Header Ads

চাঁদ এবং পৃথিবীর পানির উৎস একই

চাঁদ এবং পৃথিবীর পানির উৎস একই

পৃথিবী এবং চাঁদের পানির উৎস একই উল্কা আমাদের সৌরজগতের জন্মের ১০০ মিলিয়ন বছর পর “Carbonaceous Chondrites” নামক কিছু ছোট উল্কা থেকেই পৃথিবী এবং চাঁদে পানির উদ্ভব ঘটে। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়,ওয়েস্টার্ন রিসার্ভ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কার্নেগী ইনস্টিটিউট অব ওয়াশিংটনের গবেষকরা এমনটাই বলছেন।

এপোলো ১৫ এবং এপোলো ১৭’এর নভোচারীদের নিয়ে আসা চাঁদের ধূলিকণা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গবেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।পৃথিবীর জন্মলগ্নে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে এক বিশাল মহাজাগতিক বস্তু আঘাত হানে পৃথিবীতে। ধারণা করা হয় এর ফলেই জন্ম নেয় চাঁদ বিজ্ঞানীরা মনে করেন ঐ আঘাতের ফলে সৃষ্ট তাপের কারণেই চাঁদ এতটা শুষ্ক হয়ে উঠেছে।

তাছাড়া মহাশুন্যে হাইড্রোজেন এবং বিভিন্ন ধরণের উদ্বায়ী পদার্থের আধিক্যের কারণও এটিই বলে মনে করতেন তারা। কিন্তু এপোলো মিশনে যাওয়া নভোচারীদের নিয়ে আসা মাটির নমুনা পরীক্ষা-
নিরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে এখনো চাঁদের পৃষ্টে এবং অভ্যন্তর ভাগে পানি রয়েছে।

নতুন গবেষণার ফলাফল স্পষ্ট করে বলছে যে চাঁদ এবং পৃথিবী উভয় গ্রহেরই পানির অস্তিত্ব এক।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদ আলবার্টা এটলাস বলেন, “আমাদের গবেষণার ফল খুব
ছোট করে বললে বলতে হয় পৃথিবী সৃষ্টির ঠিক আগের মুহূর্তেও অর্থাৎ বৃহৎ মহাজাগতিক বস্তুর
আঘাতের পরেও পানির অস্তিত্ব ছিল। আর আঘাতের পরেও কিছু পানি অবশিষ্ট ছিল। সেই অবশিষ্ট পানিটুকুই আসলে এখন চাঁদে এবং পৃথিবীতে বিদ্যমান।”Case Western Reserve’এর Earth, Environmental and Planetary Sciences বিভাগের অধ্যাপক জেমস ভন অরমান বলেন “ব্যাপারটা এমন নাও হতে পারে যে উল্কার আঘাতের আগে থেকেই পানি ছিল। 

কিন্তু এমন হতে পারে আঘাতের পর ঐ একই ধরণের মানে Carbonaceous Chondrites উল্কার বৃষ্টির
ফলে চাঁদ এবং পৃথিবীতে পানির উদ্ভব ঘটেছে।” কার্নেগী ইনস্টিটিউটের এরিক হাউরী এবং ব্রাউন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্কুলাম রাদারফোর্ডও এই গবেষণার সাথে জড়িত। চাঁদের পানির উৎস অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা চাঁদে অবস্থিত আগ্নেয়গিরির গ্যাসকে বিশ্লেষণ করতে দেখতে চেয়েছেন চাঁদের অভ্যন্তরভাগ কেমন। কার্নেগী ইনস্টিটিউটে Cameca NanoSIMS 50L Multicollector Ion Microprobe ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা সাধারণ হাইড্রজেনের সাথে সেম্পল
থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোজেনের তুলনা করেছেন। 

ডিউটেরিয়ামের একটি বাড়তি নিউট্রন রয়েছে। সৌরজগতের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাপ্ত পানির অণুর
নমুনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় প্রতিটির ক্ষেত্রে ডিউটেরিয়ামের পরিমাণ ভিন্ন। দেখা গেছে যে নমুনাটি সূর্যের যত কাছের স্থান থেকে নেয়া হয়েছে সেটিতে ডিউটেরিয়ামের পরিমাণ অপেক্ষাকৃত কম।
 
গবেষকরা বলছেন নমুনা থেকে প্রাপ্ত হাইড্রোজেন এবং ডিউটেরিয়ামের অনুপাত আঘাতহানা Carbonaceous Chondrites’এ প্রাপ্ত অনুপাতের সাথে পুরোপুরি মিলে গেছে। এই উল্কাগুলোর উৎপত্তি মূলত বৃহস্পতি গ্রহের এস্টারয়েড বেল্ট থেকে। ধারণা করা হয় এগুলোই সৌরজগতের সবচেয়ে প্রাচীন মহাজাগতিক বস্তু। আর এটা থেকেই বুঝা যায় যে অন্তত চাঁদ এবং পৃথিবীর পানির উৎস নিশ্চিতভাবেই ঐ উল্কাগুলো। এরিক হাউরী বলেন, “হিসেব-নিকেশগুলো যথেষ্ট দুরূহ হলেও সেটা নিশ্চিত করে যে পৃথিবী এবং চাঁদের পানির উৎস Carbonaceous Chondrites নামক ঐ উল্কাগুলো। এমনও হতে পারে যে পুরো সৌরজগতের পানির উৎসই ওগুলো।”তাঁর মতে পৃথিবীর মোট পানির অন্তত ৯৮ ভাগেরই উৎস উল্কা।

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: