Header Ads

গল্পঃ ইনসাফ

গল্পঃ ইনসাফ

গল্পঃ ইনসাফ 
লেখকঃ মাহদী শেখ
জনরাঃ থ্রিলার

আদিবাকে সারপ্রাইজ দিতে ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকতে হচ্ছে সাব্বির চৌধুরীকে। তালাটা খুলে ভিতরে যেতেই মোবাইলটা বেজে উঠল।

"হ্যালো, কে বলছেন?" শুধু Private লেখা উঠায় চিনতে পারছেন না কে ফোন করেছে তাকে।

"আপনি যে কন্ট্রাক্ট করেছিলেন সেটি সম্পন্ন হয়েছে।" বললাম আমি।

"মি. আননোন! কী বলছো এইসব? কাজটা তো তোমার আগামী কাল করার কথা। আজ নয়!" বিরক্তিকর ভাব ফুটে উঠল সাব্বির চৌধুরীর চেহারায়।

"কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী আপনার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় কনফার্ম কল করা হয়েছে আপনাকে।"

"দেখো মি.আননোন! তোমাকে একটা কাজ দিয়েছিলাম। কবে কখন করতে হবে তাও বলে দিয়েছি। কিন্তু তুমি কথানুযায়ী কাজটা করো নি! তাই কন্ট্রাক্টের বাকী টাকা পাচ্ছো না। ফোন রাখছি আমি।"

"ফোন রাখতে পারেন। কোন অসুবিধা নেই কারন টাকার প্রয়োজন নেই আমার। কিন্তু কাজটা কেমন হলো তা দেখে বলবেন তো!"

ঘাবড়ে গেলেন মি. চৌধুরী। আদিবা! বলে দ্রুত চলে গেলেন ঘরের ভিতরে। বেডরুমে আদিবা শুয়ে আছে। তার মাথার চারিদিকে রক্তের বন্যা বইছে! সম্ভবত মাথার পিছন দিক দিয়ে জোর আঘাত করা হয়েছে।

"ওহ্ মাই গড! এ কী করেছো তুমি?" ফোনটা কানের কাছে নিয়ে বললেন। "ও তো আমার স্ত্রী নয় গার্লফ্রেন্ড! বাস্টার্ড! ওকে কেন মেরেছো?"

"বলেছিলেন, আপনার স্ত্রী ধোঁকা দিচ্ছে আপনাকে। আমি যেন আপনাকে ইনসাফ পাইয়ে দেই। কথাটা মিথ্যা বলেছিলেন আমাকে!

আপনার স্ত্রী একজন বিশ্বস্ত-স্বামীভক্ত সতী নারী। আর অপরদিকে আপনি হচ্ছেন একজন ধোঁকাবাজ-পরকীয়াসক্ত অকৃতজ্ঞ স্বামী। আমি তো ইনসাফ অনুযায়ীই কাজ করেছি!" আমার হালকা মুচকি হাসির আওয়াজটা ফোনে মনে হয় শুনতে পেলেন না তিনি।

"কোন বা*র ইনসাফের কথা বলছো? দুই টাকার কন্ট্রাক্ট কিলার তুমি এসেছো বুঝাতে ইনসাফ কাকে বলে? আমার গার্লফ্রেন্ডকে হত্যা করেছো তুমি। এ কাজের জন্য তো আমি তোমাকে ভাড়া করি নি। পুলিশে দিবো তোমাকে।"

"পুলিশকে কী বলবেন? যে, এক খুনিকে ভাড়া করেছিলাম আমার স্ত্রীকে খুন করানোর জন্য আর সে আমার গার্লফ্রেন্ডকে খুন করেছে!"

"জানি না কী বলব। কিন্তু আমি তোমাকে খুন করব। দরকার হলে অন্য কন্ট্রাক্ট কিলার ভাড়া করব তোমাকে মারার জন্য!" রাগে থরথর করে কাঁপছেন চৌধুরী সাহেব। নিজ স্ত্রীকে খুন করিয়ে আদিবাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। যেন সমাজে কারো কাছে এটা দোষনীয় মনে না হয়।

"আমাকে ট্রেস করতে পারা এতো সহজ নয়। আর আমি তো কাউকে খুন করি নি। এই ছোট কাজটা তো অন্যদের দিয়ে করিয়ে নিয়েছি!

আমার মনে হয় মি. সাব্বির! আপনি অহেতুক কথা বলে সময় নষ্ট করছেন। তার চেয়ে বরং ডেস্কের উপর রাখা রিভলবারটা দেখুন চিনতে পারেন কি না?"

"এটা তো আমার রিভলবার। বাসার সেইফ বক্সে থাকে। এখানে আসলো কিভাবে?"

"কিভাবে আসলো এটা মূল কথা নয়। মূল কথা হচ্ছে এটাই কিন্তু মার্ডার উইপন!"

"আমার ব্যাক্তিগত লাইসেন্স করা রিভলবারটা হচ্ছে মার্ডার উইপন!" কথাটা বলে নিজেকে এ কথাটা বিশ্বাস করাতে হচ্ছে তার। স্ত্রীর জন্য মৃত্যু পরোয়ানা জারী করে তিনি নিজেই এখন মরতে যাচ্ছেন। সাথে আদিবাকে তো হারিয়েছেনই।

"জ্বী, হ্যাঁ। আপনার রিভলবার এটা।

স্ত্রী ছাড়া অন্য এক মেয়ের সাথে অবৈধ সম্পর্ক আছে বিশিষ্ট স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী সাব্বির চৌধুরীর। সেই মেয়ে আপনাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে যে, আপনার স্ত্রীকে সবকিছু বলে দিবে। আপনি ব্যক্তিগত রিভলবার দিয়ে ভয় দেখিয়ে তার মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু রাগে দিশেহারা হয়ে তার মাথায় আঘাত করে খুন করেন তাকে। এতোটুকুই তো যথেষ্ট আপনাকে খুনি প্রমাণের জন্য।"

"আদালতে আমার উকিল আমাকে বাঁচিয়ে দিবে!"এসি অন থাকার পরও ঘামাচ্ছেন মি.চৌধুরী।

"এভাবে বেঁচে থেকেই বা কী করবেন? পত্রিকার হেডিং হবে 'পরকীয়াসক্ত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাব্বির চৌধুরীর হাতে খুন তার প্রেমিকা!'

আপনার স্ত্রী আগামীকালই ডিভোর্স দিয়ে দিবে আপনাকে। জেলে না যেতেই আপনার কোম্পানির শেয়ার মূল্য কমে যাবে। যাবতীয় ব্যাবসা-বাণিজ্য একে একে বন্ধ হতে শুরু করবে। যে যার মতো লুটপাট করে খাবে।

যাবজ্জীবন না হলেও বাকী জীবনে সবার চোখে একজন পরকীয়াসক্ত খুনি হিসেবে কাটাতে হবে আপনাকে। "

দাড়ানো থেকে হাটু গেড়ে বসে পড়েছেন সাব্বির চৌধুরী। নিজ চোখে তিনি তার দুঃজনক ভবিষ্যত পরিণতি দেখতে পাচ্ছেন। এক সময়ের কুটিল ও উপস্থিত বুদ্ধির জন্য প্রসিদ্ধ সাব্বির চৌধুরী নিজেকে বাঁচানোর কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না।

হঠাৎ উন্মাদের হাসতে লাগলেন তিনি। "তুমি আমার ইনসাফ করার কেউ না দুই টাকার কন্ট্রাক্ট কিলার!' কথাটা বলে রিভলবারটা তার মাথায় ধরে ট্রিগারটা চাপ দিলেন।

বিকট আওয়াজে আমার কানের পর্দা ফাটার উপক্রম হলো। আমি শুধু একটা কথাই বললাম, "ইনসাফ!"

আদিবা চোখ খুলে তাকালো। জ্ঞান ফিরেছে তার। মাথাটা কেমন জানি ভার ভার আর ঘরটা অন্ধকার লাগছে তার কাছে। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে সম্ভবত।

- Robert Burton Robinson এর Justice অবলম্বনে।

লেখক পরিচিতি  
লিখেছেনঃ মাহদী শেখ 

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: