Header Ads

১১ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবী সদৃশ গ্রহের সন্ধান!

১১ আলোকবর্ষ দূরে কন্যারাশি মণ্ডলে একটি বহিঃর্জাগতিক পাথুরে গ্রহের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে ! Ross 128b নামের এই গ্রহটি একটি লাল বামন তারকাকে প্রদক্ষিন করছে । এটির সবচাইতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল গ্রহটি হ্যাবিটেবল বা গোল্ডিলক জোনে অবস্থিত ! অর্থাৎ গ্রহটি এর মাতৃ নক্ষত্র থেকে এমন অবস্থানে অবস্থিত যে তরল পানি থাকার মত উপযুক্ত পরিবেশ বিদ্যমান ! গ্রহটির তাপমাত্রা -৪০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে !

১১ আলোকবর্ষ দূরে পৃথিবী সদৃশ গ্রহের সন্ধান!

তবে সবচাইতে বাজে ব্যাপার হল গ্রহটি এর নক্ষত্রের খুব কাছে অবস্থিত । সূর্য ও পৃথিবীর দুরত্বের ২০ ভাগের এক ভাগ দুরত্বে অবস্থিত গ্রহটি এর মাতৃ নক্ষত্রকে মাত্র ৯,৯ দিনে এক বার প্রদক্ষিন করে । আর অত্যান্ত নিকটে অবস্থিত হওয়ায় নক্ষত্র থেকে নির্গত ক্ষতিকারক তড়িৎচৌম্বক বিকিরনের হার বেশি । আর তাছাড়া সৌরঝড়ের মত বিভিন্ন শক্তিশালী নাক্ষত্রিক ঝড়ে গ্রহটির তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্র বিকল হয়ে যাবে । এতে এর বায়ুমণ্ডল ধ্বংস হয়ে যদি পানি থেকে থাকে তা বাষ্পীভূত হয়ে মহাশূন্যে চলে যাবে । তবে এই Ross 128 বামন নক্ষত্রটি কিছুটা শান্ত প্রকৃতির !

এই তারাটি সৌরজগতের ১২ তম নিকটতম তারা । এটির ভর সূর্যের চাইতে কিছুটা কম হলেও এর গ্রহটি পৃথিবীর ১.৩৫ গুন । আর নিকট অবস্থানের জন্য গ্রহটি Ross 128 নক্ষত্রের উপর এতটা শক্তিশালী মহাকর্ষ বল প্রযুক্ত করে যে নক্ষত্রটির আবর্তন বেগ ও কক্ষপথের উপর প্রভাব ফেলে । আর এই প্রভাব সনাক্ত করে ইসার বিজ্ঞানীরা এই গ্রহটিকে আবিস্কার করেছেন । ফ্রান্সের Institut de Planétologie et d’Astrophysique de Grenoble এর অধ্যাপক হ্যাভিয়ের বোঁনেফিলসের নেতৃত্বে একদল গবেষক চিলির আতাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত world-leading planet-hunting instrument, HARPS টেলিস্কোপ ব্যাবহার করে এই গ্রহটি সনাক্ত করেছেন । ৪.২ আলোকবর্ষ দুরের প্রক্সিমা সেঞ্চ্যুরাই নক্ষত্রের প্রক্সিমা-খ গ্রহের পড় এটিই পৃথিবীর নিকটতম বহির্জাগতিক গ্রহ ।

আর এই কারনে বিজ্ঞানীদের নিকট এটি বেশ আকর্ষণীয়। গ্রহটির পরিবেশ গত ফেব্ররুয়ারিতে খুজে পাওয়া ট্রাপিস্ট-১ সিস্টেমের গ্রহগুলির অনুরূপ । আর এ যাবত কালে খুজে পাওয়া গ্রহগুলির মধ্যে আশাব্যাঞ্জক হলেও এর চাইতে আর বেশি কিছু বিজ্ঞনিরা বলতে পারছেন না । এর কারন হল আমাদের প্রযুক্তির দুর্বলতা । গ্রহটিতে প্রান বিকাশ করেছে কিনা তা জানার জন্য সরাসরি একে পর্যবেক্ষণ করতে হবে । হাবল শক্তিশালী হলেও এর বায়ুমণ্ডল বা মেঘমণ্ডল আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা জন্য যথেষ্ট নয় । জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের পরে এর সম্পর্কে বেশ জানা যাবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা প্রকাস করেছেন । তাছাড়া, ২০২৪ সালে ইসা Extremely Large Telescope বা ELT নামে একটি ভুমিভিত্তিক টেলিস্কোপ চালু করবে । এটি এতটা শক্তিশালী যে চাঁদে একটি মটরদানা থাকলে তাও সনাক্ত করতে পারবে । হাবলের চাইতে ১০ গুন শক্তিশালী এই টেলিস্কোপটি তাই প্ল্যানেটহান্টারদের জন্য স্বর্গ হবে ।

তবে এটি দিয়ে একদম গ্রহে প্রানের স্পন্দন সনাক্ত করা যাবে না । যেকোনো প্রান যুক্ত গ্রহ সনাক্ত করার আদর্শ উপায় হোল এর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন বা ওজোন আছে কিনা তা পরীক্ষা করা । সায়ানোব্যাকটেরিয়া জাতীয় অন্যূনত জীবেরা প্রান সৃষ্টির হাতিয়ার । এরা সাধারনত কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে এবং অক্সিজেন ছেঁড়ে দেয় । তাই Ross 128b এর বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন খুজে পাওয়ার মাধ্যমে এতে প্রান আছে কিনা তা জানা যাবে । আর তাই ২০২৪ পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতেই হবে । তাছাড়া গ্রহটিতে যদি জলিয়বাস্পের মেঘ থাকে তাহলে তা এর নক্ষত্র থেকে আশা আলো ও তাপ অনেকটা প্রতিফলিত করবে । এতে গ্রহের তাপমাত্রা একটি সিমার মধ্যে থাকবে যা প্রাণের জন্য আদর্শ !!

তথ্যঃ 

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: