Header Ads

কমিকবুক ক্যারেক্টার অরিজিনঃ নাগরাজ (রাজ কমিকস)

“সুপারহিরো” এই শব্দটা দেখলে সবার আগে যে দুটো শব্দ আমাদের মনে আসে তা হলো ডিসি আর মারভেল।পুরো বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটো কমিকবুক হাউজ হলো ডিসি কমিক্স আর মারভেল কমিক্স।সুপারহিরো হিসেবে সবার মনে তাদের তৈরী করা ক্যারেকটার গুলোই জায়গা করে ইয়েছে।তবে এ দুটো কম্পানীর বাইরেও অনেক কমিক বুক হাউজ রয়েছে।যদিও সেগুলোর কোনোটাই এদুটোর মতো এতোটা পপুলার নয়। পশ্চিমা সুপারহিরোদের যেভাবে চিনি,আমাদের সাউথ এশিয়ার সুপারহিরোদের কিন্তু আমরা সেভাবে চিনি না।বেশ কয়েকদিন ধরে আমি সাউথ এশিয়ান সুপারহিরোদের খুজছিলাম।বাংলাদেশে ঢাকা কমিক্সের রিশাদকে পেয়েছি,মাইটিপাঞ্চ স্টুডিওর মিস্টার সাবাশ,মিস সাবাশকে পেয়েছি।পাকিস্তানে এইচএস কমিক্সের পাকিস্তানম্যান আর পাকিস্তান গার্ল পেয়েছি।ইন্টারনেটে এই দুইদেশের এই পাঁচ জন কমিকবুক সুপারহিরোকেই পেয়েছি শুধু।কিন্তু যদি ইন্ডিয়ার কথা ধরি,তাহলে কিন্তু সুপারহিরোদের তালিকাটা বেশ বড় হবে।ইন্ডিয়ান সুপারহিরোদের সম্পর্কে বেশ ডিটেইলস বর্ননা পেয়েছি অন্তর্জালে।তাই ইন্ডিয়ান সুপারহিরোদের দিয়েই লেখা শুরু করছি।যতটুকু বুঝেছি ইন্ডিয়ান সুপারহিরোদের মধ্যে রাজ কমিক্সের ঘরেই বেশির ভাগ সুপারহিরোর বাস।তাই আজকে শুরুটা করছি তাদের ক্যারেকটার নাগরাজকে দিয়েই।পরবর্তীতে অন্যান্য ক্যারেকটার গুলোকে নিয়েও লেখার চেস্টা করবো।

কমিকবুক ক্যারেক্টার অরিজিনঃ নাগরাজ (রাজ কমিকস)

কমিকবুক ক্যারেকটার অরিজিনঃ নাগরাজ (রাজ কমিক্স)
পুরো নামঃ নাগরাজ
ছদ্মনামঃ রাজ,নাগরাজ শাহ

নাগরাজ হিন্দি শব্দ,এর অর্থ সাপেদের রাজা।নাগরাজ চরিত্রটি মিথোলজিক্যাল ক্যারেকটার ইচ্ছেনাগ ও বিষমানুষ্য (vishmanushya) থেকে অনুপ্রানীত বলে ধারনা করা হয়।নাগরাজকে প্রথম দেখা যায় ১৯৮৬ সালে।নাগরাজ ব্রহ্মান্ড রক্ষক,পঞ্চনাগ সহ বিভিন্ন দলের সাথে দেখা যায়।নাগরাজ ব্যাক্তিগত জীবনের প্রথম দিকে রাজ ও পরবর্তিতে নাগরাজ শাহ নামটি ব্যাবহার করে থাকে এবং একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে।গোপন তথ্যে জানা যায় চ্যানেলটির মালিক সে নিজেই!
পরশুরাম শর্মা তৈরী করেছিলে নাগরাজ ক্যারেকটারটি,একেছিলেন সঞ্জয় অশ্মথপুত্র।

ক্যারেকটার বায়োগ্রাফিঃ


বহু বহু বছর আগের কথা,তখন দেব দেবতারা অবাধে পৃথিবীতে আসতো,ঘুরেফিরে বেড়াতো।তখন তক্ষকনগর নামক এক রাজ্যের রাজা ছিলেন তক্ষকরাজ ও রানী ললিতা।কিন্তু তাদের কোনো সন্তান ছিল না।ফলে রানী সবসময় অবসাদগ্রস্ত থাকতো।সন্তান না থাকার বেদনা সইতে না পেরে রাজা ও রানী দেবতা কালীজয়ীর কাছে একটি বাচ্চা প্রার্থনা করেন।কালীজয়ী তাদের প্রার্থনা মঞ্জুর করেন ও রানী গর্ভধারন করে।কিন্তু এতে রাজার ভাই নাগপাশা ব্যাপক ভাবে ক্ষেপে যায়,কারন সে ছিল সিংহাসনের একমাত্র উত্তরাধিরকারী।বাচ্চা পাবার খুশীতে রাজা ও রানী কালীজয়ীর উদ্দেশে পূজা রাখে।কিন্তু নাগপাশা সেখানে একটি মৃত বেজি রেখে দেয়(যেহেতু বেজি সাপেদের শত্রু আর কালীজয়ী সাপেদের দেবতা ছিল)।এতে দেবতা রাগ হয়ে রানীর পুরো শরীর বিষে ভরে দেয়।পরবর্তিতে রাজার প্রার্থনার ফলে যদিও রানী বিষমুক্ত হয়,কিন্তু সে মৃতবাচ্চা প্রসব করে।বিষের প্রকোপে তাদের বাচ্চা মারা যায় ও নীলশরীর নিয়ে জন্মায়।রাজ্যের নিয়ম অনুসারে তাকে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।কিন্তু বাচ্চাটা আসলে মৃত ছিলনা,তার শরীরের বিষ তাকে অচেতন করে রেখেছিল,আর সে বিষই তাকে বাচিয়ে রেখেছিল।সে ভাসতে ভাসতে একটি জঙ্গলে গিয়ে আতকে যায়,এভাবে অনেক বছর কেটে গেলে কালীজয়ী ইচ্ছেধারী সাপেদের দীপের রাজা মনিরাজ ও রানী মনিকাকে স্বপ্নে আদেশ করে বাচ্চাটাকে খুজে সুস্থ করে তুলতে।রাজা ও রানী তাকে খুজে আনে,এবং সেবা করতে থাকে।তারা নিঃসন্তান হওয়ায় তাকে দত্তক নেওয়ার পরিকল্পনা করে।কিন্তু এতে বিষন্ধর নামক এক তান্ত্রিকের মেজাজ গরম হয়ে যায়,কারন সে চাচ্ছিলো রাজার মৃত্যুর পর শাসনভার নিজের করতে।তাই সে বাচ্চাটাকে চুরি করে নিয়েযায়।কিন্তু কালীজয়ীর ভয় থেকে সে বাচ্চাটাকে না মেরে সে জঙ্গলেই রেখে আসে।কিন্তু ততদিনে বাচ্চাটার চেতনা ফিরে আসে,ও শরীরের রঙ স্বাভাবিক হয়ে যায়।সে জঙগলেই কাদতে থাকে,এবং এক মন্দিরের সাধু তাকে খুজে পায়। সাধু বাচ্চাটাকে প্রফেসর নাগমনির কাছে নিয়ে যায়,যে কিনা সেই জঙ্গলেই সাপের খোজ করছিল।সাধু নাগমনিকে মিথ্যা গল্প শোনায় যে বাচ্চাটা ইচ্ছাধারি নাগেদের আশির্বাদে জন্মেছে।নাগমনি বুঝতে পারে যে এটা মিথ্যা,কিন্তু তবুও বাচ্চাটাকে নিয়ে নেয়।পরে পরীক্ষা করে দেখে যে বাচ্চাটার রক্তে সংখ্য ক্ষুদ্র সাপ দৌড়ে বেড়াচ্ছে।বাচ্চাটা নাগমির কাছেই বড় হয় ও নাগরাজ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।বহু বছর পর নাগমনী বিশ্বের বড় বড় মাফিয়াদের জড়ো করে এবং নাগরাজকে এক ভয়ংকর অস্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করে,এবং তাকে হায়ারে দেওয়য়ার প্রস্তাব রাখে।এরপর নাগরাজকে সে প্রাচীন এক মন্দির থেকে দামী এক মূর্তি চুরি করতে পাঠায়।সে খুব সহজেই সেটা নিয়ে বেড়িয়ে আসে।কিন্তু বের হয়েই সে মুখোমুখি হয় বাবা গোরখানাথের।গোরখানাথ খুব সহজেই তাকে হারিয়ে দেয় এবং আবিস্কার করে যে নাগমনি তার মাথায় একটা ক্যাপসুল বসিয়েছে যা দিয়ে সে নাগরাজকে কন্ট্রোল করে।গোরখানাথ সেই ক্যাপসুল থেকে নাগরাজকে মুক্ত করে দেয়।নাগরাজ গোরখানাথের শিষ্যত্ব গ্রহন করে আর তার বিশ্বকে অপরাধ মুক্ত করার মিশনে নেমে পড়ে। এভাবেই আত্মপ্রকাশ ঘটে ইন্ডিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় সুপারহিরো নাগরাজের।

কমিকবুক ক্যারেক্টার অরিজিনঃ নাগরাজ (রাজ কমিকস)

এবিলিটিসঃ


নাগরজা অসংখ্য সুপারপাওয়ারের মিশেলে তৈরী।সে অমর,তার রয়ছে সুপারহিউম্যান স্ট্রেন্থ, হিলিং ফ্যাক্টর, সিক্সথ সেন্স,ইনফ্রারেড সেন্সিং। সে মার্শাল আর্ট এক্সপার্ট। হিপনোটিজমে পারদর্শী, শেপশিফটার, স্নেক বাইট, স্নেক স্পিট।

তাছাড়া তার টেলিপ্যাথি,টেলিকেনিসিস,টেলিপোর্টেশনের মতো সাইকিক ক্ষমতা গুলোও রয়েছে।

লেখাটা বিশাল হয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তাই আর বেশি লিখছি না।তবে আরো ডিটেইলস লেখা বাকি রয়ে গেছে। তার বন্ধু,শত্রু,পরিবার ও তার পাওয়ার গুলো নিয়ে ডিটেইলস জানতে হলে তার উইকি পেজটা দেখে আসতে পারেন।

ধন্যবাদ সবাইকে।

লেখক পরিচিতি

Hasan Tasin

লিখেছেনঃ HASAN TASIN 

যদি লিখাটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে অন্যদের সাথে শেয়ার করুন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: