Header Ads

গুজব খণ্ডনঃ আসলেই কি ইনি ভবিষ্যতের টাইম ট্রাভেলার?

গুজব খণ্ডনঃ আসলেই কি ইনি ভবিষ্যতের টাইম ট্রাভেলার?

মানুষ প্যাটার্ন খোঁজে , সবকিছুতেই মানুষ অন্য কিছু খোঁজার চেষ্টা করে অন্তত অন্য কিছুর গন্ধ পেলে আমাদের মস্তিষ্ক Endorphin, Oxytocin, Serotonin, and Dopamine সবই ছাড়ার চেষ্টা করে ৷ যেমন অমুক বাড়ির তমুক সেইদিন কি করেছে সেটা নিয়ে ধারণা বা আলোচনার সময় আমরা তৃপ্তি পাই মস্তিষ্কে অথবা আকাশে গাছে ফল মুলে কারো ছবি নাম দেখে তৃপ্তি পাই তার কারণ অবশ্য Apophenia ৷ 

তেমনি একটি বিষয় হচ্ছে কন্সপিরাসি , আমরা যেকোনো কিছুতে অন্য কিছু খোঁজার চেষ্টা করি আর সেজন্যই এলিয়েন , UFO , টাইম ট্রাভেলার এর মতো Conspiracy theories গুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পরে ৷ টাইম ট্রাভেল হয়েছে এবং মানুষ অতীতে গিয়েছে এমন ব্লগ , পেজ , ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে সয়লাব আর মানুষ তা গিলে গিলেই খায় ৷ 

টাইম ট্রাভেলার নিয়ে বিখ্যাত একটি ছবি হচ্ছে 1941 হিপস্টার ছবিটি ( প্রথম ছবি ) এই ছবি দেখিয়ে দাবি করা হয় যে ওই সময়ে অন্য সব মানুষের ভিড়ে এই লোক দেখতে একদম আমাদের সময়কার মানুষ মনে হয় , কেমন চশমা কেমন গেঞ্জি এর মধ্যে হাতে ছোট ক্যামেরা অতএব এই লোক নিশ্চই ভবিষৎ থেকে ১৯৪১ সালে ফেরত গিয়েছিলো ৷ অথচ এই লোক সম্পর্কে ইন্টারনেট ঘাটলেই সব তথ্য বেড়িয়ে আসতো ৷ নিচে এই লোকের টাইম ট্রাভেলার দাবি গুলো এবং এর আসল কারণ গুলো দেখি।

গুজব খণ্ডনঃ আসলেই কি ইনি ভবিষ্যতের টাইম ট্রাভেলার?

প্রথম দাবি : এই ভদ্র লোকের সানগ্লাস যা কিনা ১৯৪১ সালে ছিল না!

উত্তর :
ওই সময় এই গ্লাস গুলো সচরাচর না হলেও ছিল ৷ স্নো এর মধ্যে সূর্যের আলোর প্রতিফলন থেকে রক্ষা পেতে এগুলো আগেই বানানো হয়েছে , তখনকার সময় যারা স্নো স্পোর্টস গুলোর সাথে জড়িত ছিল তারা প্রায়ই ব্যবহার করতো , নিচে ওই সময়ের আরেকটি মুভির নায়িকার চোখে ঐরকম সানগ্লাস দেখা যাচ্ছে ৷

দ্বিতীয় দাবি : ওই লোকের প্রিন্ট করা টি শার্ট

উত্তর :
খেয়াল করলে দেখা যায় ওই লোকের টি শার্টে যে লোগো লাগানো তা হচ্ছে " M " এবং বিশেষ আকৃতির M , যেহেতু ভদ্র লোক কানাডার অতএব সেই সময়ের আইস হকি টীম গুলো খোঁজলে দেখা যায় যে মন্ট্রিয়েল ম্যারন্স নামক একটি হকি দল ছিল আর যাদের লোগো অবিকল ঐ লোকের শার্টের প্রিন্টের মতো ৷ অর্থাৎ বেচারা শুধুমাত্র তার প্রিয় দলের শার্ট পরে ছিল ৷ 

তৃতীয় দাবি : মোটা মোটা ক্যামেরার যুগে হাতের মধ্যে ঐ ক্যামেরা কেমনে?

উত্তর :
কোডাক ১৯৪০ শাল থেকে ছোট ক্যামেরা তৈরী শুরু করে , অর্থাৎ বেচারার হাতে নতুন নতুন কেনা কোডাকের ক্যামেরা ছিল ৷ ( পয়সাওয়ালা ছিল এটাও বলা যায় ) ৷

ইন্টারনেটে সবকিছু দেখেই বিশ্বাস করতে হয়না ৷ কেউ কিছু দাবি করলে সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন , সেটা নিয়ে জানার চেষ্টা করুন ৷ বেশিরভাগ সময়ই উত্তর পেয়ে যাবেন , আর না পেলেই ধোঁয়াশা কিছু মানতে হবে সেটা জরুরি না ৷

লিখেছেনঃ Sujan K B
প্রথম প্রকাশিতঃ বিজ্ঞানযাত্রা গ্রুপ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে দয়া করে অন্যদের সাথে শেয়ার করে বাকিদেরকেও জানার সুযোগ করে দিন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ লিখাটি পড়ার জন্য।

No comments: