Header Ads

বসবাসের জন্য সম্ভাবনাময় টাইটান

নাসা এবং স্পেস এক্সের কর্ণধার অ্যালন মাস্ক ২০৩০ সালের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর জন্যে বেশ ভালভাবেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন । তারা মঙ্গলে মনুষ্যবসতি গড়ে তুলতে চান । তবে শুষ্ক খটখটে মরুভুমিসম গ্রহটিতে কলোনি গড়ে তোলার চাইতেও কিন্তু আরও ভাল কিছু সুযোগ এই সৌরজগতেই আছে। বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা, শনির উপগ্রহ টাইটান এবং এন্স্যেলায়ডাস কিন্তু প্রান ধারণ ও বিকাশের জন্য মঙ্গলের চাইতেও সম্ভাবনাপূর্ণ।

বসবাসের জন্য সম্ভাবনাপূর্ণ টাইটান

সাময়িকি পত্রিকা Journal of Astrobiology & Outreach তে জ্যোতির্জৈববিজ্ঞানীরা নাসা এবং স্পেস এক্স এর উদ্দেশ্যে বলেছেন ," তাদের উচিৎ মঙ্গলের চাইতে টাইটান বেঁচে নেওয়া। প্রান ধারণের জন্য পৃথিবীর পর অন্যতম একটি সম্ভাবনাপূর্ণ এই কমলা স্যুপি গ্রহটি। হয়তবা উপগ্রহটিতে এমন প্রাণের বিকাশ ঘটেছে যাদের পৃথিবীর জীবের সাথে কোন ধরনের মিল নেই "। নাসাও তাদের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে, ''সৌরজগতের মধ্যে টাইটান সবচেয়ে পৃথিবী সদৃশ স্থান। সহজভাবে বললে এটি পৃথিবীর একটি জমাটবাধা জৈবযৌগসমৃদ্ধ ভার্সন । বিলিয়ন বছর পূর্বে পৃথিবীতে এককোষী জীবেরা অক্সিজেন উৎপাদন করার পূর্বে পৃথিবীর যেমন অবস্থা ছিল টাইটানের বর্তমান অবস্থা অনেকটা একই"। উল্লেখ্য টাইটানে প্রচুর মিথেন,ইথেন উপস্থিত রয়েছে। এমনকি উপগ্রহটিতে মিথেনের লেক এবং সাগর আছে বলে ধারনা করা হয়।

অনেক বিজ্ঞানীর ধারনা উপগ্রহটিতে হয়ত এককোষী জীবের অস্তিত্ব আছে, তা না থাকলেও হয়ত এমন জৈবযৌগ উপস্থিত রয়েছে যার দ্বারা প্রাক-প্রাণের সূচনা ঘটতে পারে। টাইটানের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর মাত্র ১৪ শতাংশ। তা সত্ত্বেও মানুষ এই কম অভিকর্ষে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। মঙ্গলের কোন তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্র নেই এবং এর বায়ুমণ্ডল খুব পাতলা হওয়ায় সূর্য থেকে নির্গত বিকিরণ এবং অন্যান্য কণা সরাসরি এর পৃষ্ঠে আঘাত হানে। তবে টাইটানে ঘন কমলা মিথেনের মেঘ থাকায় বিকিরণ উপস্থিতির হার মঙ্গলের চাইতে অনেক কম।

টাইটানে উপস্থিত জৈবযৌগগুলি পেট্রোলিয়াম জাতীয়। ধারনা করা হয় পৃথিবীর সব খনিতে মজুদকৃত পেট্রোলিয়াম এবং গ্যাসের পরিমাণের চাইতে কয়েকশ গুন টাইটানে উপস্থিত রয়েছে। মঙ্গলে একমাত্র সৌরশক্তির উপর ভরসা করতে হবে। কিন্তু টাইটানে বিভিন্ন ধরনের শক্তির উৎস বিদ্যমান আছে। উপগ্রহটিতে সৌর,বায়ু, কেমিক্যাল, নিউক্লিয়ার,জিওথার্মাল,হাইড্রোপাওয়ার শক্তি বাবহারের সুযোগ রয়েছে। টাইটানে বায়ুর শক্তিশালী প্রবাহ থাকায় সহজের বায়ুশক্তি পাওয়া যাবে।টাইটানের অভিকর্ষজ ত্বরণ কম হওয়ায় টারবাইন ঘুরতেও কম বেগ পেতে হবে। আবার টাইটানে তরলের প্রবাহমান লেক থাকায় হাইড্রোপাওয়ার শক্তিরও সম্ভাবনা রয়েছে।উপগ্রহটিতে পৃথিবীতে আপতিত আলো ও তাপের মাত্র ১০ শতাংশ পতিত হলেও তা যথেষ্ট শক্তি যোগান দিতে পারবে। আবার এর তরলের লেকের গভীর তলদেশ নিউক্লিয়শক্তি উৎপাদনের জন্যে আদর্শ।

তবে এটি বর্তমানে এককথায় মানুষের বসবাসের জন্য একদম অযোগ্য চরম বিষাক্ত বা টক্সিক পরিবেশ । বায়ুমণ্ডলে মিথেনসহ আরও বিষাক্ত গ্যাস উপস্থিত রয়েছে। মানুষের কলোনি তৈরির আগে এর পরিবেশ মানুষের জন্য উপযোগী করে নিতে হবে। অলাভজনক প্রতিষ্ঠান প্ল্যানেটারি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের পরিচালক হেন্ড্রিক্স বলেন, " প্রথমে উপগ্রহে উপস্থিত বিভিন্ন যৌগে উপস্থিত অক্সিজেন রাসায়নিক ভাবে অবমুক্ত করতে হবে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন জাতীয় ক্ষুদ্র উদ্ভিদের মাধ্যমেও গ্রহটিতে অক্সিজেন অবমুক্ত করা যাবে। আমরা তো আর সরাসরি সেখানে গিয়ে খুঁটি গেড়ে বসে থাকতে পারব না। তবে এমন কিছু করতেই পারি যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম টাইটানে কলোনি তৈরি করতে পারে।"

প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি মানুষের জন্য যথেষ্ট জায়গা সংকুলান করতে পারবে উপগ্রহটি। কে জানে, হয়ত অদূর ভবিষ্যতে মানুষের আরেক বাসভুমিতে পরিনত হবে শনির এই বৃহত্তম চাঁদটি।

সূত্রঃ 

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: