Header Ads

মার্স ২০২০ এর প্যারাসুট পরীক্ষা সম্পন্ন!

মার্স রোভার কিউরিওসিটির পরে মার্স-২০২০ নামক নতুন আরেকটি রোভার 'লালগ্রহ' মঙ্গলে পাড়ি দেবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামি ২০২০ সালের জুলাইয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র NASA এটিকে উৎক্ষেপণ করবে। মার্স রোভার তৈরির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে NASA। মঙ্গলগ্রহে জলের সন্ধান আগেই পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পানি থাকলে, সেখানে প্রাণও থাকতে পারে। তাই NASA-র মার্স রোভারের এবারের উদ্দেশ্য, লালগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের হাতে প্রমাণ নিয়ে আসা।
জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটোরিতে এর নির্মাণ কাজ চলছে । ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মঙ্গলের মাটিতে ছোঁবে মার্স রোভার।

মার্স ২০২০ এর প্যারাসুট পরীক্ষা সম্পন্ন!

NASA-র তরফে জানানো হয়েছে, লালগ্রহের মাটি গবেষণা করে দেখা গেছে, মঙ্গলে কোনো এক সময় এমন পরিবেশ ছিল, যা মাইক্রোবায়াল লাইফের অনুকূল। ২০২০-র রোভার মঙ্গলে মাটি পরীক্ষা করে রিপোর্ট পাঠাবে, যা থেকে বোঝা যাবে সত্যিই সেখানে প্রাণ রয়েছে কিনা। NASA-র মার্স প্রোজেক্টের গবেষক জিওফ্রে ইয়ডারের কথায়, 'এই মঙ্গল অভিযান NASA-র ইতিহাসে মাইলস্টোন হতে চলেছে। এবারেই প্রমাণ হয়ে যাবে, লালগ্রহে প্রাণ আছে না নেই। একে ল্যান্ডিং এর জন্য তিনটি প্রাগৈতিহাসিক স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে । তবে চূড়ান্ত সাইট এখনো নির্বাচন করা হয় নি । মঙ্গলের উত্তর-পূর্বের সাইট্রিস অঞ্চল যেখানে মঙ্গলের প্রাগৈতিহাসিক ভু-গঠন পর্যবেক্ষণ করা যাবে । এখানে কিছুটা ঢালু বিধায় পানি জমতে পারত, ফলে প্রান বিকাশের সুযোগ ছিল । আরেকটি স্পট হল জেযারো ক্রাটার বা খাঁদ । এই খাদটি বেশ গভীর। তাই মাটি বেশি ড্রিল না করেই প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে ! শেষ সম্ভাব্য সাইটটি হল কলম্বিয়া হিল । এটি একটি উষ্ণ প্রসবন ছিল । তাই টিন সাইটের মধ্যে সবচাইতে আদর্শ স্থা এটি।

শুধু প্রাগৈতিহাসিক জীবন নয় , বর্তমানেও এইসব স্থানের মাটিতে আণুবীক্ষণিক প্রান থাকতে পারে। তাছাড়া মার্স ২০২০ রোভার মঙ্গলের শিলা পরীক্ষা করে নমুনা সংগ্রহ করে তার তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে । এমনকি মার্স ২০২০ কে পৃথিবীতে ফেরতও নিয়ে আসা হতে পারে। এছাড়া মনুষ্য কোন মিশন শেষে কিভাবে পৃথিবীতে ফেরত আসবে তার জন্য জ্বালানীরও খোঁজ করবে ।'প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১২ সালে শেষবার কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে পাঠিয়েছিল NASA। তবে এবারের অভিযানে কম খরচে কতটা উচ্চমানের মঙ্গল অভিযান করা যায়, সেই চেষ্টাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র।চূড়ান্ত পরীক্ষার পরই ২০২০-তে তা পাঠানো হবে মঙ্গলে।

গেল সপ্তাহে মার্স ২০২০ ল্যান্ডিং কোরানোর জন্য সুপারসনিক প্যারাসুট টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে । মঙ্গলের মহাকর্ষ পৃথিবীর মাত্র ৩৮ শতাংশ .যে কারনে একে পৃথিবীতে মুক্ত ভাবে পতনশীল কোন বস্তুর মত করে ল্যান্ডিং করানো যাবে না । এতে পুরো রোভারটি ধ্বংস হয়ে যেতে পাড়ে । মঙ্গলে ল্যান্ডিং এর সময় গর গতিবেগ হল ১২০০০ মাইল বা সেকেন্ডে ৫.৪ কিলোমিটার । তাই অতি দ্রুত প্যারাসুট খোলার বিকল্প নেই । তাই সুপারসনিক গতির এই প্যারাসুট কোন রোভার ল্যান্ডিংয়ের এর কাজে ব্যাবহৃত হয় । পূর্বেও কিওরিউসিটির ক্ষেত্রেও এমন সুপারসনিক প্যারাসুট ব্যাবহার করা হয়েছিল । তবে এবার একে কিছুটা উন্নত করা হয়েছে এবং আরও উন্নয়নের চেষ্টা চলছে । ভুমি থেকে ৫১ কিলোমিটার উচুতে প্যারাসুটটি খোলা করা হলে ৪২ সেকেন্ড পরে এটি ৪৬ কিলোমিটার উচ্চতায় আসে। প্যারাসুটটি শব্দের ১.৮ গতিতে খুলেছিল ! প্যারাসুটটি ক্যালিফোর্নিয়ার ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিন পশ্চিমে পতিত হয়েছিল । এ প্রসঙ্গে জেপিএলের পরিচালক ক্লার্ক বলেন, তারা ধারনার চাইতে বেশি সফলতা অর্জন করেছেন এবং এই পরীক্ষায় মঙ্গলে প্যারাসুটটি কিভাবে আচরন করবে তা আমরা বুঝতে সক্ষম হয়েছি ! "

তথ্যঃ https://www.jpl.nasa.gov/news/news.php?feature=6999

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: