Header Ads

এক হাজার বছর পরে মানুষ দেখতে কেমন হবে?

হাজার বছর পরে আমরা মানুষেরা দেখতে কেমন হবো? এই প্রশ্নটা হয়তো অনেককেই চিন্তার মুখোমুখি করিয়েছে। তবে এই বিষয়টা নিয়েই গবেষণার পরিমাণও কম নয়। আজকে সেসব গবেষণা থেকে উঠে আসা কিছু তথ্য জানাবো হাজার বছর পরের মানব সভ্যতা সম্পর্কে!

এক হাজার বছর পরে মানুষ দেখতে কেমন হবে?

ভবিষ্যতের মানুষেরা আমাদের চাইতে অনেক লম্বা হবে উচ্চতায় তার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ ১৩০ বছরের সময়সীমায় মানুষের আকার এবং উচ্চতায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। ১৮৮০ সালে একজন আমেরিকান পুরুষের গড় উচ্চতা ছিলো ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। বর্তমানের গড় উচ্চতাটা হচ্ছে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি! আমরা হয়তো ভবিষ্যতে এমন মেশিন ব্যাবহার করতে শুরু করবো যা আমাদের শোনার ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারবে। দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো, পরিধেয় প্রযুক্তি, হিয়ারিং এইড, স্মার্টফোন সহ নানা প্রযুক্তি আমাদের শরীরের অংশ হয়ে উঠতে পারে সময়ের সাথে সাথে।  University of Oregon অন্ধ ব্যাক্তিদের জন্য বায়োনিক চোখ তৈরি করছে, এমনটা অসম্ভব নয় যে হাজার বছর পরের মানুষেরা এমন প্রযুক্তি ব্যাবহার করবে যা বর্তমানে আমাদের দৃষ্টিসীমার বাইরের অদৃশ্য শক্তিগুলো (যেমনঃ এক্স-রে, আল্ট্রাভায়োলেট রে) দেখতে সাহায্য করবে।

এক হাজার বছর পরে মানুষ দেখতে কেমন হবে?

পরিবর্তন যে শুধু বাহ্যিকভাবেই আসবে তা নয়! CRISPR এর মতো জিন এডিটিং টেকনোলজি আমাদের দেহের জিনের নকশা এবং গঠনেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে যা বিভিন্ন অসুখ এবং দৈহিক অক্ষমতা থেকে আমাদের মুক্তি দিবে। অক্সফোর্ডের একটি রিসার্চে উঠে আসে, সাউথ আফ্রিকার সুস্থ ব্যাক্তিরা তাদের দেহে HIV প্রতিরোধী ব্যাবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এবং এমন দিন খুব দূরে নয় যখন আমরা আমাদের দেহে প্রতিষেধক ছাড়াই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবো।

জিন এডিটিং শুধু রোগ প্রতিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়, বৃদ্ধ হবার প্রক্রিয়াটিতেও আমূল পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব এর মাধ্যমে! যা ভবিষ্যতের মানুষকে অনেক বেশি জীবনকাল এমনকি অমরত্ব দান করতেও সক্ষম হতে পারে!

এক হাজার বছর পরে মানুষ দেখতে কেমন হবে?

দেহে দ্রুত গতিতে বৃহৎ পরিবর্তন নিয়ে আসার আরেকটি উপায় হচ্ছে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো। মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর তুলনায় মাত্র ৬৬% আলো শোষণ করতে পারে। এর অর্থ হচ্ছে মঙ্গলে বাস করা মানুষ স্বল্প আলোর সাথে মানিয়ে নিতে তাদের চোখের পিউপিল বিবর্তিত হবে এবং তা আকারে বৃদ্ধি পাবে। মঙ্গল গ্রহের মহাকর্ষ বল পৃথিবীর মাত্র ৩৮ ভাগ, তাই মঙ্গলের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই অনেক লম্বাকৃতির হবে। এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার রবার্ট জুব্রিনের মতে মঙ্গলের আকর্ষণ বল মানুষের মেরুদণ্ডে প্রভাব ফেলে আকারে কয়েক ইঞ্চি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এগুলোও হয়তো আগামী ১০০০ বছরে মানুষের সবথেকে বড় পরিবর্তনটা ঘটাবে না! ইটালি এবং চীনের গবেষকেরা Head Transplant বা মাথা অন্য দেহে প্রতিস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রাণীর দেহে এই পদ্ধতির পরীক্ষা চালানো হয়েছে। তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষাটি করা হবে মানুষের দ্বারা পোষা প্রাণীগুলির উপরে। এই প্রযুক্তি মানুষের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখতে পারে। মস্তিষ্কের স্মৃতি, চেতনা, বুদ্ধিমত্তা ও আবেগ অন্য দেহে প্রতিস্থাপিত করে বাঁচিয়ে রাখতে এই প্রযুক্তি আমাদের অনেকটা সাহায্য করবে।

এক হাজার বছর পরে মানুষ দেখতে কেমন হবে?

সামনের বছরগুলিতে যত পরিবর্তনই আসুক না কেন, ভবিষ্যতের মানুষ যে পদ্ধতিতেই তাদের দেহে পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলুক, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছেঃ দ্রুত পরিবর্তন এবং মানব জাতির বৈচিত্র্য আমাদের প্রজাতিটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং পৃথিবীকে ছাপিয়ে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই বিষয়টি নিয়ে অসাধারণ একটি ভিডিও রয়েছে! পুরো পোস্টটি মূলত সেই ভিডিওর ভাবানুবাদ। ভিডিওটি নীচে দেয়া হলো।

ভিডিও লিংকঃ 


যদি লিখাটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করুন যেন অন্যরাও জানার সুযোগ পায়। এমন আর্টিকেল নিয়মিত পেতে ভিজিট করুন EduQuarks ব্লগ। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

No comments: