Header Ads

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

"বিশ্বব্রহ্মাণ্ড হচ্ছে, যা কিছু বর্তমান, যা অতীতে ছিলো, বা ভবিষ্যতে আসবে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিয়ে আমাদের ভাবনা, আমাদেরকে অভিভূত করে,যেন শিরশির করে ওঠে মেরুদণ্ড, রোধ হয়ে আসে কণ্ঠ। এক ক্ষীণ অনুভূতি, যেন বিশাল উচ্চতা থেকে লাফ দেয়ার সুদূর অতীতের স্মৃতি। উপলব্ধি আসে, যেন আমরা সর্বোচ্চ রহস্যের ভেতরে ঢুকে পড়ছি। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের আয়তন বা বয়স মামুলি মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে। এই বিশাল আর অসীম শূন্যতার কোথাও লুকিয়ে আছে আমাদের বসতি, এই পৃথিবী। প্রথমবারের মত আমাদের হাতে এসেছে, এই পৃথিবীর ও নিজেদের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। সময়টা খুবই নাজুক। কিন্তু আমাদের প্রজাতি এখনো তরুণ, কৌতুহলী, এবং সাহসী! ব্যাপারটা আশাব্যঞ্জক! গত কয়েক হাজার বছরে, আমরা চোখ ধাঁধানো এবং অপ্রত্যাশিত কিছু আবিষ্কার করেছি – এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এবং এর মধ্যে আমাদের অবস্থানের ব্যাপারে। আমার বিশ্বাস, আমাদের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ধারিত হবে আমরা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে কতটুকু বুঝি, তার ওপর… যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আমরা ভেসে আছি, সকালের আকাশে ধূলোর একটা কণার মত করে।"

১৯৮০ সালে জনপ্রিয় বিজ্ঞান বিষয়ক টেলিভিশন সিরিজ "কসমস: অ্য পারসোনাল ভয়েজ" এর সুচনা পর্বে এমন কথা গুলো দ্বারা বিশ্বের কোটি মানুষকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে মোহিত করেন এর উপস্থাপক,সহ-পরিচালক,অভিনেতা কার্ল সেগান!

তাকে বলা হয় "মহাকাশের স্বপ্নদর্শী বরপুত্র" । বর্তমান প্রজন্মের জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক উপস্থাপকদের মধ্যে সেরা হলেন নেইল ডে-গ্রেস টাইসন , ব্রায়ান গ্রিনি, ব্রায়ান কক্স , মিশিও কাকু , বিল নাইয়ি । এই বাঘা বাঘা জ্যোতির্বিদদের যিনি পথ দেখিয়েছেন, তাদের স্বপ্ন পুরনে আশা ও সাহস যুগিয়েছেন , ভ্রান্ত ধারনা কুসংস্কার ও ধর্মের গোঁড়ামির বিপরীতে যিনি মানুষকে আকাশে তার সত্ত্বা খোঁজার প্রেরণা যুগিয়েছেন তিনি হলেন কার্ল সেগান!!

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

ডিসেম্বর ১০, ১৯৭৫(শনিবার) 

নেইল ডে-গ্রেস টাইসন তখন ১৭ বছরের এক উদ্যমী ও স্বপ্নবাজ কিশোর । কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তিনি রচনা লিখলেন। লিখেছিলেন তিনি বিজ্ঞানী(জ্যোতির্বিদ) হতে চান,মহাকাশ নিয়ে তার আগ্রহ ও ইচ্ছে নিয়ে লিখেন । মহাকাশের প্রতি এই কিশোরের গভীর অনুরাগ চোখে পরে তৎকালীন জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক কার্ল সেগানের। তিনি নেইলকে তখন শনিবারের ছুটির দিনে তার সাথে সময় কাটানোর জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছিলেন । নেইল তার সাথে দেখা করতে এলে কার্ল তার হাতে তার স্বাক্ষরিত "The Cosmic Connection" বইটি তুলে দেন। বইটিতে লেখা ছিল " নেইল টাইসনের জন্য আমার সবটুকু ভালবাসা, যে ভবিষ্যতের জ্যোতির্বিদ ।''সারাদিন সময় কাটানোর পর নেইলকে কার্ল স্যেগান নিজে গাড়ি চালিয়ে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। কার্ল তার অফিসের এবং বাসার ফোন নাম্বার দিয়ে নেইলকে বলেছিলেন যদি বাস না পায় তবে যেন অবশ্যই ফোন করে জানায় এবং তার বাসায় রাতে অবস্থান করে।অবশ্য, তার প্রয়োজন পরে নি। পরে অবশ্য নেইল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে নেইল বলেন, " সেইদিন ভীষণ তুষারপাত হচ্ছিল; আর সন্ধার সময় আমার মনে হচ্ছিল যে, আসলে আমি কি? আমি কে হতে চাই? কার্ল আমাকে এতটা উৎসাহিত করেছিলেন যে আমি আজ আজকের আমি হতে পেরেছি ।"

কার্ল সেগান একাধারে একজন জ্যোতির্বিদ,জ্যোতিঃর্পদার্থবিদ,বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক, বিজ্ঞান জনপ্রিয়কারী, সৃষ্টিতত্ববিদ,ভবিষ্যৎবাদি, মুক্তমনা, সমাজ সংস্কারক ...... না জানি আরও কত কি । কার্ল ১৯৩৪ সালের ৯ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এক ইহুদী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা স্যাম সেগান ছিলেন পোশাক কারখানার সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী। তার কাজ ছিল বিভিন্ন নকশা অনুযায়ী জামার কাপড় কেটেছেটে ঠিক করা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ না হলেও দারিদ্র্যসীমার সামান্য উপরে ছিল। কার্ল সেগান একবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, ১৯৩৯ সালের কোন এক রবিবারে তার বাবা তাকে পাটিগণিতে শূন্যের ভূমিকা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং বলেছিলেন বড় সংখ্যা বলে কিছু নেই। কারণ যেকোন সংখ্যার সাথে এক যোগ করলেই আরেকটি বড় সংখ্যা পাওয়া যায়। বাবার কথায় তিনি এই বিষয়ে বিশেষ উৎসাহিত হয়ে পড়েন। শিশুসুলভ জিদের বশে তখনই ১ থেকে ১০০০ পর্যন্ত সংখ্যা লিখে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তার হাতে লেখার জন্য কোন কার্ড না থাকায় বাবা তাকে লন্ড্রিতে জামা পাঠানোর সময় জমিয়ে রাখা একগাদা কার্ডবোর্ড এনে দেন। তবে কাজটি তার ধারণার চেয়ে ধীর গতিতে এগোচ্ছিল। তার উপর কিছু অংশ লিখার পর মা তাকে গোসলে যেতে বললেন। কাজ ফেলে তাই তখন তাকে উঠে পড়তে হয়। তার অনুপস্থিতিতে বাবা কাজটি চালিয়ে নিয়ে যান। তিনি গোসল শেষে এসে দেখেন ৯০০ পর্যন্ত লিখা শেষ। রাতের ঘুম কিছুটা নষ্ট করে তিনি সেদিনই ১০০০ পর্যন্ত লিখার কাজ সম্পন্ন করেন। সেই বাল্যকাল থেকেই সংখ্যা আর অঙ্কের প্রতি তার কোন ভয় ছিলনা।

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

তার জীবনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বাল্যকালে ১৯৩৯ সালে বাবা-মা'র সাথে নিউইয়র্কের একটি ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে গমন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় তিনি সেখানে বিস্মিত হয়েছিলেন। সেখানে ছিল একটি টাইম ক্যাপসুল যাতে ভবিষ্যতের মানুষদের এ সময়কার মানুষ সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য বর্তমানের বিভিন্ন জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে সবচেয়ে বিস্মিত করেছিল দুইটি জিনিস। এক স্থানে লিখা ছিল শব্দ দেখ এবং আরেক স্থানে আলোক শোন। এর তাৎপর্য বালক সেগান বুঝতে না পারলেও তার শিশুসুলভ বিস্ময় তাকে যুগিয়েছিল পরবর্তী যুগে বিজ্ঞান সাধনার অনুপ্রেরণা। একটি টিউনিং ফর্ককে আঘাত করে ওসিলোস্কোপের সামনে ধরলে পর্দায় সুন্দর সাইন তরঙ্গ দেখা যায়। আবার আলোক কোষের উপর আলো ফেলে মটোরোলা বেতার যন্ত্র শোনানো হয়েছিল। এভাবেই শিশুকাল থেকেই সেগান বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে বেড়ে উঠেন। এক্ষেত্রে তার বাবা-মা'র অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তার বাবা-মা বিজ্ঞান সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানতেন না, কিন্তু ছেলেকে সবসময়ই বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার ও বিশ্বজগতের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছেন[৪]। আর্থিক অবস্থা তেমন ভাল না হওয়া সত্ত্বেও তারা সেগানের জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার প্রশ্নে কোন দ্বিমত পোষণ করেননি। এ কারণে বাবা-মা'র প্রতি তিনি সবসময়ই কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছেন।

সেগান কিছুটা বড় হওয়ার পরপরই বাবা-মা তাকে প্রথম একটি লাইব্রেরি কার্ড ইস্যু করে দেন। গ্রন্থাগারটি ছিল ৮৫নং সড়কে যেখানে তিনি আগে কখনও যাননি। গ্রন্থাগারটিও ছিল তাই তার কাছে নতুন। সেখানে গিয়ে গ্রন্থাগারিকের কাছে তিনি তারকা-সংক্রান্ত একটি বই চান। গ্রন্থাগারিক মহিলা তাকে ক্লার্ক গ্যাব্‌ল এবং জ্যাঁ হারলো'র মত তারকাদের ছবি সংবলিত বই এনে দেন। বইয়ে কেবল নায়ক-নায়িকার ছবি দেখে অনুযোগ করলেন সেগান। মহিলাটি বুঝতে পেরে হাসলেন। এরপর তাকে এনে দেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর লেখা একটি বই। বইটি তার কাছে খুব ভাল লেগে যায়। আশ্চর্য সব জিনিস দেখতে পেয়ে বিস্মিত হন সেগান। জানতে পারেন আকাশের তারা-নক্ষত্র সম্বন্ধে অজানা সব তথ্য। এ সম্বন্ধে সেগান বলেছেন,“আমি কৌণিক মাপজোক সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। আলোর বিপরীত বর্গীয় সূত্র সম্বন্ধে আমি ছিলাম সম্পূর্ণ অজ্ঞ। ফলে তারার দূরত্বের হিসাব-নিকাশ করার কোন সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও বলতে পারতাম তারাগুলো সূর্য হলে তাদের অবস্থান অনেক দূরে হতে হবে- ৮৫নং সড়ক থেকে দূরে, ম্যানহাটন থেকে দূরে, সম্ভবত নিউ জার্সি থেকেও দূরে। মহাবিশ্ব ছিল অনেক বড়, আমি যা ধারণা করেছিলাম তার থেকেও।"

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

কার্ল সেগান ১৯৫১ সালে নিউ জার্সির রাহ্‌ওয়ে হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন। তিনি তার স্কুল জীবন সম্বন্ধে বলেছেন, জুনিয়র স্কুল ও হাই স্কুলে তিনি এমন কোন শিক্ষক পান নি যিনি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অন্তত তাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। সেখানে পড়াশোনার পদ্ধতিও ছিল গতানুগতিক। ক্লাস ছিল হুকুম তামিল করার জায়গা, প্রশ্ন করার কোন সুযোগ ছিলনা, ল্যাবরেটরিতেও মুখস্থ করে সব করতে হতো। পাঠ্যবইয়ে এমন কিছু ছিলনা যা বিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের চেতনা সৃষ্টি করতে পারে। শেষের দিকে কিছু সুন্দর সুন্দর কথা থাকলেও তা পড়ার আগে বছর শেষ হয়ে যেত। লাইব্রেরিতে কিছু ভাল বই থাকলেও শ্রেণীকক্ষে তার কোন স্থান ছিল না। হাই স্কুল পাঠ শেষে তিনি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখান থেকে সেখানে লাইব্রেরির বই পড়ে পড়েই তার মধ্যে একটি চেতনার সৃষ্টি হয়। তিনি মূলত পড়তেন বিভিন্ন বিজ্ঞান পত্রিকা এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী।স্কুল শিক্ষা শেষে সেগান শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হন। এখান থেকে ১৯৫৫ সালে স্নাতক ডিগ্রী এবং ১৯৫৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেছিলেন। এখানে তিনি এমন সব শিক্ষক পেয়েছিলেন যারা ছিল সমকালীন বিজ্ঞানের দিকপাল। এদের মধ্যে ছিলেন সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর, এনরিকো ফার্মি, এইচ জি মুলার এবং জি পি কুইপারের মত বাঘা বাঘা বিজ্ঞানী। তার বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের সব কিছু আবর্তিত হতো ফার্মিকে কেন্দ্র করে। আর চন্দ্রশেখরের কাছ থেকে তিনি পেয়েছিলেন গণিতের সৌন্দর্য্যের ধারণা।

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মাধ্যমে সেগান বিশুদ্ধ বিজ্ঞান শিক্ষার মৌলিক চেতনা লাভ করেন। এই কার্যক্রমের পরিচালক ছিলেন রবার্ট এম হাচিন্‌স। এই কার্যক্রমে বিজ্ঞানকে প্রকাশ করা হতো সমস্ত মানব জ্ঞানের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে। সেখানে বোঝানো হতো, একজন পদার্থবিজ্ঞানীরও প্লেটো, আরিস্টটল, বাখ শেক্সপিয়ার, গিবন জানা থাকা প্রয়োজন। কার্যক্রমের পরিচিতিমূলক বিজ্ঞান ক্লাসে প্রথমত টলেমির পৃথিবীকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যে, কোপারনিকাসের সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ নিয়েও নতুনভাবে চিন্তা করতে হতো। এর ফলে ছাত্রদের চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যেতো। হাচিন্‌স কারিকুলামের শিক্ষকদের মানদণ্ড তাদের গবেষণার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল না। এই শিক্ষকদের মান নির্ধারণ করে দেয়া হতো শিক্ষা দেয়ার পদ্ধতির ভিত্তিতে, কতটুকু তথ্য তারা পৌঁছে দিতে পারছেন, কতটুকু উৎসাহ যোগাতে পারছেন এবং নতুন কোন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারছেন কি-না তার উপর। এই শিক্ষার ফলে তিনি মহাবিশ্বের কর্মকাণ্ডকে ব্যাপক দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। তার পঞ্চাশের দশকের শিক্ষকদের প্রতি তিনি সবসময়ই কৃতজ্ঞতা বোধ করেছেন। তথাপি তার শিক্ষা জীবন সম্বন্ধে তাকে বলতে শোনা যায়:

“কিন্তু আমি যদি পিছনে ফিরে তাকাই তাহলে এটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আমি আমার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস স্কুল শিক্ষকদের কাছ থেকে নয়, এমন কি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের কাছেও নয়, বরং শিখেছি আমার পিতামাতার কাছ থেকে, যাঁরা বলতে গেলে বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।”

জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়া প্রসঙ্গে সেগান বলেছেন, ছোটবেলায় ব্রুকলিনের বেন্‌সন হার্স্ট এলাকায় থাকার সময় এর আশেপাশে অবস্থিত তার প্রিয় স্থানগুলি ছিল বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট দালান, পায়রার খোপ, বাড়ির পিছনের প্রাঙ্গণ, সামনের বারান্দা, দালানগুলোর মধ্যকার খোলা জায়গা, এল্‌ম গাছ, কয়লার চুল্লির চিমনি, কারুকার্যময় কার্নিশ এবং চাইনিজ হ্যান্ডবল খেলার জন্য নির্মিত দেয়াল। এর মধ্যে তার মতে Loew's Stillwell নামে পরিচিত থিয়েটারের বহির্পাশ্বস্থ দেয়ালের বিশেষ উৎকৃষ্টতা ছিল। ঐ স্থানগুলোতেই অনেকেই থাকতো যাদের নাম তিনি জানতেন। এর অল্প কিছু দূরেই একটি স্থান ছিল যাকে তিনি মঙ্গল গ্রহ মনে করতেন। স্থানটি ছিল ৮৬নং সড়কের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রেল লাইনের উত্তরে। অবশ্য সেখানে তিনি তখন যেতে পারতেননা বলেই এ ধারণা করতে পেরেছিলেন। অনেকের মত তিনিও রাতের আকাশে বিস্ময়ভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকতেন। আকাশের তারাগুলোর জন্য তার এক ধরণের দুঃখবোধ হত। জানতে চাইতেন আসলে এই আলোর উৎসগুলো কি? তখন থেকেই এর একটি সঠিক অর্থ অনুসন্ধানের জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তার জ্যোতির্বিজ্ঞানী হয়ে উঠার মূল প্রেরণা ছিল সেই জীবন।

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

সেগান একটা কথা বারবার বলতেন যে , " মহাবিশ্ব তার নিজ গতিতে চলে,আমাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য মহাবিশ্বের কোন দায় বা ঠ্যাকা নেই !" আমরা কেবল এর ক্ষুদ্রতর উপাদান। স্যেগান বুঝতে শিখিয়েছেন মহাবিশ্বের সকল উপাদান এক । তিনি বলেছেন , "আমরা নক্ষত্রের ভগ্নাবশেষে তৈরি, আমরা একেক জন একেকটি নক্ষত্র , আমাদের শরীরে নক্ষত্ররা বাস করে ! " কার্ল স্যেগান এই দুইটি লাইনের মাধ্যমে বুঝিয়েছেন প্রকৃতিতে আমাদের অবস্থান কি ? অসীম এই মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান বলতে গেলে মহাবিশ্বে কোন ধরনের প্রভাব ফেলে না ! তিনি শিখিয়েছেন জাত, বর্ণ , ধর্মের বাহিরে আমরা সবাই এক । আমরা নক্ষত্রের সন্তান ......আর কেউই সেগানের মত করে মহাশূন্যের অসাধারণ মহিমা ব্যাখ্যা করতে পারেনি। তিনি চলে গেছেন প্রায় ২১ বছর আগে। কিন্তু তার মহিমান্বিত কথাগুলি আমরা এখনো ভুলতে পারি নি!

১৯৬০-৬২ সাল পর্যন্ত সেগান বার্কলির ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলার ফেলো হিসেবে কাজ করেন । তার গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল শুক্রের বায়মন্ডল । একই সময়ে তিনি বুধের স্পেস প্রোব "মেরিনার-২" এর টিমে কাজ করেন । হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ ফ্রেড হুইপেল ও ডোনাল্ড মেঞ্জেল তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা ও আগ্রহ দেখে মোহিত হয়ে তাকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকের পদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রন জানালেন । কার্ল অবশ্য সরাসরি সহকারি অধ্যাপকের স্থায়ি পদ চাইলেন জাতে তিনি নির্বিঘ্নে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারেন । হুইপেল ও মেঞ্জেল হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষকে রাজি করিয়ে স্যেগানের শিক্ষকতার পথ প্রশস্ত করেন ! তিনি মুলত মহাকাশবিজ্ঞান, প্ল্যানেটারি সাইন্স আর critical thinking শেখাতেন । পাশাপাশি ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত Smithsonian Astrophysical Observatoryতে তিনি কাজ করতে থাকেন। তিনি শুধু একজন গনিতপাগল জ্যোতির্বিদই ছিলেন না, পাশাপাশি একজন বড় মাপের দার্শনিকও বটে ।

১৯৬১ সালে ড্রেক রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে বহির্জাগতিক সভ্যতা খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে একটি ১০ জনের আলোচনা সভার আয়োজন করেন যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত জ্যোতির্বিদ কার্ল সেগান । এই মিটিংয়ে ড্রেক বহির্জাগতিক যেসকল সভ্যতাসমূহের সাথে আমাদের যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোর সংখ্যা প্রণয়নের জন্য একটি সূত্রটির অবতারণা করেন। যা ড্রেকের সুত্র নামে পরিচিত যা ফার্মি প্যারাডক্সের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত । কিন্তু হার্ভার্ডে স্যেগানের অর্জনে ঈর্ষান্বিত অধ্যাপক ও বিভাগের শর্তাবলির যাঁতাকলে সেগান বেশিদিন টিকতে পারলেন না ! এরপর তিনি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়য়ে যোগ দেন যেখানে তিনি ১৯৯৬ সালে তার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর গবেষণা ও পাঠদান করেছেন।

সেগানই সর্বপ্রথম ধারনা করেছিলেন যে শনির উপগ্রহ টাইটান ও বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায় তরল পদার্থ থাকতে পারে । এরপর গ্যালিলি স্পেসক্রাফট ইউরোপা পর্যবেক্ষণ করতে গেলে স্যেগান বলেন ইউরোপায় মানুষের বাস একটি সময় সম্ভপব হবে । তবে ইউরোপার লাল বর্ণ দেখেই কোন পরীক্ষা ছারায় স্যেগান বলে উঠেন যে ইউরোপার লাল বর্ণের জন্য উপস্থিত হাইড্রোকার্বন দায়ি । আর পৃথিবীর বাহিরে মহাবিশ্বে যে প্রান থাকা সম্ভব তা তিনি আবারো প্রমান করলেন ! তিনি বুধ,শুক্র, মঙ্গল ও বৃহস্পতির আবহাওয়া নিয়ে কাজ করেন । তিনি সর্বপ্রথম বৃহস্পতির বর্ণ পরিবর্তন নিয়ে জৈব পদার্থের উপস্থিতিকে দায়ি করেন ।

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

ভয়েজার সহোদরেরা আমাদের পৃথিবী বাসীর পক্ষ হতে বার্তাবাহকের দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়েও ছুটে চলছে অসীমের পানে।উৎক্ষেপণের আগে এদের দু’জনের ভেতরেই ভরে দেয়া হয়েছিলো একটা করে গোল্ডেন ডিস্ক। সেই ডিস্কে মানব সভ্যতা হতে ভরে দেয়া হয়েছিলো কিছু বার্তা, নতুন কোনো সভ্যতার সাথে যোগাযোগের এক বুক ভরা আশায়। ভয়েজারেরা অনন্য শুধু অসীমের পানে ছুটে চলার জন্যে নয়। শুধু এক পরিব্রাজকের মতো এই কূলকিনারা হীন মহাবিশ্বের নতুন নতুন সব রহস্য দু’চোখ ভরে আস্বাদনের ক্ষমতা প্রাপ্তির জন্যেই নয়। এরা অনন্য এদের ভেতরে বয়ে নিয়ে চলা বার্তাগুলোর জন্যে। এদের ভেতরে থাকা গোল্ডেন ডিস্কে ভরে দেয়া হয়েছিলো মানব সভ্যতার পক্ষ হতে কিছু ভালোবাসার বার্তা - অনিন্দ্যসুন্দর পৃথিবীর পাহাড় ও সমুদ্রের ছবি, সদ্যোজাত মানব সন্তানের কান্নার শব্দ, সমুদ্র সৈকতে ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ, একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে ভালোবেসে চুমু খাবার শব্দ, মোজার্টের কিছু অসাধারণ মূর্ছনা জাগানিয়া সুর ইত্যাদি। সেই সাথে ছিলো ৫৫টা ভাষায় স্বাগত বার্তা, যার মধ্যে বাংলায়, “নমস্কার! বিশ্বে শান্তি হোক”-ও আছে। ডিস্কের এই পুরো বার্তা পাঠানোর প্রজেক্টের মূল দায়িত্বে ছিলেন আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান লেখক ‘কার্ল সেগান’। তিনিই কাঁধে নিয়েছিলেন মানব সভ্যতার ভালোবাসাময় দিকটাকে মহাবিশ্বের সামনে উপস্থাপন করার এই গুরুদায়িত্ব।
.
আমরা জানি না এই বার্তাগুলো আদৌ কারো হাতে গিয়ে পড়বে কিনা? কিন্তু এটুকু জানি, আমরা চেষ্টা করেছিলাম। ধর্মে-ধর্মে, বর্ণে-বর্ণে, জাতিতে-জাতিতে, শ্রেণীতে-শ্রেণীতে হিংসা-মারামারি-খুনোখুনির মাঝেও আমরা চেষ্টা করেছিলাম আমাদের ভালোটুকু দিতে। মহাকালের বুকের যে ক্ষুদ্র অংশটুকুতে আমাদের পদচিহ্ন, সেই অংশের সময়টুকুতে কিছু ভালোবাসার স্মৃতি রেখে যেতে। মানবসভ্যতা হয়তো কাল বাদে পরশুই ধ্বংস হয়ে যাবে হানাহানি করে। যে সব মতবাদ ও বিশ্বাসের কারণে এতো হানাহানি, আমরা ধ্বংস হবার সাথে সাথেই সেগুলো হয়ে যাবে অর্থহীন, অচল। কিন্তু আমরা ধ্বংস হবার পরেও ভয়েজারের কারণে থেকে যাবে শুধু মানুষের ভালোবাসার উপরে বিশ্বাসটুকু। তাদের ভেতরে পরস্পর অবিশ্বাস এবং ঘৃণার অংশটুকু নয়। কোনো সভ্যতা যদি সত্যিই খুঁজে পায় এই ডিস্ক, তবে “হয়তো” কিছুটা হলেও জানবে মানব সভ্যতার ইতিহাস। তখন এটা নিশ্চিত, কোনো ক্ষুদ্র ব্যক্তি স্বার্থ এবং অলৌকিক কোনো সত্ত্বা বা ধ্যানধারণাই আর সেই ইতিহাসে ঠাঁই পাবে না।২০৩০ সালে দুইটি যানেরই জ্বালানী শেষ হয়ে যাবে । এরপরে হয়ত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত এদের মিশন কন্ট্রোল রুমের সাথে আর যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবে না ।এরপরে শুরু হবে নিঃশব্দে শুধুই ছুটে চলা অসীমের পানে। কার্ল নিজে বার্তা বহনের এই দায়িত্বটি পোষণ ও বহন করেছিলেন ।

শুধু তাই নয় , ভয়েজার-১ যখন আমাদের সৌরজগত ছেড়ে আরো বাইরে চলে যাচ্ছিলো, তখন সেগান নাসাকে অনুরোধ করলেন, যাতে যাওয়ার আগে পৃথিবীর একটা ছবি তোলা হয় ঐ দূরত্ব থেকে। বিশাল সেই দূরত্ব থেকে ভয়েজার-১ এর তোলা পৃথিবীর ঐ ছবি দেখে Carl Sagan এটার নাম দিয়েছিলেন Pale Blue Dot । ছবিটি দেখে তিনি বলেছিলেন, "বিন্দুটির দিকে আরেকবার তাকান – এটাই পৃথিবী, আমাদের বসত, আমরা এটাই। এখানেই ওরা সবাই, যাদের আমরা ভালোবেসেছি, যতজনকে আমরা চিনি। যাদের যাদের কথা আমরা শুনেছি, তাদের সবাই এখানেই তাদের জীবন কাটিয়েছে। আমাদের সারা জীবনের যত দুঃখ কষ্ট, হাজার হাজার ধর্ম, আদর্শ আর অর্থনৈতিক মতবাদ, যত শিকারী আর লুণ্ঠনকারী, যত সাহসী-ভীরু, সভ্যতার নির্মাতা-ধ্বংসকারী,যত রাজা আর প্রজা, যত প্রেমিক-প্রেমিকা, যত বাবা মা, স্বপ্নে বিভোর শিশু, আবিষ্কারক, পরিব্রাজক, যত নীতিবান শিক্ষক, দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, যত সুপারস্টার, যত জাঁহাবাজ নেতা, মানব ইতিহাসের সকল সাধু আর পাপী, সবাই তাদের জীবন কাটিয়েছে আলোয় ভেসে থাকা ধূলোর ঐ ছোট্টো কণাটিতে।অসীম এই মহাবিশ্বে…… খুব ছোট একটা মঞ্চ…… আমাদের এই পৃথিবীটা।"

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

একাধিক পেশায় নিয়োজিত এক চঞ্চল জীবনের অধিকারী সেগান সবসময় বলতেন তিনি বেশিদিন বাঁচবেন না। লিখেছেন ডজনখানেক বই . যাদের মধ্যে Cosmos: A Personal Voyage,The Demon-Haunted World,Pale Blue Dot: A Vision of the Human Future in Space,The Dragons of Eden উল্লেখযোগ্য । কাজ করেছেন নাসার রোবোটিক মিশনগুলোয়, সম্পাদনা করেছেন “ইকারাস” নামক একটি বিজ্ঞান সাময়িকী এবং কোনো না কোনোভাবে বারবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য সময় বের করে নিয়েছিলেন । তিনি Johnny Carson এর “Tonight Show” এর নিয়মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ছিলেন। পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই তিনি তেরো পর্বের পিবিএস সিরিজ কসমসের যুগ্মস্রষ্টা এবং উপস্থাপক হয়ে কোটি কোটি মানুষের ঘরে বিজ্ঞান পৌঁছে দেন। ১৯৮০ সালের এ প্রোগ্রামটি তাঁকে আমেরিকার সবচেয়ে জনপ্রিয় বিজ্ঞানীতে পরিণত করেছিলো।কসমস সম্পর্কে অনেক কিছুই বলার আছে । তবে তা আরেক দিনের জন্য তোলা থাক ! নেইল ডে-গ্রেস টাইসন তার আদর্শ মানবের উপর সম্মান রেখে ২০১৪ সালে স্যেগানের স্ত্রী অ্যান ড্রুয়ানের সহযোগিতায় কসমস সিরিজ পুনরায় চালু করেন,যার নাম রাখা হয় Cosmos: A Spacetime Odyssey

ঈশরে অবিশ্বাসী কার্ল সংসারজীবনে বেশ উদাসীন ছিলেন । বিয়ে করেছেন তিনবার । তার সন্তান সংখ্যা ৫ । সন্তানদের তিনি নিজের মনের মত করে মানুষ করেছেন । প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পর তাদেরকে বাসায় প্রতিরাতে খাবার টেবিলে সংশয়বাদী চিন্তা আর মহাবিশ্বের ধর্ম নিরপেক্ষ ইতিহাসের পরিপূর্ণ শিক্ষা দেয়া হতো। এ প্রসঙ্গে তার বউ শাসা সেগান বলেন, তিনি খুব কোমল সুরে বললেন যে কোনো কিছুতে বিশ্বাস করার জন্য তাকে সত্য বলে বিবেচনা করা খুব বিপদজনক। নিজেকে এবং অন্যকে, বিশেষ করে যারা কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থানে আছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার মনোভাব যদি না থাকে তবে একজন মানুষকে খুব সহজেই বোকা বানানো যায়। তিনি আমাকে বলেন – “কোনো কিছুর যদি সত্যতা থাকে, তাহলে নিঃসন্দেহে সেটা সূক্ষ্ম যাচাই সহ্য করার ক্ষমতা রাখে”।

দুবছর ধরে মাইলোডিস্প্লাসিয়াতে ভুগে ও তিনবার মেরুদণ্ডের মজ্জা প্রতিস্থাপন অস্ত্রপচারের পরে সেগান নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হন। তিনি ওয়াসিংটনের সিটেল শহরে অবস্থিত ফ্রেড হাচিনসন ক্যান্সার রিসার্স ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোর বেলায় ৬২ বছর বয়সে সেগান মৃত্যুবরণ করেন।নিউইয়র্কের ইথাকা শহরে লেকভিউ সেমেট্রিতে সমাহিত করা হয়।

কার্ল সেগান - এক মহাজাগতিক পথিক

কার্লের জনপ্রিয় কিছু উক্তির মধ্যে সবচাইতে বিখ্যাত হল ,"আমি বিশ্বাস করতে চাই না , আমি জানতে চাই !" তার এই মুক্তমনা উক্তি হয়ত অনেকের জন্যই গলার কাঁটা ।তিনি মানুষকে শিখিয়ে গেছেন কিভাবে ভাবতে হয়, কিভাবে নিজের সত্ত্বা আর অস্তিত্ত্বকে চিনতে হয়। তিনি বিজ্ঞানের আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে অন্ধকার কুপ থেকে মনুষ্যসভ্যতাকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন । জ্যোতিঃর্বিজ্ঞানের উদারতার ছায়ায় বিশ্বের কোটি মানুষকে একত্র করেছিলেন । তার সম্পর্কে বলতে গেলে শেষ হবে না । তাই তার এক বিখ্যাত উক্তি দিয়ে আজকের পর্বের ইতি টানলাম , " আমাদের ডিএনএর নাইট্রোজেন, আমাদের রক্তের লৌহ ,আমাদের দাঁতের ক্যালসিয়াম, আপেল পাইয়ের টুকরোর কার্বন ধ্বংসপ্রাপ্ত নক্ষত্রের অভ্যন্তরে তৈরি হয়েছে । আমরা নক্ষত্রের উপাদানে তৈরি । আমরাই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড!"

তথ্যঃ 
https://en.wikipedia.org/wiki/Cosmos:_A_Personal_Voyage
https://en.wikipedia.org/wiki/Carl_Sagan
https://www.goodreads.com/author/show/10538.Carl_Sagan
https://www.biography.com/people/carl-sagan-9469191

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করুন। এমন লিখা নিয়মিত পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। লিখাটি কেমন লেগেছে তা কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না, আপনার মতামত-পরামর্শ আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: