Header Ads

নিকোলা টেসলার ভাবনা (পর্বঃ ০১)

নিকোলা টেসলাকে আমরা কম বেশি সবাই ছিনি । তিনি ছিলেন সাইবেরিয়ান আমেরিকান পদার্থবিদ, উদ্ভাবক, ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশলী, যন্ত্র প্রকৌশলী এবং ভবিষ্যবাদী ! তিনি আধুনিক পরিবর্তী তড়িৎ প্রবাহ ও তারবিহীন তড়িৎ পরিবহণ ব্যবস্থার আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত হলেও তাকে বলা হয় আমাদের প্রযুক্তির মুখ্য অবতার ! তাকে বলা হত "A man way ahead of his time" অর্থাৎ সময়ের চাইতে অগ্রগণ্য ! নিওন ও ফ্লোরোসেন্ট বাতি , টারবাইন ইঞ্জিন, ওয়ারলেস রেডিও, হেলিকপ্টারের আধুনিক ডিজাইন, টোরপেডোস, এক্স -রে কে সাধারন ব্যাবহারের উপযোগী করে তোলা সহ বিবিধ যুগান্তকারী কর্ম তিনি সম্পাদন করেছেন । মৃত্যুর সময় তার ৭০০ এরও অধিক পেটেন্ট ছিল ।

নিকোলা টেসলার ভাবনা (পর্বঃ ০১)

টেসলা ছিলেন মানবতার সেবায় নিবেদিতপ্রাণ এক মহতী আত্মা। তার একমাত্র প্রচেষ্টা ছিলো প্রকৃতির নিগুঢ়তম রহস্য আবিষ্কার করে মানুষের জীবনকে সহজতর করা। কোনো ব্যবসায়িক লক্ষ্য নিয়ে তিনি কখনো চালিত হন নি। বিদ্যুতকে অপেক্ষাকৃত সহজ ব্যবহার্য বস্তুতে পরিণত করে তিনি এক জাদুকরী পরিবর্তনের সূচনা করেন। বিস্ময়কর কল্পনাশক্তি আর অমূল্য মেধার দ্বারা যুগ যুগ ধরে কল্পনাপ্রবণ ও আত্মত্যাগী মানুষদের অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন নিকোলা টেসলা।যতদিন সত্যান্বেষী মন পৃথিবীতে থাকবে তারা খুজে ফিরবে টেসলাকে আর টেসলা বেঁচে থাকবেন আমাদের মাঝে । ১৮৯৯ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে কয়েকবার টেসলা তার সুদূরপ্রসারী ভাবনা নিয়ে সাংবাদিক জন স্মিথের সাথে আলোচনা করেন । একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বক্তব্য গুলি অপ্রকাশিত থাকলেও কয়েক বছর আগে তা প্রকাশিত হয়। নিচে তা তুলে ধরা হল...

সাংবাদিকঃ মিঃ টেসলা, আপনি তো বিশ্বব্রম্মান্ডিক আবিস্কারের দ্বারা খ্যাতির চূড়ায় আরোহণ করেছেন । আপনি কে, মিঃ টেসলা ?

টেসলাঃ তুমি সঠিক প্রশ্ন করেছ স্মিথ, আমি সঠিক সময়ে সঠিক উত্তর দিব !

সাংবাদিকঃ সবাই বলাবলি করে আপনি ক্রোয়েশিয়ার লিকা নামক এলাকা থেকে এসেছেন , যেখানে অধিবাসীরা বর্ধনশীল বৃক্ষ,পাথর আর তারাভরা আকাশের সাথে বাস করে ! তার বলে আপনার গ্রামের বাসার যেখানে আপনি জন্মেছেন তার নামকরন করা হয়েছে 'মাউন্টেন ফ্লাওয়ার' এর নাম অনুসারে , যা একটি চার্চ এবং জঙ্গলের সন্নিকটে !

টেসলাঃ সত্যই, যা বলেছে সব সত্য । আমি আমার সার্বিয়ান বংশ ও ক্রোয়েশিয়ান মাতৃভূমির জন্য গর্বিত !

সাংবাদিকঃ ভবিষ্যৎবাদীরা বলেন জে ,"বিংশ ও একবিংশ শতাব্দী নিকোলা টেসলার মাথায় জন্মেছে !" তারা conversely magnetic field(ইলেক্ট্রোম্যাগ্নেটিক কয়েল) নিয়ে উৎসবে মত্ত এবং ইন্ডাকশন মোটর নিয়ে পুজনীয় সঙ্গীত করছে ! এসবের উদ্ভাবক সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে তিনি নাকি জাল দিয়ে পৃথিবীর গভীর থেকে আলো ধরে নিয়ে আসছেন এবং তাকে স্বর্গ থেকে আগুন নিয়ে আসা যোদ্ধা বলে অভিহিত করা হচ্ছে । বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যাবস্থার এই জনক নাকি পদার্থ ও রসায়ন দ্বারা অর্ধ পৃথিবী শাসন করবেন । ইন্ডাস্ট্রি তাকে তাদের ত্রানকর্তা বলে মানবে এবং বাংকাররা তাকে সর্বোচ্চ হিতকারি ব্যাক্তি হিসেবে স্মরণ করবে । ল্যাবরেটরিতে টেসলা নাকি প্রথম বারের মত পরমাণুকে বিশ্লেষণ(ভাঙ্গা) করেছেন ।
একটি মারণাস্ত্র নাকি তৈরি করা হয়েছে, যা পৃথিবীতে ভূকম্পনের সৃষ্টি করে ! কৃষ্ণ ব্রহ্মাণ্ডিক বর্ণালী বা black cosmic ray নাকি উদ্ভাবন করা হয়েছে? পাঁচ প্রজন্ম তাকে মন্দিরে গিয়ে পুজা করবে, কারন তারা এম্পেদোক্লেসের উপাদানের গোপনীয়তা সম্পর্কে জ্ঞাত যা দ্বারা ইথার থেকে প্রাণের আবশ্যিক উপাদান আহরন করা যাবে?

টেসলাঃ হ্যা, এগুলো আমার কিছু উদ্ভাবনের মধ্যে কয়েকটা ! আমি একজন পরাজিত মানুষ । আমি সবচাইতে জনহিতকর যা করতে পারি, যা করতে চেয়েছিলাম , তার কিছুই সম্পাদন করতে পারি নি !

সাংবাদিকঃ কি এটা ? মিঃ টেসলা ...

টেসলাঃ আমি পুরো বিশ্বকে আলোকিত করতে চেয়েছিলাম ! দ্বিতীয় সূর্য তৈরি করার জন্য যথেষ্ট বিদ্যুৎ আছে । বিষুব বরাবর আলোর আধার থাকবে, ঠিক যেন শনির বলয়ের মত ।

মানুষ এখনো মহান এবং হিতকর কাজের জন্য প্রস্তুত নয় ! কলোরাডোর উষ্ণ প্রসবন থেকে আমি বিদ্যুৎ আহরন করেছিলাম । এ ছাড়াও আমরা অন্যান্য উৎসজনিত শক্তি লালন করতে পারি, যেমন সুচিন্তিত হিতকর মানসিক শক্তি ! যে গুলো আছে বাখ ও মোৎসার্টের গানের মধ্যে, বড় বড় কবিদের পঙক্তির মধ্যে ! পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগে আনন্দ, শান্তি ও ভালবাসার শক্তি লুকিয়ে আছে ! এগুলোর বহিঃপ্রকাশ ঘটে ভুমির উপরস্থ জন্ম নেওয়া ফুলের মাধ্যমে , পুষ্ট খাবার যা আমরা খাই তার মাধ্যমে আর সবকিছু যা মানুষের মাতৃভূমিতে পরিনত করে ! আমি অনেকগুলো বছর অতিবাহিত করে খেয়াল করেছি যে কিভাবে শক্তি মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে । গোলাপের সৌন্দর্য এবং খোশবু বা ঘ্রাণ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে বারে , আর সূর্য থেকে আলোকরশ্মি খাদ্য হিসেবে !

জীবনের অসীম সংখ্যক রূপ আছে , আর এটি বিজ্ঞানীদের কর্তব্য সমস্ত ধরনের পদার্থ থেকে তা খুজে বের করা ! তিন ধরনের জিনিস এখানে অত্যাবশ্যক । আমি সব সময় এগুলোর সন্ধানের চেষ্টা করি । আমি জানি আমি এগুলোকে কখনো খুজে না , কিন্তু এটুকো জানি, আমি কখনো হারও মানব না !

সাংবাদিকঃ কি এসব জিনিস?

টেসলাঃ এদের একটি হল খাদ্য সম্পর্কিত, এমন কিছু যা নাক্ষত্রিক বা পার্থিব শক্তির দ্বারা পৃথিবীতে ক্ষুদার্থদের অন্য সংস্থান করবে? এমন কিছু যা ওয়াইনের পানিয় দ্বারা মানুষের পিপাসা নিবারন করবে, যাতে করে তারা আত্মা শান্তি করে আনন্দ ও উল্লাস করতে পারে এবং বুঝতে পারে যে তা(এমন কিছু) ঈশ্বর কিনা !

আরেকটি ব্যাপার হল মানুষের জীবনব্যাপী দুষ্টুবুদ্ধি ও দুর্দশার বিনাশ । এগুলো মহাশূন্যের দুর্যোগের মত হঠাৎ করে মানুষের জীবনে চলে আসে ! এই শতকেই মানুষের এই রোগ(!) পৃথিবী থেকে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে !

তৃতীয়টি হলঃ মহাবিশ্বে কি কোন অতিরিক্ত আলো আছে? আমি এমন ধরনের এক নক্ষত্র আবিস্কার করেছি, যাতে(যেখানে) গনিত বা পদার্থবিদ্যার কোন সূত্র খাটে না , এবং কোন কিছুই পরিবর্তিত বলে মনে হচ্ছে না ! এই তারকাটি আমাদের ছায়াপথেই আছে , এটি থেকে এত আলো এমন ঘনত্বে আসে যে তা আপেলের চাইতে ছোট কোন গোলকে পুঞ্জীভূত করা যাবে, যা আমাদের সৌরজগতের চাইতেও ভরসম্পন্ন ! ধর্ম এবং দর্শন মানুষকে শিক্ষা দেয় যে, মানুষ যীশু,বুদ্ধ বা জরথুষ্ট্রের মত হতে পারবে । আমি যা বলতে চাচ্ছি তা হল এর চাইতেও উন্মত্ত এবং প্রায় সম্ভব নয়ই বলা চলে ! এটি হল মহাবিশ্বে এমন কিছু করা যাতে প্রত্যেকে যীশু,বুদ্ধ বা জরথুষ্ট্রের মত জন্মে ।

নিকোলা টেসলার ভাবনা (পর্বঃ ০১)

আমি জানি মহাকর্ষ সবকিছুকে নত্মুখি করে, আমার উদ্দেশ্য শুধু উড়ন্ত বস্তু(বিমান বা মিসাইল) তৈরি করা নয় , বরং প্রত্যেকে বিবেকের শিক্ষা দেওয়া যাতে করে তারা যে যার নিজের পাখায় উড়তে পারে । ......উপরন্তু , আমি বাতাস থেকে শক্তি আহরণের চেষ্টাই আছি । সেখানেই শক্তির প্রধান উৎস লুক্কায়িত আছে । মহাশূন্য তাকে বলা হয় যেখানে এমন পদার্থ অনুপস্থিত যা জাগ্রত অবস্থায় নেই !

এই গ্রহের কোন ফাকা স্থান, এমনকি মহাবিশ্বেরও কোন ফাকা স্থান নয়... বরং, ব্লাকহোলে, যা সম্পর্কে জ্যোতির্বিদেরা কথা বলাবলি করছে,। সেটায় হল শক্তি ও জিবনের সবচাইতে শক্তিশালী উৎস!

টেসলা তার সুদূরপ্রসারী ভাবনা নিয়ে সমসাময়িকের চাইতে কতটা অগ্রগামী ছিলেন তা তার এই বক্তৃতা থেকেই পাওয়া যায় !

তথ্যঃ http://electrical-engineering-portal.com/nikola-tesla-everything-is-the-light

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: