Header Ads

Quantum Entanglement (কোয়ান্টাম এন্টেঙ্গেলমেন্ট) কী?

দুইটি বল ও দুইটি বাক্স কল্পনা করুন । দুইটি বলের একটি সাদা ও একটি কালো । দুইটি বলকেই দুইটি আলাদা বাক্সে বন্দি করুন । এরপর একটি বাক্স আপনার বন্ধুকে দিয়ে দিন । এর পর আপনি যখন আপনার কাছের রক্ষিত বাক্সটি খুলবেন নিশ্চয় বুঝতে পারবেন যে কোন রঙের বলটি আপনার কাছে আছে । ধরুন আপনার কাছে কালো বলটি আছে,তাহলে আপনি এমনি বুঝে যাবেন যে আপনার বন্ধুটির কাছে সাদা বলটি আছে । সে সুদান,ওমান,আন্ড্রোমেডা বা দৃশ্যমান মহাবিশ্বের ওপারে থাক , আপনি আপনার বলের রঙ দেখেই কিন্তু বুঝে গেলেন তার কাছে কোন বলটি আছে । অর্থাৎ, আপনার বলটি ব্যাবহার করে আপনি অপর একটি বলের(স্বাধীন কিন্তু তথ্যে সংযুক্ত) তথ্য পেয়ে গেলেন । আর আপনার মাথায় যে তথ্যটি এসেছে তা আলোর গতির চাইতেও দ্রুত গতিতে ! শুধু দূরত্বই না সময়ের ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য !

Quantum Entanglement (কোয়ান্টাম এন্টেঙ্গেলমেন্ট)

আইনস্টাইন এমনি এক কণাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য Thought experiment কে বলেছিলেন "Spukhafte Fernwirkung" বা, "Spooky action at a distance" । তবে তার বেগকে স্বীকৃতি দেন নি। তার মতে প্রকৃতির এক অজানা কারনে এক কণার প্রভাব অধিক দুরত্বে/সময়ে অবস্থিত কণার উপর পরে । অবশ্য এর কারন ছিল তার আপেক্ষিকতার স্বীকার্য লঙ্ঘন ! অর্থাৎ "আলোর চাইতে কোন কিছুর গতিই বেশি হতে পারবে না" এই স্বীকার্যটিকে এই তথ্য পরিবহন ঘটনাটি লঙ্ঘন করে । কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় এই ঘটনাটি কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট (Quantum entanglement) নামে পরিচিত ।কোয়ান্টাম জগতে এন্টেঙ্গেলমেন্ট বলে একটা অনেকটা ব্যাখ্যাতীত বাস্তবতা আছে। এন্টেঙ্গেলড-যুগল (entangled pair) কণিকা দুটোর মধ্যে সবসময় একটা অচ্ছেদ্য যোগাযোগ থাকে; যেখানে এদের কোনো একটির উপর কোনো গুণের(property) পরিমাপ করা হলে তৎক্ষণাত যুগলের অন্য কণাটির কোনো অনুরূপ গুণের পরিমাপ ঠিক হয়ে যায়, যদিও বা কণা দুটি বিশাল বা অজানা দূরত্বে অবস্থিত।যেমন ধরুন এনট্যাঙ্গেল্ড দুটি কণার স্পিন আপনি জানেন তাহলে অপরটি কোথায় অবস্থিত তা না জানা সত্বেও আপনি তার স্পিন জানতে পারবেন । ধরুন একটি কনা ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে বা counter-clockwise এ স্পিন করছে । তাহলে এর entangled কনা clockwise স্পিন করবে।

সহজ ভাষায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স অনুযায়ী একজোড়া(হিসেবের সুবিধার্থে ১ জোড়া ধরলাম) মৌলিক কনিকা যদি এমন ভাবে থাকে যে তাদের মোট স্পিন শূন্য হয় অর্থাৎ একটি যদি হয় ক্লকওয়াইজ অপরটি অ্যান্টি-ক্লকওয়াইজ(যেমন দুটি কণার একটির স্পিন +১/২ এবং অপরটি -১/২ এবং যোগফল +১/২-১/২ =0) এবং এদের একটির অবস্থা বা স্পিন পরিবর্তন হলে অন্যটিও পরিবর্তন হবে সাথে সাথে তাতে কনা দুটি পরস্পর থেকে যতদূরেই অবস্থান করুক না কেন তখন তাদেরকে এন্টাঙ্গেল্ড(entangled) বলা হবে। অর্থাৎ, বহিঃস্থ বল প্রয়োগে যদি কোন কণার স্পিন ঘড়ির দিক থেকে ঘড়ির বিপরিত দিকে হয়ে যায়, তাহলের এর এন্টাঙ্গেল্ড কণাটির স্পিন ঘড়ির বিপরীত থেকে ঘড়ির দিকে হবে ! আর এই কোয়ান্টাম তথ্য সরবরাহ ও পরিবর্তন হয় আলোর গতির চাইতেও দ্রুততর !

শুধু আলোর চাইতে দ্রুত বললেও ভুল হবে । এই তথ্য পরিবহন হয় মাঝের কোন দূরত্ব অতিক্রম না করেই । শূনতে অদ্ভুত লাগতে পারে, কিন্তু এটাই চরম বাস্তবিক সত্য ! কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের অনেক রহস্যই আমাদের অজানা । কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট বিষয়ে আমরা বিস্তারিত আগামিকাল পোস্ট দিব । কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম কম্পিউটার বের করার চেষ্টা করছেন । এই ধরনের কমিউটারের কোড ব্রেক করা হ্যাকারদের পক্ষে বেশ কঠিন হবে । কারন কেবলমাত্র entangled কনার দ্বারায় তথ্য পরিবহন সম্ভব হবে । শুধু তাই না যেহেতু কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের গতই আলোর চাইতে দ্রুততর তাই কোয়ান্টাম কম্পিউটার যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে । চীন বেশ কিছুদিন আগে কোয়ান্টাম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে । কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্টের এই স্যাটেলাইটটিও প্রায় ১০০% নিরাপদে তথ্য পরিবহন করে ।

কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট স্বপ্ন দেখাচ্ছে টেলিপোর্টেশন ও সময় ভ্রমনের । আজকে এত কথা বলা কেবল সময় ভ্রমন সংক্রান্ত সেই বিখ্যাত গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স সমাধানের জন্য। আমরা এতক্ষণে শিখলাম যে এন্টাঙ্গেল্ড কনা যত দুরত্ত্বেই অবস্থান করুক না কেন একটির প্রভাব আরেকটির উপর পরবে । বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করেলেও তাইই ঘটবে । আর বিলিয়ন আলোকবর্ষ বলতে শুধু দূরত্বই বুঝায় না বরং একটা আলাদা সময়ও বুঝায় । অর্থাৎ,কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট কাজ করে দুইটি আলাদা সময়ের ক্ষেত্রেও । আইন্সটাইনের সাধারন আপেক্ষিকতা অনুযায়ী আমরা সময়ের ব্যাখ্যা আগেই জেনেছি । আর পদার্থবিজ্ঞানের নীতি অনুযায়ী সময়কে যেকোনো দিকে চালনা করা সম্ভব । আমাদের মহাবিশ্বও আবার ঠিক বিগ বাংয়ের অবস্থাতে ফেরত যেতে পারবে কেবল যদি তার ভর-বেগ অক্ষুন্ন থাকে ।

দুইটি কনা দুই সময়েও অবস্থান করলে যেহেতু একটির উপর আরেকটির প্রভাব থাকে । তাহলে একটি সময়ের কণার গুন বা প্রোপার্টি পরিবর্তন করে আরেকটি সময়ের কণার গুন পরিবর্তন করা যাবে মধ্যবর্তী সময়ে অবস্থান না করেই । অর্থাৎ আপনি আপনার দাদুকে মেরে ফেললেও আপনি আপনার সময়ে থাকতে পারবেন । ধরুন আপনি কোন একটি কোয়ান্টাম গান ব্যাবহার করলেন । আর গুলিকে একটি কনা কল্পনা করুন । তাহলে এই গুলিটির প্রোপার্টি পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনার দাদুর সময়ের গুলিকে কন্ট্রোল করতে পারবেন । আর তার মাধ্যমে আপনি আপনার দাদুকে মেরে ফেললেও আপনি আপনার সময়ে ঠিকই উপস্থিত থাকতে পারবেন । এটি গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স সমাধানের পাশাপাশি অতীতে টেলিপোর্টেশনের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ।

তথ্যঃ 

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে দয়া করে শেয়ার করুন। এমন লিখা নিয়মিত পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: