Ads

মারণ ড্রোন -এক দূর নিয়ন্ত্রক প্রতিরক্ষার কিঞ্চিৎ বিবরণ

ড্রোন মানে ইংরেজি DRONE এর অনুবাদ খুঁজে যা পেলাম তা হলো এক ক্রমাগত গুনগুন করে যাওয়া আওয়াজ তা সে যান্ত্রিক বা প্রাকৃতিক বিবিধ হতে পারে। যাই হোক আপাতত ব্যাকরণের কচকচি রাখি,আসুন এর নির্দিষ্ট একটি বিভাগ মানে মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করবো। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, বহন যোগ্য আকাশবাহী যান হিসেবে বা নজরদারির উড়ুক্কু যান হিসেবে এর ব্যবহার বিবিধ এবং বর্তমানে প্রত্যেকটি সভ্যদেশেই এর প্রচলন আছে।

মারণ ড্রোন -এক দূর নিয়ন্ত্রক প্রতিরক্ষার কিঞ্চিৎ বিবরণ

প্রাণঘাতী বা ধ্বংসকারী ড্রোন এর বিষয়টা আগেই অল্প আধটু জানা ছিল কিন্তু দিন দুয়েক আগে পাকিস্তানের পোষা তালিবানের পালের গোদা উমর খালিদ আর তার জনা দশেক সঙ্গী প্রাণীর উপরে যাওয়ার জন্য এই ড্রোনের কর্মকান্ড দেখে এর উপর আরো জানতে আগ্রহী হয়েছি। জ্বর এবং কাজের চাপে বড় উত্যক্ত হতে পারে এই সময় মানুষ একটু হিংস্র হয়ে ওঠে তাই শান্তির কোনো পূজারী এই নির্দিষ্ট ড্রোন এর লেখা পড়ে যদি মর্মাহত হন তা হলে বুঝবেন ওটা আমার বর্তমান পরিস্থিতির জন্য। যাইহোক আবার লাইনে আসি মানে ড্রোনের উপর আলোচনায় ফিরে যাই।

মারণাস্ত্রবাহী এই ড্রোন এর দুটো মূল মডেল আছে এক হলো RQ-1 এবং অপরটি হলো MQ-1 যা নিয়ন্ত্রিত হয় লক্ষ যোজন দূর থেকে মানে ধরুন এই দিকের শান্তির প্রাণীর ইহজাগতিক কাজ শেষ করছে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে। কত সুবিধের এই আক্রমনে,কোনো লোক-ক্ষয় নেই যদিবা প্রতিপক্ষ ড্রোন কে ধ্বংস করে তা হলে ওটার উপর দিয়েই গেল আবার দখল করেও লাভ নেই কারন পাল্টা কিছু করা যায় না -কলকাঠি যেহেতু সব দূর নিয়ন্ত্রণে থাকে। আসুন একটু এর উপর বিস্তারিত জানি।
প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো ওই প্রিডেটর MQ-1 সর্বপ্রথম সামরিক কাজে ব্যবহার হয় ১৯৯৪ সালে।
ড্রোনের ব্যবচ্ছেদ :

এই বস্তুটি একটি মধ্যমগতির এরোপ্লেনের মতোই কাজ করে। এই বিষয়ে পড়ার আগে একটু ছবি নম্বর এক দেখতে অনুরোধ করবো।

মারণ ড্রোন -এক দূর নিয়ন্ত্রক প্রতিরক্ষার কিঞ্চিৎ বিবরণ

১. এর চালক হলো রোটাক্স ৯১৪ ইঞ্জিন : মূলতঃ বরফের দেশের স্নো মোবাইল বলে এক ধরণের গাড়ি আছে ওটার ইঞ্জিন এর ধাঁচের একই ইঞ্জিন ব্যবহার হয় এই মানুষ বিহীন বিমানে। স্নো মোবাইলের একটি ছবি ও দিয়ে দিলাম, ছবি নম্বর ২। মূলতঃ ফোর স্ট্রোক ১০১ অশ্ব শক্তির ইঞ্জিন এর শক্তির উৎস। দুটো প্রপেলার কে ঘুরায় ওই মূল শ্যাফট। বিমানের পিছনের ওই প্রপেলার গতি আর উচ্চতার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। দুর্নিয়ন্ত্রক কক্ষের চালক তার জায়গায় বসে গতি বা উচ্চতার কম বেশি করে প্রয়োজন অনুযায়ী। এই ইঞ্জিনের সাহায্যে দূর নিয়ন্ত্রক কক্ষে বসে এর চালক স্পিড তুলতে পারেন সর্বোচ্চ ২১৭ কিমি ঘন্টায়। 

২. এ ছাড়া এই ড্রোন গুলোর লম্বা ডানা (৪৮.৭ ফুট ) বাড়তি সুবিধে দেয় উঁচুতে উড়ে চলার জন্য। এই ড্রোনগুলো ২৫ হাজার ফিট উচ্চতায় উঠতে পারে মানে ধরে নিন এভারেস্ট এর কাছাকাছি উচ্চতায় যেতে পারে। 

৩. এই বিমান গুলোর লেজ খেয়াল করুন,উল্টো ভি আকৃতির ওটা বিমানটিকে আকাশে অনেক ভালোভাবে উড়তে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর বিশেষ নকশার তৈরী হওয়া বা ধরুন প্রপেলার এর পিছনে থাকা রাডার এর ডানে বামে চলার জন্য সাহায্য করে। 

৪. ড্রোনের তৈরীর মালমশলা : উপরের অংশ তৈরী হয়েছে কার্বন আর কোয়ার্জ এর মিশ্রনে সঙ্গে রয়েছে কেভলার বলে একটি শংকর পদার্থ। এই কেভলার এক ধরণের সিনথেটিক ফাইবার যা বাইরের আঘাত বা পতন জনিত আঘাতের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সহনশীল। এই উপরের অংশেরই নিচেই আছে নোমেক্স বলে একটি বস্তুর প্রলেপ সঙ্গে আছে কাঠ আর ফোম এর একত্রিত একটি ফ্রেম। নোমেক্স কোনো বিকিরণ বা তাপ অথবা বৈদ্যুতিক রোধক তাই এই ধরনের কোনো বিপদ থেকে এই ড্রোন কে রক্ষা করে। ড্রোনের খাঁচা কার্বন বা গ্লাস ফাইবার এর হয় সঙ্গে থাকে এলুমিনিয়াম এর উপস্থিতি। যদিও সেন্সর আর চাকা হয় কেবল এলুমিনিয়াম দিয়ে। 

৪. এই ড্রোন এর ডানার ধার গুলো তৈরী হয় টাইটেনিয়াম দিয়ে। ডানার শেষপ্রান্তে থাকে আণুবীক্ষণিক বেশ অনেক ছিদ্র যা দিয়ে প্রয়োজন অনুসারে ইথিলিন গ্লাইকল বলে একটি রাসায়নিক যৌগ নিঃসরণ করানো হয় উচ্চ স্তরে যাতে ঠান্ডায় বরফ জমে এর ক্ষতি না করে ফেলে তার জন্য। 

৫. ড্রোন কে প্রাথমিক শক্তি যোগায় একটি ৩ কিলোওয়াট এর ব্যাটারি যার সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ে সহায়ক হিসেবে বাড়তি ব্যাটারি শক্তি ও থাকে। এর জ্বালানির আধার রাবারের হয় (এখন আবার হাইড্রোজেন জ্বালানির ব্যবহার হচ্ছে ) আর এর ইঞ্জিন কে চালানোর জন্য একই পদ্ধতির সুইচ অন করা হয় মানে ইলেকট্রিক স্টার্ট হয়। প্রসঙ্গত দূর নিয়ন্ত্রণের কক্ষে এর আরো একটি সুইচ থাকে যা দিয়ে ইঞ্জিন বন্ধ করে ড্রোনকে অচল করে দেওয়া যায় অর্থাৎ ধ্বংস করে ফেলা যায়। 

৬. জ্বালানির বিশদ : এর মূলত দুটো জ্বালানির আধার থাকে যা সর্বমোট ৬০০ পাউন্ডের বিমানে ব্যবহার যোগ্য জ্বালানি ( উচ্চমানের কেরোসিন ) বহন করে। আরো থাকে ৭.৬ লিটার ইঞ্জিন অয়েল এর ইঞ্জিনকে পিচ্ছিল রাখতে।এছাড়া উচ্চ অক্ষে যাতে ঠান্ডায় জ্বালানি জমে না যায় তার জন্য সহায়ক রাসায়নিক যৌগ মেলানো হয়। এছাড়া চরম পর্যায়ে ইঞ্জিন সচল রাখতে অর্থাৎ কোনো কারণে জ্বালানির সমস্যা অথবা অন্য কারণে ইন্ধন এর সমস্যা হলে ড্রোন কে তাৎক্ষণিক সচলতা দিতে রাখা আছে দুটো আট পাউন্ড ১৪ এম্পিয়ার এর বিশেষ ব্যাটারি।
RQ-1 এর কিছু বৃত্তান্ত :

এই R এর মানে হলো reconnaissance অর্থাৎ অনুসন্ধানী আর Q হলো চালকবিহীন এই বিমানের প্রকৃতির কথা বোঝাতে ব্যবহ্রত। এই UAV মানে চালক বিহীন বিমান নিজস্ব ওজন ছাড়াও ২০৪ কেজির বিবিধ বৈদ্যুতিন বা সে ধরনের সামগ্রী বহনে সক্ষম। এর কাঠামো আর নকশা এমনকি তৈরির মালমশলা এতো পরিকল্পিত এবং বিশেষভাবে তৈরী বলে অতীব হালকা ফলে এর মাইলেজ অনেক বেশি। এটির জ্বালানির আধার ৩৭৮.৫ লিটার এর। তাত্বিক ভাবে (পরীক্ষামূলক ভাবে ও ) এই ধরনের একটি UAV একটা গোটা ২৪ ঘন্টা শত্রুপক্ষের উপর নজর রাখতে পারে আকাশে থেকে !

বিমানটির বিবিধ সহকারী যন্ত্রাংশ :

১. এই UAVর নাকের ডগায় আছে একটি অত্যাধুনিক রঙিন ক্যামেরা যা সামনে চলার সময় দূর নিয়ন্ত্রক কক্ষে বসা চালক কে সাহায্য করে। ভালো কথা,আজকাল এর ক্যামেরার পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ছবি তোলার ক্ষমতা এসে গিয়েছে।
২. এই ক্যামেরা আধুনিক টিভি ক্যামেরাগুলোর মতোই। এতে বিভিন্ন এপারচার সেট করা যায়। এর সঙ্গে আছে রাতে আর অতীব স্বল্প আলোতে ছবি তোলার সুবিধা।
৩. এ ছাড়া আছে SAR মানে সিনথেটিক এপারচার রেডার যা মেঘযুক্ত আবহাওয়া ,ধোঁয়াশা বা অন্য কারণে সৃষ্ট দৃশ্যমানতার অসুবিধা হলে নিয়ন্ত্রক এর দেখার এবং ছবি তোলার সুবিধা করে দেয়।
৪. প্রত্যেকটি ক্যামেরা স্থির আর সচল ছবি একই সাথে তোলার ক্ষমতা সম্পন্ন।
এই UAV গুলোর সুবিধা হলো এরা সরাসরি নিজের দেশের প্রতিরক্ষার মূল ঘাঁটিতে ও ছবি বা ভিডিও পাঠাতে পারে সরাসরি যাতে শত্রুপক্ষ তাদের সেনা চলাচল শুরু করার আগেই এর উপর বিস্তারিত এবং কি ধরণের অস্ত্র ইত্যাদি নিয়ে এগোচ্ছে ওটা ও জেনে নিতে পারে এবং সে হিসেবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে ও পারে।

অতঃপর আঘাতকারী MQ-1 এর বৃত্তান্ত :

সৈন্য ছাড়া বিপক্ষের ধ্বংস সাধন এর হালফিলের অস্ত্র হলো উপরের বস্তুটি। এর সাথে আগের RQ-1 এর তফাৎ হলো ওই অত্যাধুনিক ক্যামেরার বদলে এর থাকে Multispectral Targeting System (MTS) মানে লক্ষ্য বস্তুকে নজরবন্দি করার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। এর সাথে থাকে দুটো Hellfire missile মানে দুটো সাংঘাতিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই M এর অর্থ হলো multipurpose aircraft , আরো সোজাসুজি বললে উদ্দিষ্ট বস্তু কে নজরবন্দি করা আর তার ধ্বংস করার কাজ একটাই UAV মানে এই ড্রোন এর মাধ্যমে হয়ে থাকে।

এই ক্ষেপণাস্ত্র কে বলা হয় AGM-114 মিসাইল। এর সাথে আছে বৈদ্যুতিন ইনফ্রারেড ব্যবস্থা , লেজার রশ্মি ক্ষেপন ব্যবস্থা ইত্যাদি। এই বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম এর সাহায্যে লক্ষ্যবস্তুর উপর ইনফ্রা বা লেজার রশ্মি ফেলে MTS থেকে। এই রশ্মির ফেলা থেকে পাওয়া তথ্য ড্রোনের ভিতরের এবং দূর নিয়ন্ত্রক কম্পিউটারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ হয় তৎক্ষণাৎ এবং এর সাথে নির্নয় করা হয় দূরত্ব এবং পারিপার্শিক বস্তু ইত্যাদি। এরপর হয় মিসাইল আক্রমন। মনে রাখবেন ওটা ওই সিনেমার দেখা এলাম দেখলাম আর মেরে দিলাম ধাঁচের বিষয় না। অতীব জটিল হিসেব চলে একটা মিসাইল ক্ষেপন এর আগে। আরো থাকে হওয়া কত মাইল বেগে চলছে বা লক্ষ্যবস্তুর আসে পাশের বসতি ইত্যাদি কি আছে এই সমস্ত বিচার।

এ পর্যন্ত এই আঘাতকারী ড্রোন এর ব্যবহার হয়েছে ইউরোপের বসনিয়া , কসোভো , পশ্চিম এশিয়ার সিরিয়া ইরাক এবং ইয়েমেনে। আমাদের উপমহাদেশের পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে।

ড্রোন বা এই UAV এর নেপথ্যের কর্মতৎপরতা :

মার্কিন বায়ুসেনা বিভাগ এই পুরো বিষয়টাকে একটি সিস্টেম বলে। কারণ এর কোনো একটা অংশ একক ভাবে কাজ করে না। আসুন দেখি কি ভাবে এই কাজ চলে।
মূলত আক্রমণকারী বা নজরদারি ওই ড্রোন ছাড়া ও থাকে একটি ভূমিস্থ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ যাতে একদল যান নিয়ন্ত্রক এবং এই কাজের সহায়ক থাকেন। আর সঙ্গে থাকে উপগ্রহ নির্ভর একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা যা ওই আকাশের ড্রোন আর ভু নিয়ন্ত্রক কক্ষের সাথে সমন্বয় রাখার কাজ করে। মূলত ওই গোটা ড্রোন এর নিয়ন্ত্রণে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো মূল যোগাযোগ কাঠামো।

ড্রোন এর সাথে দু ভাবে যোগাযোগ রাখা হয় ,এক হলো C-Band line-of-sight data link,সোজা কথায় একটি বিশেষ রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি যা ওই ড্রোন এর ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট। এই স্পেকট্রাম মানে তরঙ্গ স্তর অনেক সময় পাওয়া না গেলে তখন ব্যবহার করা হয় উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা। মনে রাখবেন ,এই ধরনের বিমান চালানো বেশ কঠিন কাজ কারন চালক যা দেখছে সবটাই ওই ক্যামেরা যা দেখাচ্ছে তার উপর নির্ভর করে করা ফলে বাস্তব পরিস্থিতি ঠিক কি ওটা বোঝার অনেক ফারাক থেকে যায়। তবে সুবিধে হলো ভুল হলেও প্রাণহানির সম্ভাবনা নেই ( নিজের )

ড্রোনের স্থানান্তরের সুবিধা :

এই UAV টি এর কার্যকর অংশ ধরে আলাদা করে ফেলা যায় ফলে পুরো জিনিসটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া অনেক সহজ। যেমন ধরুন এর মূল কাঠামো কে একজায়গায় আবার এর উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার ২০ ফুটের এন্টেনা ইত্যাদি কে আলাদা করে ফেলা যায় ,এমনকি এর ডানা,লেজের অংশ,অবতরণের যন্ত্রাংশ বা চাকা ইত্যাদি আলাদা করে ফেলা যায়। অতঃপর বিশেষ মালবাহী বিমানে ( হারকিউলিস বা স্টারলিফটার -মার্কিন বায়ুসেনার পণ্যবাহী বিমান ) দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া কোন কঠিন বিষয় না। আর হ্যা , এটি আবার সংযুক্ত করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চারজন মানুষ ৮ ঘন্টার মধ্যেই এই কাজ করে ফেলে।

প্রসঙ্গত বলা যায়,নজরদারির বেশ অনেকগুলো ড্রোন যা মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর ব্যবহার করে তার নাম দিলাম এবং ছবি ও দিয়ে দিলাম।

১. RQ-2 Pioneer লিংক : http://www.designation-systems.net/dusrm/app2/q-2.html
২.RQ-3 Dark Star লিংক : http://www.designation-systems.net/dusrm/app2/q-3.html
৩. RQ-4 Global Hawk লিংক : http://www.designation-systems.net/dusrm/app2/q-4.html
৪. RQ-5 Hunter লিংক : http://www.designation-systems.net/dusrm/m-155.html
৫. RQ-6 Outrider লিংক : http://www.designation-systems.net/dusrm/app2/q-6.html
৬. RQ-7 Shadow

এর প্রত্যেকটির উপর আরো জ্ঞান সঞ্চয় করতে তথ্যসূত্রে দেওয়া লিংক গুলো দেখতে পারেন।
একটা মজার জিনিস লক্ষ্য করতে বলবো,ওই ৩ নম্বর এর পরের গুলোর লেজ দেখছি উপরের দিকে। কারন অজ্ঞাত,কারোর জানা থাকলে বলবেন,আমি সংযোজন করবো।

পরবর্তী প্রজন্মের ড্রোনের হাল হকিকত :

মারণ ড্রোন -এক দূর নিয়ন্ত্রক প্রতিরক্ষার কিঞ্চিৎ বিবরণ


যা দেখা যাচ্ছে,বিজ্ঞানের দৌলতে এর ডানার আকৃতির বিস্তৃতি হচ্ছে এবং আরো উচ্চ অক্ষে অবস্থান করার ক্ষমতা পেয়েছে এই ধরনের বিমান গুলো। ৫০হাজার ফিট উপরে উড়তে সক্ষম এই নতুন বিমানের নাম MQ-9 Altair,এই ধরণের ড্রোনগুলো মূলত নজরদারি এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষন এর কাজেই ব্যবহার হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।

ড্রোন এর একটি রূপ আসছে যাকে ইংরেজিতে বলা হচ্ছে SWARM বা ঝাঁক বাধা উড়ুক্কু পতঙ্গ। কয়েকগ্রাম ওজনের এই মারাত্বক বস্তুগুলো একটা গোটা জাহাজ বা একটা শহর দখল করতে পারে সহজেই। ভাবুন,কতগুলো কে আপনি মেরে শেষ করবেন ? আরো মজার হলো এইগুলো পারস্পরিক সম্পর্ক রেখে একই অভিষ্ঠের দিকে এগোবে আর নিয়ন্ত্রণ করবে একটি নিয়ন্ত্রক।

ইতিমধ্যেই এর উপর কাজ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন। ইতিমধ্যেই ইন্টেল থেকে চীনা কোম্পানি এর প্রয়োগ দেখিয়েছে নিজেদের ক্ষেত্রে,দেখাবে ও আরো অনেক কিছু। এরপরের যুদ্ধের বা নজরদারির ক্ষেত্রে ড্রোনের ক্ষুদ্র সংস্করণ প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে মনে হয়। ভয় অন্য জায়গায়। মহান চীন ইতিমধ্যেই এর বিক্রিবাট্টার কাজ শুরু করে দিয়েছে। বড় মারণাস্ত্রবাহী ড্রোন বিক্রি করেছে ১২টি দেশে ,পরবর্তীতে এই ছোট ড্রোন যদি সন্ত্রাসবাদীদের হাতে যায় তা হলে সমূহ বিপদের আশঙ্কা থাকবে।

প্রসঙ্গত আমাদের দেশ প্রাথমিক পর্যায়ে নজরদারির ড্রোন কিনছে ২২টি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর হচ্ছে এই ধরণের যন্ত্র বানানোর জন্য। এ ছাড়া ইউরোপের ব্রিটেন থেকে রাশিয়া অনেকেই এই বাজারে লাফিয়ে পড়েছে।

এই বিষয়ে আরো অবাক করার খবর হলো এমআইটি এবং আমেরিকার Defense Advanced Research Projects Agency বা DARPA তৈরী করতে চলেছে এমন কিছু ছোট ড্রোন যা নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাদের ভাষায়,এই বর্তমান প্রযুক্তির অস্ত্র এখন ইজরায়েল থেকে রাশিয়া বা চীন এর কাছে আছে সুতরাং তারা এগিয়ে থাকার জন্য তৈরী করছে এমন ড্রোন যা নিজে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করবে। এই প্রজেক্টের বাজেট ১৮ বিলিয়ন ডলার।

কি বুঝলেন ? সেই গুপী গাইন বাঘা বাইন এর শুন্ডীর রাজার মতো বলতে ইচ্ছা করছে "আমার তো কোনো আশা হইতেছে না ! " -তবু আশায় বাঁচে চাষা,মানুষ এর ব্যবহার নিশ্চই সীমিত করবে। লেখার সময় ভেবেছিলাম হয়তো দু একটা পাতা পড়লেই হয়ে যাবে। এখন দেখছি এর সাধারণ মাপের কোনো খবর নিয়ে লিখতে গেলেই পাতার পর পাতা চলে যাবে।

এর মানব কল্যাণের দিক মানে বিপন্ন মানুষের উদ্ধার বা খরা প্রবন অঞ্চলে অথবা দুর্গম আমাজন অঞ্চলে বীজ রোপন এর কাজ ইত্যাদি নিয়ে অন্য কোনোদিন বিস্তারিত লিখবো আশা রাখি। আপাততঃ মানুষের সুবুদ্ধির আশা নিয়ে লেখা শেষ করছি।
নির্দিষ্ট কারণে এর ব্যবহারে সন্ত্রাসবাদী বা সাধারণ মানুষ এর হতাহতের কোনো ফিরিস্তি দিলাম না। কি লাভ ? বরং ভালো কিছু পড়ার জন্য অন্য কোনো তালিকা বানাই। অন্য কোনো কিছুর ,অন্য কোথাও কিছুর সন্ধান করি। ড্রোন এবং এর ব্যবহার এর কিঞ্চিৎ খোঁচাখুঁচি আমার স্বদর্থক ভাবনা কে পিছিয়ে দিচ্ছে বুঝতে পারছি তাই আর আগে বাড়ালাম না !

লেখার এবং আরো জানার তথ্যসূত্র দিলাম নিচে। ছবির প্রথম পাঁচটি শ্রেণী বিন্যাস অনুযায়ী দেখুন আর বাকিগুলো পরপর না দেখলেও চলবে। তথ্যসূত্রে একদম শেষে দুটো ইউ টিউব প্রতিবেদন আছে একটা জাপানে হওয়া মাউন্ট ফুজির প্রেক্ষাপটে আলোর এক ঝরনাধারার দৃশ্য এবং পরেরটা ইন্টেল এর একই ধরনের কাজ এর । ভয় পাই,লাঠি যেন বাদরের হাতে না পরে !

সবাইকে ধন্যবাদ !

তথ্যসূত্র :

১. https://www.defense.gov
২.http://www.spacedaily.com/news/uav-02zm.html
৩. http://www.bbc.com/…/20170425-were-entering-the-next-era-of…
৪. https://www.cnbc.com/…/new-chinese-military-drone-for-overs…
৫. https://www.nytimes.com/…/pentagon-artificial-intelligence-…
৬. https://www.dawn.com/news/1365061
৭. https://www.dawn.com/news/1364849
৮. http://www.bbc.com/news/uk-41593659
৯. https://www.youtube.com/watch?v=5WWwvIgGbkg
১০. https://www.youtube.com/watch?v=5FDClBy2dwQ

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ Ajijul Shahji

যদি লিখাটি ভালো লেগে থাকে তাহলে দয়া করে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সহ নিজের পরিচিতজনদের সাথে শেয়ার করুন। এমন আর্টিকেল নিয়মিত পড়তে ভিজিট করুন EduQuarks ব্লগ। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: