Header Ads

গটফ্রিড লিবনিজ এর জীবনী

গটফ্রিড লিবনিজ এর জীবনী

লিবনিজ ছিলেন একজন জার্মান দার্শনিক ও গণিতবিদ যিনি ক্যালকুলাসের অন্যতম আবিষ্কর্তা ! ১৬৪৬ খৃষ্টাব্দে ১লা জুলাই জার্মানীর লেইপজিগ শহরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে গট‌ফ্রিড ভিলহেল্ম লাইব‌নিৎস(লিবনিজ) জন্ম গ্রহণ করেন । যারা তিনপুরুষ যাবত saxony সরকারের অধীনে পদস্হ কর্মচারী ছিলেন ।তাই একটি শিক্ষিত রাজনৈতিক পরিবেশে লিবনিজ এর বাল্যকাল অতিবাহিত হয় । ছয় বছর বয়সে তার পিতৃবিয়োগের আগেই পিতার উৎসাহে ইতিহাসের প্রতি তার মূল শিক্ষাকেন্দ্রে ছিল তার পিতার গ্রন্থাগার । আট বছর বয়সে তিনি ল্যাটিন ভাষায় শিক্ষা শুরু রেন এবং বার বছর বয়সে ল্যাটিন ভাষায় ছড়া রচনা আরম্ভ করেন । অতঃপর তিনি সম্পূর্ণ নিজ চেষ্ঠায় গ্রীকভাষা আয়ত্ত করেন । এই সময়ে তার মানসিক উৎকর্ষতা রেনে দি কার্তেসর(René Descartes) এর অনুরুপ ছিল )। প্রাচীন সাহিত্য ও শিল্প বিষয় অনুশীলনে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না, তাই তিনি ন্যায় শ্মশ্রু অনুশীলনে মনোনিবেশ করেন । গীক ও ল্যাটিন পন্ডিতগন এবং দার্শনিকগন ও খৃষ্টান যাজতবৃন্দ ন্যায়শাস্শ্রকে যে পর্যায়ে এনেছিল তার সংস্কার করার প্রচেষ্ঠা হতেই Leibniz এর characterstic Universalis, বা Universal Mathematis, এর বীজ অঙ্কুরিত হয় এবং এর থেকেই তিনি দর্শন শাস্ত্র ও মনস্তত্বের আস্বাদ পেয়েছিলেন । সপ্তদশ শতাব্দীতে তিনি রেনে দি কার্তের সাথে অন্যতম যুক্তিবাদী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

লিবনিজ বিজ্ঞানের একটি নতুন শাখার উন্নয়ন ঘটান যা ক্যালকুলাস নামে পরিচিত ।আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে এই শাখাটি। সমাকলনে তাঁর ব্যবহৃত ক্যালকুলাসের অঙ্কপাতন পদ্ধতি বা নোটেশনগুলো বর্তমানেও ব্যাবহার করা হয়। আধুনিক কম্পিউটারের মূল ভিত্তি বাইনারি পদ্ধতি তাঁর উদ্ভাবন। পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, সম্ভাবনা তত্ত্ব, তথ্য বিজ্ঞানে তাঁর ব্যাপক অবদান আছে। তিনি এবং নিউটন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে প্রায় একই সময়ে ক্যাল্কুলাসের উন্নতি ঘটান ! যদিও আমরা এখন জানি নিউটন লিবনিজের কয়েক বছর পূর্বেই এটি আবিষ্কার করেছিলেন, তবে তিনি তা প্রকাশ করেছিলেন অনেক পরে অর্থাৎ ১৬৯৩ সনে, আর পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেছিলেন ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে। তার কাজের একটি পূর্ণ বিবরণ ১৬৮৪ সালেই প্রকাশ করেছিলেন। মূলত লিবনিজের ব্যবকলন পদ্ধতিই পরবর্তীকালে মহাদেশ জুড়ে গৃহীত হয়েছিল।কে আগে এটি আবিষ্কার করেছেন তা নিয়ে তৎকালীন বিজ্ঞানী সমাজের মাঝে প্রবল বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে। দুজনের বিরুদ্ধে ও পক্ষেই অনেক লেখালেখি হয়।

নিউটন দাবী করেছিলেন, ১৬৬৬ সালে তিনি ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছেন। তার আবিষ্কৃত ক্যালকুলাস ছিল মূলত "ফ্লাক্সিয়ন এবং ফ্লুয়েন্টের পদ্ধতি"। কিন্তু ১৬৬৬ এরও কয়েক দশক পরে তিনি প্রথমবারের মত এই পদ্ধতির কথা গবেষণাপত্র আকারে প্রকাশ করেন। এর মধ্যে অবশ্য তার একটি প্রকাশনার পিছনের পাতায় এ সংক্রান্ত সামান্য কিছু কথা উল্লেখ করেছিলেন। অপরদিকে লিবনিজ ১৬৭৪ সালে ক্যালকুলাসের একটি ধরণ আবিষ্কার করেন এবং ১৬৮৪ সালেই তা গবেষণাপত্র আকারে প্রকাশ করেন। ১৬৯৬ সালে গিয়্যোম দ্য লোপিতাল লাইবনিৎসের ক্যালকুলাস বিষয়ে একটি লেখা প্রকাশ করেছিলেন। অপরদিকে নিউটন ১৬৯৩ সালে প্রথম ক্যালকুলাসের কছু অংশ প্রকাশ করেন এবং ১৭০৪ সালে সম্পূর্ণ প্রকাশ করেন। কথিত আছে ১৬৭৬ সালে লিবনিজ লন্ডন ভ্রমণে গিয়ে নিউটনের একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি দেখেছিলেন। এ কারণেই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, লিবনিজ নিউটনের ধারণার উপর ভিত্তি করেই ক্যালকুলাসের উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন কি-না। এই প্রশ্ন থেকে একটি দীর্ঘ বুদ্ধিবৃত্তিক বিবাদের সূচনা হয়, কে আগে ক্যালকুলাস আবিষ্কার করেছিলেন তা নিয়ে। ১৬৯৯ সাল থেকে হালকা হালকা শুরু হয়ে ১৭১১ সালের পর এই বিবাদ পূর্ণোদ্যমে চলা শুরু করে।আশ্চর্যের বিষয়, নিউটনের পক্ষে লিখিত অধিকাংশ নিবন্ধই ছিল তার নিজের লেখা এবং তার বন্ধুদের নামে প্রকাশিত। বাগ্বিতণ্ডা চলতে থাকায় লিবনিজ বিষয়টি রয়েল সোসাইটিতে উত্থাপন করেন। কিন্তু নিউটনের আরেক চোখের বালি রবার্ট হুক মারা যাওয়ার পড়ে রয়েল সোসাইটির সভাপতি নির্বাচিত হন নিউটন। তিনি এই "লাইবনিৎস ও নিউটনের ক্যালকুলাস বিবাদ" এর সঠিক অণুসন্ধানের জন্য তার বন্ধুদের নিয়ে একটি পক্ষপাতিত্বমূলক কমিটি গঠন করেন। এই কমিটি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ শুরু করে ১৭১১ সনে।রয়েল সোসাইটির প্রতিবেদনে লিবনিজকে গবেষণা কর্ম চুরির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর নিউটন নাম গোপন করে এক সাময়িকীতে রয়েল সোসাইটির প্রতিবেদনের পক্ষেও লিখেছিলেন। লিবনিজের মৃত্যুর পর নিউটন বলেছিলেন. লিবনিজের মন ভেঙ্গে দিয়ে তিনি খুব শান্তি পেয়েছেন।

সমাকলনে ∫ প্রতীক ও ব্যাবকলনে d এর প্রচলন লিবনিজ শুরু করেন ! তৎকালীন রেনে দি কার্তেস ও নিউটনের দ্বারা অস্বীকৃত গতিবিদ্যাইয় স্থিতিশক্তি ও গতিশক্তি বিষয়ে একটি নতুন তত্ত্ব দাড় করান । তার এই তত্ত্ব অনুযায়ী স্থান বা স্পেস হল আপেক্ষিক , যদিও সেই সময়ে নিউটনিয়ান বলবিদ্যা অনুযায়ী স্থান হল পরম । তৎকালীন সময়ের পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে ভাবনা ও জ্ঞানের বিপরীতে তার চিন্তাশক্তি কতটা এগিয়ে ছিল তা তার ১৬৯৫ সালে প্রকাশিত Specimen Dynamicum বইটিতে পাওয়া যায় ! আইনস্টাইন বিংশ শতকের গোঁড়ার দিকে আপেক্ষিক তত্ত্ব হাজির করে দেখালেন যে স্থান,কাল, বেগ সবকিছুই আপেক্ষিক । আইনস্টাইন লিবনিজের আপেক্ষিক স্থানতত্ত্ব প্রসঙ্গে বলেন,"As for my own opinion, I have said more than once, that I hold space to be something merely relative, as time is, that I hold it to be an order of coexistences, as time is an order of successions."

লিবনিজ চিরকুমার ছিলেন ! অনেকে বলেন বিয়ে মানে অতিরিক্ত দায়িত্ব ও টাকা খরচ বিধায় তিনি বিয়ে করেন নি । ১৭১৬ সালের আজকের দিনে তিনি হ্যানোভারে মৃত্যুবরন করেন ।

সূত্রঃ 

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: