Header Ads

আকাশে কোনটি গ্রহ, কোনটি তারা চিনবেন কীভাবে?

তারা আর গ্রহদের মধ্যে কতকগুলো চরিত্রগত, ভৌত পার্থক্য আছে। কিন্তু এই পার্থক্যগুলোর ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের পক্ষে আকাশে গ্রহ তারাদের আলাদা করে চেনা সম্ভব নয়। দৃষ্টান্ত হিসাবে, তারাদের নিজস্ব আলো আছে,গ্রহদের নেই । কিন্তু তার দরুন ওদের দেখতে দু-রকম হয় না ; কারণ গ্রহরা সূর্যের কাছ থেকে আলো পায় আর সেই আলোয় গ্রহদেরও আকাশে উজ্জ্বলই দেখায়।

কিন্তু তারা আর গ্রহের কতকগুলো দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) পার্থক্যওও আছে। তাদের সাহায্যে গ্রহ-তারাদেরপৃথক করা যায় আর সেই ভাবেই তো সুপ্রাচীন কাল থেকে তারা আর গ্রহ ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির জ্যোতিষ্ক হিসাবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
 
গ্রহদের তারাদের চেয়ে (প্রায় সব সময়েই) একটু বড় এবং বেশি উজ্জ্বল দেখায়।(কারণ গ্রহরা তারাদের চেয়ে আমাদের অনেক অনেক কাছের জ্যোতিষ্ক)।

আকাশে কোনটি গ্রহ, কোনটি তারা চিনবেন কীভাবে?

গ্রহরা আকাশের যেখানে সেখানে থাকে না; মোটামুটিভাবে পুব থেকে পশ্চিমে প্রসারিত, চওড়া বেল্ট বা পট্টির মতো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল আছে, তার কাছে থাকে। ওই বিশেষ অঞ্চলটির নাম হচ্ছে "রাশিচক্র" (Zodiacal belt) । শুধু গ্রহরা নয়, সূর্য এবং চাঁদও রাশিচক্রের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে। অতএব, খুব সহজবোধ্যভাবে বলা যেতে পারে যে, আকাশে যেসব জায়গায় সূর্য বা চাঁদকে দেখা যায়, সেইসব জায়গাতেই বা তার আশেপাশেই গ্রহদের দেখা মিলতে পারে-- অন্যত্র নয়।

তৃতীয়ত, তারারা মিটমিট করে বা দপদপ করে, গ্রহরা করে না। অর্থাৎ, তারার আলো কম্পমান, গ্রহর আলো নিষ্কম্প। এর কারণ অব্যশ তারা বা গ্রহে নিহিত নেই -আছে মূলত পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে।এই বায়ুমণ্ডল কখনও শান্ত, নিশ্চল নয় সতত চঞ্চল বা অস্থির; আর, তার ভিন্ন ভিন্ন অংশের ঘনত্ব সমান নয়। ফলে তারারা, যারা অনেক অনেক দূরে থাকার দরুন আকারে আলোর বিন্দুর রূপ পরিগ্রহ করে, তাদের আলো অবিচ্ছিন্ন ধারায় আমাদের দিকে পাঠাতে পারে না -ক্ষণে ক্ষণে সে - আলো দিগভ্রষ্ট হয়, আমাদের চোখে পৌঁছতে পারে না। অপর পক্ষে গ্রহরা কাছে থাকার দরুন ঠিক বিন্দুবৎ আচরণ করে না, অনেক বিন্দুর সমবায়ে গঠিত এক-একটি চাকতির --অবশ্য ছোটো চাকতির মতো হয়ে দাঁড়ায়।
চাকতির প্রতিটি বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলো, তারাদের আলোর মতোই, আমাদের চোখে একটানা প্রবেশ করতে পারে না -তাতে ছেদ পড়ে, কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই সব বিন্দু গুলোর ক্ষেত্রে একই সঙ্গে সে ঘটনা ঘটে না ; তাই গ্রহের আলো কোনও সময়েই আমাদের একেবারে নির্বাপিত হয়ে যায় না।

যথেষ্ট ধৈর্য এবং যত্নের সঙ্গে লক্ষ্য করলে, তারা আর গ্রহের মধ্যে আরও একটি প্রভেদ চোখে পড়ে। তারাগুলো যেন আকাশের পটভুমিতে আপেক্ষিকভাবে (Relatively) স্থির, কিন্তু গ্রহরা স্থান পরিবর্তনশীল। 

রাতের আকাশে যে - কোনও দুটি তারাকে বেছে নিয়ে যদি লক্ষ্য করা যায়, তাহলে মনে হবে যে তাদের মধ্যে দূরত্ব বা অন্যান্য অবস্থানগত সম্পর্কের কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না রাতের পর রাত, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর তা অপরিবর্তিত থাকছে; কিন্তু দুটি গ্রহ বা একটি গ্রহ এবং একটি তারার মধ্যের অনুরূপ সম্পর্কের পরিবর্তন হচ্ছে- কখনও ধীরে ধীরে, কখনও অপেক্ষাকৃত দ্রুত বেগে। 

তারা আর গ্রহের মধ্যের এই প্রভেদ টাই প্রাচীনকাল গ্রীস, ভারতবর্ষ প্রভৃতি দেশে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে অবাক করেছিল, এটিকেই তারা গ্রহদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেছিলেন।

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করুন। এমন লিখা নিয়মিত পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: