Header Ads

বই রিভিউঃ থ্রি মাস্কেটিয়ার্স

বই রিভিউঃ থ্রি মাস্কেটিয়ার্স

বইঃ থ্রি মাস্কেটিয়ার্স 
লেখকঃ আলেকজান্ডার দ্যুমা

অনেকদিন ধরে বইয়ের সাথে কোন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারছি না। তাই ভাবলাম কোন গল্পের বই পড়ে, পড়ায় মনোযোগ করা যায় কিনা। যেমনটা আগে করতাম।

এজন্য আলেকজান্ডার দ্যুমা'র একটা গল্পের বই হাতে নিলাম। পড়া শেষে মনে হল, এই বইয়ের একটা রিভিউ লেখা দরকার।

এমনিতেই নিরবিচ্ছিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে রোমাঞ্চ ফুটিয়ে তুলতে পারা তার লেখাগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য। জীবনের প্রথম দিকে নাটক রচনায় খ্যাতিলাভ করলেও পরবর্তী জীবনে তিনি উপন্যাস লেখায় হাত দেন। ঐতিহাসিক উপন্যাসক হিসেবে দ্যুমার রচনা বিশ্বের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ইতিহাসের মর্যাদা অটুট রেখে গল্প রচনায় দ্যুমার শক্তি অসাধারণ।

ফ্রান্সের অধিবাসী দ্যুমা'র বাবা টমাস আলেকজান্দ্রা দ্যুমা ছিলেন ততকালীন সম্রাট নেপোলিয়ঁর প্রীতিভাজন জেনারেল। অথচ, রাজনীতির কুচক্রে পড়ে তাকে রাজধানী ছাড়তে হয়।

ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে, গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করার ফলেই হয়ত তার লেখায় গ্রামের হতদরিদ্র যুবকদের দেশের প্রতি কিছু করার অদম্য ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।

থ্রী মাস্কেটিয়ার্স গল্পে এমনই এক যুবক দারতাঁয়া'র জীবনের কথা ফুটে উঠেছে।

মাস্কেটিয়ার্স হল রাজার বিশেষ প্রহরী দল। রাজ্যের মধ্যে এরা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। আর এদের মধ্যে আর্থস, পোর্থস এবং আরামিস নামক তিন বন্ধু ছিলেন, যারা বীরত্বে সবার শীর্ষে। তাদেরকে একত্রে থ্রী মাস্কেটিয়ার্স বলা হত। গ্রামের সাধারণ কিন্তু অস্ত্রচালনায় অসাধারণ দারতাঁয়া' এই মাস্কেটিয়ার্সদের দলে যোগ দিতে চেয়েছিল। যে কারণে সে গ্রাম ছেড়ে রাজধানীতে আসে তার বাবার বন্ধুর কাছে, যিনি ছিলেন মাস্কেটিয়ার্স দলের সেনাপতি।

গল্পের পটভূমি হল ইংরেজ -ফ্রান্স দ্বন্দ। কিন্তু গল্পের কাহিনী দ্বন্দ্বকে ছাড়িয়ে একজন গুপ্তচর নারী মেলেডিকে নিয়ে এগিয়ে যায়।

রাজধানীতে আসার পর ঘটনাক্রমে দারতাঁয়া'র সাথে মেলেডির পরিচয় হয়। মেলেডির হৃদয় কাড়া রুপের মোহে পড়ে তরুণ দারতাঁয়া। সরল মনে সে মেলেডিকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু মেলেডির গৃহপরিচারিকা দারাতাঁয়া'র বীরত্বে আকৃষ্ট হয় এবং সে দারতাঁয়াকে কামনা করে। যার ফলে সে দারতাঁয়াকে হত্যা করার জন্য মেলেডির চক্রান্ত ফাঁস করে দেয়। এতে মেলেডির সাথে দারতাঁয়ার শত্রুতা তৈরি হয়।

মেলেডি ছিল লোভি ও চতুর মহিলা। সে টাকার লোভে নিজের প্রথম স্বামীকে ত্যাগ করে দ্বিতীয় বিয়ে করে। ঘটনাক্রমে দ্বিতীয় স্বামি মারা যায় এবং তার দেবর তাকে বোনের মর্যাদা দিয়ে তার সমস্ত সম্পত্তি মেলেডির মেয়ের নামে লিখে দেয়। মেলেডি টাকার লোভে দেবরকেও হত্যা করার পরিকল্পনা করে। দেবর এসব কথা জানতে পেরে তাকে শায়েস্তা করার জন্য ভাবতে থাকে।

এদিকে দারতাঁয়াও তাকে খুজতে থাকে। অন্যদিকে গুপ্তচরের কাজের জন্য মেলেডির ইংল্যান্ড যাওয়ার প্রস্তাব আসলে সে তা লুফে নেয়। এজন্য একদিন গোপনে সে ইংল্যান্ড যাওয়ার লঞ্চে আরোহণ করে।
তার দেবর তখন ইংল্যান্ড এ ছিল এবং সে মেলেডিকে গোপনে মাঝপথ থেকে অপহরণ করে তার গোপন আস্তানায় আটকে রাখে। কিন্তু চতুর মেলেডি তার রূপ ও অভিনয় ব্যবহার করে পাহারাদার এর মাধ্যমে পালিয়ে আবার ফ্রান্সে ফেরত আসে।

কিন্তু তবুও তার শেষ রক্ষা হয় না। দারতাঁয়া ও তার প্রথম স্বামী একত্র হয়ে তাকে ধরে ফেলে এবং মৃত্যু দানের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পাপ থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করে।

অন্যদিকে ফ্রান্স-ইংরেজ যুদ্ধ শেষ প্রান্তে।

যুদ্ধ শেষে মত্রীর দরবারে দারতাঁয়ার ডাক পড়ে। সেখানে তাকে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জবাবদিহি করে এবং এও জানায় যে মেলেডি দু পক্ষেরই গুপ্তচর ছিল। ইংরেজদের কাছে ফ্রান্সের তথ্য পাচার করত।
মন্ত্রী তার বীরত্বে খুশি হয়ে তাকে মন্ত্রীর রক্ষীবাহিনীর লেফটেনেন্ট পদে নিয়োগ দেন।
অবশেষে দারতাঁয়ার সৈনিক হওয়ার ইচ্ছা পূর্ণতা পায়।

ফ্রান্স ও ইংরেজ যুদ্ধচলাকালীন পটভূমিতে গল্প এগিয়ে গেলেও কাহিনীতে যুদ্ধের কোন প্রভাব পড়েনি। যেমনটা দেখা যায়, আমাদের "রক্তাক্ত প্রান্তর" নাটকে।

একটা যুদ্ধকে পটভূমি করে লেখা গল্পে যুদ্ধের এতটুকুও দামামা বাজার শব্দ পরিলক্ষিত হয় নি। যে দিক দিয়ে লেখক তার স্বতন্ত্র মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

লেখক পরিচিতিঃ
লিখেছেনঃ Muhammod Mahdi Hasan Saikot

এমন আরও বইয়ের নিয়মিত রিভিউ পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। প্রতি সপ্তাহের শনি এবং মঙ্গলবারে আমাদের বুক রিভিউ সিরিজের লিখা পাবলিশ হয়ে থাকে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে যোগ দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে ও লাইক দিয়ে রাখুন ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: