Header Ads

নিকোলা টেসলার ভাবনা (পর্বঃ ০২)

একবার আইনস্টাইন কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি হতে পেরে আপনার কেমন লাগে?’উনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘এর উত্তর আমার জানা নেই। আপনি নিকোলা টেসলা কে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন!’ টেসলার জ্ঞানের সীমা সম্পর্কে কেউ না বুঝলে মহামহিম আইনস্টাইন ঠিকই জানতেন । তবে টেসলা আপেক্ষিকতত্ত্বকে সর্বেসর্বা তত্ত্ব হিসেবে কোনসময় মেনে নেন নি । তার মতে আমরা যে আপেক্ষিক তত্ত্ব সম্পর্কে জানি তা পরিপূর্ণ নয় । প্রকৃত আপেক্ষিকতার অন্য মানে আছে । গতকালের সাক্ষাতকারের পরবর্তী অংশ নিচে তুলে ধরা হল...

নিকোলা টেসলার ভাবনা (পর্বঃ ০২)

সাংবাদিকঃ Valdorf-Astoria হোটেলের ৩৩ তলার যে ঘরে আপনি থাকেন তার জানালায় প্রত্যেকদিন সকালে পাখিরা আসে ।

টেসলাঃ প্রত্যেকটা মানুষের উচিৎ পাখিদের সাথে ভাব করা ! এটির কারন পাখিদের ডানা আছে । মানুষেরও একসময় ছিল, সত্যিকার ও দৃশ্যমান !

সাংবাদিকঃ স্মিলজানের ফেলে আসা দিনগুলোর পর থেকে আপনি আর উড়া থামান নি !

টেসলাঃ আমি একদম উচুতালা থেকে উড়তে চেয়েছিলাম; শিশুদের হিসেবনিকেশ হয়তবা ভুল হয় ! কিন্তু মনে রাখবে, যৌবনের ডানায় সবকিছু আছে যা মানুষের সারাজীবনের জন্য দরকারি !

সাংবাদিকঃ আপনি কি কখনো বিয়ে করেছেন ? কথিত আছে যে , আপনি কখনো মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হন না ! আপনার যৌবনের ছবি দেখে মনে হয় আপনি একজন হ্যান্ডসাম পুরুষ !

টেসলাঃ হ্যা, আমি তা করি নি ! দুই ধরনের দৃশ্য আছে; সর্বোচ্চ আবেগ এবং কিছুই নেই । মানুষের মাঝবয়স হল সভ্যতারও পুনর্যৌবন ! কিছু মানুষ ভাবে যে মেয়েরা তাদেরকে উৎসুক ও সাফল্যের জন্য ক্ষুদার্ত করে তোলে ! তারপরও, আমি দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছি ।

সাংবাদিকঃ আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীরা একটি জিনিস উল্লেখ করেছেন যে আপনি "আপেক্ষিক তত্ত্ব" এর ঘোর বিরোধী বা কিছু জিনিসের পরিবর্তন চান ! আপনি নাকি এক অদ্ভুত কথা বলেন যে, "পদার্থের কোন শক্তি নেই , সব কিছুই শক্তির তৈরি !" কই এই শক্তি ??

টেসলাঃ প্রথমেই কিন্তু শক্তি ছিল, তার পরে পদার্থ !

সাংবাদিকঃ মিঃ টেসলা, এটা তো অনেকটা এমন যে, আপনি বলেছেন জন্মের জন্য বাবা দায়ী , কিন্তু আপনাকে বলেন নি !

টেসলাঃ একদম ! বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের জন্ম সম্পর্কে কি সম্পর্কিত? পদার্থ এক ধরনের মৌলিক ও শাশ্বত শক্তি থেকে উৎপন্ন হয়েছে, আমরা জালে আলো বলি ! তারপর তা জ্বলে উঠল, এবং তারারা প্রতিয়মান হল, গ্রহ, মানুষ ,এবং সব্বকিছু এই পৃথিবীর আর মহাবিশ্বের । পদার্থ হল আলোর এক অসীমসংখ্যক বহুরূপের প্রকাশ , কারন শক্তি এর চাইতেও পুরোনো। সৃষ্টির ৪ টি নীতি আছে । প্রথমটি হল , সবকিছুর উৎস হল বিদঘুটে , এর গুপ্ত নকশা সম্পর্কে মানুষ কল্পনাও করতে পারে না , বা গাণিতিক ভাবে অনুমানও না ! আর এই নকশার টুকরোতে মহাবিশ্ব অবস্থান করছে !

দ্বিতীয় নীতি হল, অন্ধকার ছড়িয়ে দেওয়া , এটিই আলোর প্রধান ধর্ম ! ব্যাখ্যাতীত থেকে আলোয় রুপান্তরিত হওয়া ! তৃতীয়টি হল, আলোর প্রয়োজনীয়তা যা আলোর মুখ্যকর্ম হয়ে দারায় ! চতুর্থটি হল, কখনোই কোন শেষ বা শুরু ছিল না, প্রথম তিনটি সর্বদায় ঘটতে আছে এবং সৃষ্টি হল শাশ্বত !

সাংবাদিকঃ আপেক্ষিকতত্ত্বের বিরুদ্ধাচরনে আপনি নাকি এতদুর গিয়েছেন যে, আপনি আপনার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এই তত্ত্বের স্রষ্টার বিপক্ষে লেকচার দিয়েছেন !

টেসলাঃ মনে রাখবে , এটি কেবলমাত্র বক্রতা সম্পন্ন স্থান না, কিন্তু মানব মস্তিষ্ক অসীম ও শাশ্বতকে বুঝার মত ক্ষমতাসম্পন্ন না ! আপেক্ষিকতত্ত্ব যদি এর স্রষ্টাও ঠিকমত বুঝতেন তাহলে তিনি অমরত্ব লাভ করতেন । এমনকি এখনও পর্যন্ত শারীরিকভাবে, যদি তিনি পরিতুষ্ট থাকতেন !

আমি আলোর অংসবিশেষ , আর এটি হল সংগীত ।আলো আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে পরিপূর্ণ করে; আমি এটিকে দেখি, শুনি,শুকি, অনুভব ও চিন্তা করি । আলো নিয়ে চিন্তা করা মানে, আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নিয়ে ভাবনা । আলোর কনারা সঙ্গিতের লাইন লিখছে ! বজ্রপাতের একেকটা বোল্ট হল যন্ত্রসঙ্গীতবিশেষ ! আর হাজারটা বোল্ট বা বজ্রের সমষ্টি হল কনসার্ট।......আর এই কনসার্টের জন্য

আমি একটি বজ্রপাতের বল তৈরি করেছি, যা শোনা যাবে হিমালয়ের
তুষার শুভ্র শিখরে ! পিথাগোরাস ও গনিত সম্পর্কে গণিতবিদদের কখনো এবং কোনসময়ই এই দুইটি বিষয় অগ্রাহ্য করা উচিৎ নয় ! সংখ্যা এবং সমীকরন হল গোলকের গায়ে খচিত সঙ্গিতের চিহ্ন । যদি আইনস্টাইন এই চিহ্ন তথা এই সঙ্গীত শূনতে পেতেন, তাহলে তিনি কখনোই আপেক্ষিকতত্ত্ব প্রকাশ করতেন না ! এই শব্দের এক বিশেষ অর্থ আছে মনের প্রতি যে জীবনের এক অর্থ আছে, তা হল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিখুঁত ঐকতানে আছে , এবং এর সৌন্দর্য হল সৃষ্টির কারন ও এর উপরের প্রভাব ! এই সুরই হল নাক্ষত্রিক বেহেশতের এক শাশ্বত চক্র।

নিকোলা টেসলার ভাবনা (পর্বঃ ০২)

সবচাইতে ছোট্ট তারকাও কিন্তু উপাদানে পরিপূর্ণ , এবং এটিও ব্রহ্মাণ্ডিক ঐকতানে আছে । মানুষের হৃদয়স্পন্দন হল পার্থিব ঐকতানের অংশ । নিউটন বুঝতে শিখেছিলেন যে মহাবিশ্বের রহস্য লুকায়িত আছে জ্যামিতিক বিন্যাস ও জ্যোতিষ্কদের গতিপথের মধ্যে ! তিনি বুঝতে শিখেছিলেন যে সবচাইতে মহান সুরের নীতি(রহস্য) এই মহাবিশ্বেই উপস্থিত আছে , বক্রতা সম্পন্ন স্থান হল বেসুর । বেসুর কিন্তু সঙ্গীত নয় । আইনস্টাইন কেবলমাত্র সময়ের একজন বার্তাবাহক যিনি কথা ও উন্মত্ততায় পরিপূর্ণ !

সাংবাদিকঃ আপনি কি গান শোনেন?

....চলবে(পরের পর্ব আগামীকাল)



লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: