Header Ads

মঙ্গলগ্রহে মানুষ (এখনও) থাকে না

মঙ্গলগ্রহে মানুষ (এখনও) থাকে না

রাতের আকাশে উজ্জ্বল লাল গ্রহটাকে তোমরা অনেকেই হয়তো দেখেছ। আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ হল শুক্র। তার ঠিক পরে আসবে মঙ্গল। আমাদের ভাষাতে মঙ্গল শব্দের অর্থ কল্যাণ, কিন্তু পশ্চিমের সভ্যতাতে অন্তত ওই লাল রং ঠিক কল্যাণের কথা মনে করাত না। আমরা যে গ্রহটাকে মঙ্গল বলি, তার গ্রিক নাম ছিল অ্যারেস। রোমানরা আবার তাকে বলত মার্স। অ্যারেস বা তার রোমান রূপ মার্স ছিল যুদ্ধের দেবতা। তাই ১৮৭৭ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী যখন দূরবীন দিয়ে মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেন, তখন তাদের নাম দেয়া হয় ফোবোস ও ডিমোস। এই নামে অ্যারেসের দুই সঙ্গী ছিল, শব্দ দুটোর মানে হল ভয় ও আতঙ্ক। তবে নাম যাই হোক না কেন, একদিন হয়তো এরাই আমাদের নতুন পথে নিয়ে যাবে। সে কথায় পরে আসব।

বিজ্ঞান তথা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে মঙ্গলের এক বিশেষ ভূমিকা আছে। খালি চোখে আমরা পৃথিবীকে ধরে ছ’টা গ্রহ দেখতে পাই। সূর্য থেকে দেখলে পৃথিবী তৃতীয় গ্রহ, মঙ্গল চতুর্থ। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর ঘুরতে সময় লাগে এক বছর আর মঙ্গল নেয় ৬৬৯ দিন। তার মানে আকাশে মঙ্গলকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যায় পৃথিবী। এর ফলে আকাশে আমরা দেখি যে মঙ্গল একদিকে যেতে যেতে হঠাৎ পেছনদিকে চলতে শুরু করে। একে বলে পশ্চাৎগতি। এই লেখাতে বড়ো করে ব্যাখ্যা করব না, লিঙ্কটাতে ক্লিক করলে যে ওয়েবসাইটে যাবে, সেখানে সুন্দর কয়েকটা অ্যানিমেশন আর ছবি দিয়ে বিষয়টা বোঝানো আছে। প্রাচীনকালে যখন মানুষ ভাবত পৃথিবী স্থির আর সবকিছু তার চারপাশে ঘুরছে, তখন মঙ্গলের (তার সঙ্গে বৃহস্পতি আর শনির) এই উল্টোদিকে যাওয়াটা ব্যাখ্যা করতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল। কোপার্নিকাস দেখালেন যে সূর্য কেন্দ্রে আর গ্রহরা তার চারপাশে ঘুরছে ধরে নিলে খুব সহজেই মঙ্গলের এই অদ্ভুত চলাফেরার কারণটা বোঝা যায়। তারপর বলতে হয় টাইকো ব্রাহের নাম, যিনি খুব যত্ন নিয়ে আকাশে মঙ্গলের গতিপথ মাপেন। তাঁর সেই তথ্যের উপর নির্ভর করে জোহানেস কেপলার গ্রহদের গতিবিধি সংক্রান্ত তাঁর বিখ্যাত তিনটে সূত্র দেন। আবার সেই সূত্রগুলো থেকেই আইজাক নিউটন তাঁর বিখ্যাত মাধ্যাকর্ষণের সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। বুঝতেই পারছ মঙ্গল গ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ আমাদের বিজ্ঞানে কতটা কাজে এসেছিল!

হাবল স্পেস টেলিস্কোপ থেকে মঙ্গলের আলোকচিত্র

মঙ্গলগ্রহ অন্যভাবেও আমাদের কৌতূহলকে জাগিয়ে তুলেছে। যে বছর ডিমোস আর ফোবোস আবিষ্কার হয়, সে বছরই ইতালির জ্যোর্তিবিজ্ঞানী জিওভান্নি শিপারেল্লি ঘোষণা করেন যে তিনি দূরবীন দিয়ে মঙ্গলগ্রহে canali দেখেছেন। ইতালিয় শব্দটার অর্থ হল channel বা খাত, ইংরাজি অনুবাদে তা ভুল করে হয়ে গেল canal অর্থাৎ খাল। পার্সিভাল লাওয়েল নামের এক বিজ্ঞানী ১৮৯২ সালে ঘোষণা করলেন খালগুলো কৃত্রিম। আর যায় কোথায়। চারদিকে হৈ হৈ করে খবর ছড়িয়ে পড়ল যে মঙ্গলগ্রহে সভ্যতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। টারজানের স্রষ্টা এডগার রাইস বারোজ এক ডজন গল্প লিখে ফেললেন মঙ্গলের অধিবাসীদের নিয়ে। বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান লেখক এইচ জি ওয়েলস তাঁর বিখ্যাত ‘ওয়ার অফ দি ওয়ার্ল্ডস’ উপন্যাসে মঙ্গলের অধিবাসীদের পৃথিবী জয়ের কাহিনি লিখলেন। সেই গল্প এতটাই বিশ্বাসযোগ্য হয়েছিলে যে একবার রেডিওতে তার নাট্যরূপ প্রচারের সময় বহু লোক সেটাকে সত্যি ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তোমরা কেউ কেউ নিশ্চয় হেমেন্দ্রকুমার রায়ের ‘মেঘদূতের মর্ত্যে আগমন’ বা প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘মঙ্গলগ্রহে ঘনাদা’ পড়েছ। তবে বিজ্ঞানীরা অধিকাংশই কিন্তু খালের কথাতে বিশ্বাস করতে পারেননি। তাঁদের দূরবীনে সেরকম কিছু দেখা যায়নি। তাছাড়া খুব শিগগিরি বোঝা গেল যে মঙ্গলগ্রহের বায়ুর চাপ পৃথিবীতে সমুদ্রতলে বায়ুচাপের একশো ভাগের এক ভাগের থেকেও কম। সেখানে জল তরল অবস্থায় খোলা জায়গায় থাকাই সম্ভব নয়, তা বাষ্প হয়ে উবে যাবে। জল একমাত্র বরফ অবস্থাতেই থাকতে পারে। তাই মঙ্গলে খাল খোঁড়া আর ভস্মে ঘি ঢালার মধ্যে কোনও তফাত নেই।

বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের ভেতরদিকের গ্রহদের সম্পর্কে যত খবর পেলেন, ততই বোঝা গেল যে কোনও গ্রহের সঙ্গে অন্য কোনও গ্রহের মিল খুব কম। বুধ বা শুক্র ভীষণ গরম, শুক্রের আবার বায়ুমণ্ডল ভীষণ ঘন। মঙ্গলের বায়ুচাপও পৃথিবীর তুলনায় কম, তাপমাত্রাও কম। কেন গ্রহে গ্রহে এত তফাত তা ঠিকঠাক বোঝার জন্য শুরু হল অভিযান। শুধু তো অন্য গ্রহদের বিষয়টা বোঝা নয়, আমাদের পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কী হতে পারে তা অনুমান করতেও সে জ্ঞান আমাদের কাজে আসবে।
প্রথম যে মহাকাশ যান মঙ্গলের কাছে পৌঁছোয়, তা হল আমেরিকার মেরিনার-৪। ১৯৬৫ সালে সে বাইশটা ছবি পাঠায়। তার থেকে আমরা বুঝতে পারি মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল আমরা যা অনুমান করেছিলাম, তা তার থেকেও বেশি পাতলা। মেরিনার-৬ ও ৭ একইভাবে আরও ছবি পাঠিয়েছিল। এরা সবাই কিন্তু মঙ্গলের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছিল। ১৯৭১ সালে প্রথম মঙ্গলের চারপাশে কক্ষপথে স্থাপিত হয় এক মহাকাশযান, মেরিনার-৯। মঙ্গল ছাড়াও ডিমোস ও ফোবোসের অনেক ছবি আমরা এই অভিযান থেকে পেয়েছিলাম। ১৯৮৮ সালে সোভিয়েত অভিযান ফোবোস-২ এবং ১৯৯৭ সালে নাসার মার্স গ্লোবাল সার্ভেয়র মঙ্গলের কক্ষপথে স্থাপিত হয়েছিল। ২০০১ সালে নাসা পাঠিয়েছিল মার্স ওডিসি। সব অভিযানের কথা এই লেখাতে দেয়া সম্ভব নয়। এই ওয়েবসাইটে তাদের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তোমরা পড়তে পার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া অথবা সোভিয়েত ইউনিয়ন ছাড়াও ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি এবং আমাদের ইসরো মঙ্গলে সফলভাবে রকেট পাঠিয়েছে।

এই মুহূর্তে মঙ্গলকে ঘিরে পাক খাচ্ছে ও নানা খবর পাঠাচ্ছে এমন মহাকাশযানের সংখ্যা ছয়। এর মধ্যে একটা আমাদের দেশের। ইসরোর মার্স অরবিটার মিশনের অপর নাম মঙ্গলযান। ৫ নভেম্বর ২০১৩ যাত্রা শুরু করে মঙ্গলযান তার গন্তব্যে পৌঁছেছিল পরের বছর ২৪ সেপ্টেম্বর। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সিকে ধরে মঙ্গল অভিযানে সফল চার নম্বর দেশ ভারত। মঙ্গলযানে যে যন্ত্রগুলি আছে তারা কী কী কাজ করছে? বায়ুমণ্ডলের হাইড্রোজেন ও ভারী হাইড্রোজেনের অনুপাত, মিথেনের পরিমাণ এবং তড়িৎনিরপেক্ষ কণার ভর মাপা ছাড়াও অবলোহিত আলোতে মঙ্গলের পৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করছে এবং রঙিন ছবি তুলছে মঙ্গলযান। মিথেন খোঁজার বিষয়টা বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পৃথিবীতে মিথেন সৃষ্টির সঙ্গে জীবন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তার মানে অবশ্য এমন নয় যে মিথেন থাকলেই জীবন থাকতে হবে। তবে মিথেনের পরিমাণ বেশি হলে অন্তত এককোশী জীব থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। এ বিষয়ে নানা খবর মঙ্গলযানের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

এ তো গেল কক্ষপথের কথা। মঙ্গলে প্রথম মহাকাশযান নামল কবে? প্রথম যে দেশ এই কাজে সফল হয়েছিল সে হল সোভিয়েত ইউনিয়ন। ১৯৭১ সালে মার্স-৩ একটি ল্যান্ডার মঙ্গলের বুকে নামায়। কিন্তু প্রচণ্ড ঝড়ের মধ্যে পড়ার ফলে কুড়ি সেকেণ্ডের বেশি তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি। প্রথম সফলভাবে মঙ্গলে অবতরণ করেছিল ভাইকিং-১-এর ল্যান্ডার ১৯৭৬ সালের ২০ জুলাই। ভাইকিং-২ ১৯৭৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলে আরও একটি অবরতরণ যান নামায়। প্রথম ল্যান্ডারগুলো অবশ্য একজায়গায় দাঁড়িয়ে থাকত। তারপরের ধাপ হল চলমান ল্যাবরেটরি বা রোভার। এ কাজে সফল হয়েছে একমাত্র নাসা। ১৯৯৭ সালে কক্ষপথে স্থাপন না করেই সরাসরি প্যারাসুট, রকেট ও এয়ারব্যাগের সাহায্যে সোয়ুরনার রোভার মঙ্গলের মাটি স্পর্শ করে। নামার এই পদ্ধতির সুবিধা হল যে রকেট ব্যবহার করতে হয় না বলে জ্বালানি খরচ কম। ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে মধ্যে স্পিরিট ও অপরচুনিটি নামের দুটি রোভার এবং ২০১১ সালে আরও একটি রোভার কিউরিওসিটি মঙ্গলে নামে। এদের মধ্যে শেষ দুটি এখনও কাজ করে চলেছে। এদের সঙ্গে আরও একটা যন্ত্রের কথা মনে রাখতে হবে — হাবল স্পেস টেলিস্কোপ মঙ্গলের ভূপ্রকৃতির অনেক নতুন খবর আমাদের দিচ্ছে। নাসার মঙ্গল অভিযানের অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি এই গ্যালারিতে পাওয়া যাবে। এখানে কয়েকটা ভিডিও দেখতে পার।

ভাইকিং-১ থেকে মঙ্গলের মাটির প্রথম পরিষ্কার আলোকচিত্র

মঙ্গল সম্পর্কে কোন খবর আমরা এই সমস্ত অভিযান থেকে পেলাম, সে কথায় যাওয়ার আগে মনে রাখা ভালো যে সব অভিযানই সফল হয়েছে তা কিন্তু নয়। যেমন বিশেষ করে বলা যায়, ফোবোসের উদ্দেশ্যে পাঠানো তিন রাশিয়ান অভিযানের একটিও সফল হয়নি। বিভিন্ন মঙ্গল অভিযানের সময় নানারকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেক সময় যানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তাকে কক্ষপথে স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে পুড়ে সে ধ্বংস হয়েছে। ভারতই একমাত্র দেশ যে প্রথম চেষ্টাতেই মঙ্গল অভিযানে সফল হয়েছে। তবে সফল হোক বা ব্যর্থ, আগের অভিযান থেকে পাওয়া তথ্য পরের মিশনের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

আমরা দেখেছি মঙ্গলের আকাশ লাল। তার কারণ, বায়ুতে লাল রঙের ধূলিকণা যার থেকে সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণ। মঙ্গলের ভূপ্রকৃতি পৃথিবীর ভূগোলবিদদের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। আমরা মাউন্ট এভারেস্ট বা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখলে অবাক হয়ে যাই। মঙ্গলের অলিম্পাস মন্স হল সৌরজগতের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়, এভারেস্টের চেয়ে প্রায় চার গুণ উঁচু। গিরিখাত ভ্যালে মেরিনারিস হল চারহাজার কিলোমিটার লম্বা আর সাত কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর। মঙ্গলে রয়েছে ছোটোবড় অসংখ্য উল্কা গহ্বর। গ্রহাণুপুঞ্জের খুব কাছে হওয়ার জন্য সৌরজগৎ সৃষ্টির সময় মহাজাগতিক চাঁদমারির লক্ষ্য ছিল এই গ্রহ। তার মধ্যে হেলাস প্লানিটিয়া দু’হাজার কিলোমিটার চওড়া আর ছ’কিলোমিটার গভীর। উত্তর গোলার্ধের গড় উচ্চতা দক্ষিণের থেকে দু’কিলোমিটার কম। দুই মেরুতে আছে শুকনো কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও বরফ। কার্বন-ডাই-অক্সাইড মঙ্গলের পাথরে কার্বনেট যৌগ রূপে রয়েছে। মঙ্গল পৃথিবীর থেকে ছোটো, তাই তার কেন্দ্র এখন শীতল হয়ে গিয়েছে। সে কারণে মঙ্গলে কোনও জীবিত আগ্নেয়গিরি নেই, নেই টেকটনিক প্লেট বা মহাদেশীয় পাতের চলন। পৃথিবীতে এই দুই পদ্ধতি পাথর থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মুক্ত করে। মঙ্গলে সে উপায় নেই বলে বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাসের পরিমাণ খুবই কম। আমরা জানি যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড হল গ্রিনহাউস গ্যাস।

এই গ্যাসের অভাবে মঙ্গলে বায়ুমন্ডল তাপ ধরে রাখতে পারে না। তাই মঙ্গলের তাপমাত্রা খুব কম। মঙ্গলে একসময় নোনা জলের সমুদ্র ছিল, তা মঙ্গলের মাটি অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করে স্পিরিট বা অপরচুনিটি আমাদের জানিয়েছে। তার মানে একসময় মঙ্গলে বায়ুচাপ অনেক বেশি ছিল। কিন্তু সেই সমুদ্রে স্নানের জন্য বড্ড দেরি হয়ে গেছে। মঙ্গলের বুকে সমুদ্র শুকিয়ে গেছে তিনশো আশি কোটি বছর আগে – পৃথিবীতে তখন সবে প্রথম প্রাণ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলের রং লাল, কারণ মাটিতে রয়েছে লোহার অক্সাইড।

সৌরজগতের উচ্চতম পর্বত অলিম্পাস মন্স

হেলাস প্লানিটিয়া – এখানেই কি প্রাণ খুঁজে পাওয়া যাবে?

মঙ্গলে প্রাণ আছে কি? উল্কাপাতের জন্য মঙ্গলের পাথর অনেক সময় মঙ্গল থেকে ছিটকে বেরিয়ে যায়। তাদের কয়েক টুকরো কখনও কখনও পৃথিবীতে এসে পড়েছে। তোমাদের অধিকাংশের তখনও জন্ম হয়নি, কিন্তু আমার বেশ মনে আছে ১৯৯৬ সালে কয়েকজন বিজ্ঞানী ঘোষণা করেছিলেন যে এরকম এক পাথরে জীবনের সম্ভাব্য চিহ্ন তাঁরা পেয়েছেন। তখনও অধিকাংশ বিজ্ঞানী সেকথা বিশ্বাস করেননি। আজকাল অবশ্য সেই কথা আর শুনি না। হেলাস প্লানিটিয়া গহ্বরের তলায় বায়ুর চাপ বেশি, তাই সেখানে জল তরল অবস্থায় থাকতে পারে। মঙ্গলে সত্যিই এককোশী সরল প্রাণ থাকলে এখানেই তা খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে মঙ্গলে প্রাণ পাওয়া গেলেও তাকে অণুবীক্ষণ দিয়েই দেখতে হবে। তাই কল্পবিজ্ঞান লেখকদের উৎসাহী হওয়ার কারণ দেখি না। কিন্তু পৃথিবীর বাইরে অন্য কোথাও প্রাণের খবর পেলে জীববিজ্ঞানীরা নিশ্চয়ই খুশি হবেন। তবে যুক্তি প্রমাণ যাই থাকুক না কেন, লাওয়েলের উত্তরসূরীরা মঙ্গলে উন্নত সভ্যতার চিহ্ন সবসময়েই খুঁজে পান। কিউরিওসিটির পাঠানো ছবিতে তাঁরা এক নারীকে খুঁজে পেয়েছেন। তাকে দেখতে অবিকল মানুষের মতো। অর্থাৎ, আমাদের মতোই দুটি পা, দুটি হাত, এমনকি মাথায় লম্বা চুল! কয়েকজন তো আবার গাউন পরা এক মহিলাকেও দেখেছেন। বিবর্তন তত্ত্ব যাঁরা সামান্যও বোঝেন তাঁরা জানেন আমাদের এই চেহারা একান্তই অ্যাকসিডেন্টাল অর্থাৎ আপতিক। সেই একইরকম চেহারা পৃথিবীর বাইরে অন্যত্র কোথাও পাওয়া যাবে, তার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তার উপরে যদি মঙ্গলের বাসিন্দারা কেশসজ্জা বা পোশাকের ক্ষেত্রেও পৃথিবীর ফ্যাশন অনুসরণ করে, তাহলে বলতেই হয় যে তারা নিশ্চয় আমাদের টেলিভিশনের সিরিয়ালগুলোর উৎসাহী দর্শক। প্রযোজক ও বিজ্ঞাপনদাতারা বিষয়টা ভেবে দেখতে পারেন।
এখনও পর্যন্ত মঙ্গলে আমাদের সমস্ত অভিযান রোবট বা দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর পরের ধাপ নিশ্চয়ই মনুষ্যবাহী অভিযান। মঙ্গল সম্পর্কে পাওয়া খবর থেকে বিজ্ঞানীরা কেমন করে মঙ্গলে মানুষ পাঠানো যায় বা তাদের বাস করার ব্যবস্থা করা যায় সে নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন।

মানুষ পাঠানোর মূল সমস্যাগুলো কী? সবচেয়ে কম জ্বালানি লাগবে যে পথে, যার পোশাকি নাম হম্যান অরবিট, তাতে সময় লাগে মোটামুটি ন’মাস। আমাদের প্রযুক্তির যা অবস্থা, তাতে করে সবচেয়ে কম সময় লাগবে অন্য এক পথে – ছ’মাস। কিন্তু এই পথের অন্য সমস্যা আছে। ফেরার আগে মঙ্গলে কাটাতে হবে আঠারো মাস। মানুষের প্রাথমিক প্রয়োজন অক্সিজেন, খাবার ও জল। এই পুরো সময়টার জন্য এই তিনটে জিনিস বয়ে নিয়ে যেতে হবে। তার উপর মহাকাশে আছে কসমিক রে বা মহাজাগতিক রশ্মি, যার থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এই রশ্মির অধিকাংশটা আটকে দিয়ে আমাদের রক্ষা করে। মঙ্গল গ্রহে থাকাকালীন হয়তো মাটি খুঁড়ে তার মধ্যে বাস করলে অনেকটা উপকার হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন যাত্রার জন্য রকেটে শিল্ড লাগাতেই হবে। এ সমস্ত কারণে মনুষ্যবাহী রকেটের ভর বাড়বে, লাগবে অনেক বেশি জ্বালানি। দীর্ঘ যাত্রার অন্য অনেক সমস্যা আছে। মহাকাশ স্টেশনের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে মাধ্যাকর্ষণহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকলে মাংসপেশী ও হাড়ের ক্ষয় হয়। কিন্তু তার চেয়েও বড়ো সমস্যা হল মনস্তাত্ত্বিক। যাত্রীর সংখ্যা খুবই কম হতে বাধ্য, রকেটেও খুব একটা জায়গা থাকবে না। ওইরকম অল্প জায়গায় মাসের পর মাস কয়েকজন মানুষ থাকলে তাদের নিজেদের মধ্যে সমস্যা হওয়াটা স্বাভাবিক।

এই সমস্ত কারণে প্রস্তাব এসেছে কাছাকাছি কোনও গ্রহাণু বা ধূমকেতুতে মানুষ পাঠিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে নেওয়া ভালো। জ্বালানি খরচ বাঁচানোর জন্য নানা পরিকল্পনা আছে। এয়ার ব্যাগ, প্যারাসুটের সাহায্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে ব্রেক হিসাবে ব্যবহার করে রোভার নামানো সম্ভব হয়েছে, কিন্তু এই কায়দা মানুষসমেত রকেটে ব্যবহার করতে সাহস লাগবে। পুরো যাত্রার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার হয় পৃথিবীর থেকে রকেট মহাকাশে পাঠাতে। তাই প্রস্তাব এসেছে চাঁদে বা মহাকাশে রকেট তৈরি করার। কিন্তু সেই পর্যায়ে পৌঁছোতে আমাদের এখনও অনেক বছর দেরি আছে। বর্তমান প্রযুক্তিতে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে মানুষ পাঠিয়ে ফেরত আনতে খরচ হবে সম্ভবত কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার মতো। এখনও পর্যন্ত মঙ্গল অভিযানের মধ্যে সবচেয়ে কম খরচ হয়েছে মঙ্গলযান অভিযানে, সাড়ে চারশো কোটি টাকা। তার মানে মানুষ পাঠাতে পাঁচহাজার গুণ বেশি খরচ হতে পারে। সেখানে স্থায়ী বেস বা ঘাঁটি বানাতে খরচা আরও অনেক গুণ বেশি পড়বে।

বিজ্ঞান গবেষণাতে এত খরচ কোথা থেকে আসবে? সে কথাও বিজ্ঞানীরা ভেবেছেন। পৃথিবীতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ, বিশেষ করে কিছু কিছু অপেক্ষাকৃত দুষ্প্রাপ্য ধাতু যেমন সোনা, প্লাটিনাম, ইরিডিয়াম, ইউরেনিয়াম ইত্যাদি বর্তমানে শিল্পক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সৌরজগতের উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের ধারণা যদি ঠিক হয়, তাহলে গ্রহাণুপুঞ্জে এই সমস্ত পদার্থ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যাবে। এইমুহূর্তে অতদূর থেকে এদের বয়ে নিয়ে আসা লাভজনক হবে না, খরচ অনেক বেশি পড়বে। কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে পৃথিবীতে এইসব ধাতু শেষ হয়ে আসবে, তখন কিন্তু গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে আনার খরচা পুষিয়ে যাবে। মঙ্গলেও নিশ্চয়ই এই সমস্ত ধাতু পাওয়া যাবে, সে আমাদের অনেক কাছেও আছে। কিন্তু গ্রহাণুরা দূরে হলেও সেখানে খনিজ তুলতে এবং সেখান থেকে বয়ে আনতে খরচা মঙ্গলের থেকে কম। কারণ, গ্রহাণুরা খুব ছোটো বলে তাদের মাধ্যাকর্ষণ বল খুব কম। মঙ্গল এই অপারেশনের মধ্যবর্তী ধাপ হিসাবে খুব কাজে লাগবে। তার ফলে মঙ্গলে ঘাঁটি বানানোর খরচা উঠে আসবে।

দেখা যাক, বর্তমান প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে আমরা কেমনভাবে মঙ্গলে ঘাঁটি বানানোর দিকে এগোতে পারি। প্রথমে যাবে এক বা একাধিক রোবট রোভার, তারা মঙ্গলের মাটি ও বায়ু থেকে জল, অক্সিজেন ও রকেটের জ্বালানি মিথেন উৎপাদন করবে। সম্ভবত মঙ্গলের মেরুই উপযুক্ত জায়গা হবে, কারণ ফিনিক্স ল্যান্ডার দেখেছে যে মেরুতে যে সাদা স্তর আমরা দেখতে পাই, তা সত্যিই জলের বরফ। এর থেকে জল সহজেই পাওয়া যাবে। জলের তড়িৎবিশ্লেষণ করে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন তৈরি হবে। বায়ুমণ্ডলের কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হবে মিথেন। প্রয়োজনীয় শক্তি সম্ভবত প্রথমে নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর দেবে। দু’বছর পরে ছ’জন অভিযাত্রীকে নিয়ে যে রকেট রওনা হবে, তাতে থাকবে শুধু যাত্রা পথের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও জ্বালানি। মঙ্গলে এয়ার ব্রেকের সাহায্যে নামতে হবে। এর পর থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসা পর্যন্ত অভিযাত্রীরা আগে থেকে তৈরি করে রাখা জল ও অক্সিজেন ব্যবহার করবেন। দেড় বছর অভিযাত্রীরা মঙ্গলে কাটাবেন, তারপর মিথেন ও অক্সিজেনকে রকেটের জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, আবার এয়ার ব্রেকের সাহায্যে মাটিতে নামবেন। এই অভিযানের খরচ অনেক কম, দু’লক্ষ কোটি টাকার মতো। কিন্তু তার চেয়েও বড়ো সুবিধা হল যে মঙ্গলে জল, অক্সিজেন ও জ্বালানি উৎপাদন চলতেই থাকবে। ফলে পরের অভিযানগুলোতে খরচ পড়বে অনেক কম, দশ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। এরকম কয়েকটি অভিযানের পরে মঙ্গলে যে পরিমাণ যন্ত্রপাতি জমে যাবে, তা দিয়ে স্থায়ী বেস তৈরির কাজ শুরু করা যাবে।

কল্পবিজ্ঞানের গল্প মনে হচ্ছে? ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানি স্পেসএক্স দশ বছরের মধ্যে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। সম্ভবত ২০১৮ সাল থেকেই তারা প্রাথমিক কাজ শুরু করবে অর্থাৎ প্রথম রকেট পাঠাবে। অবশ্য তাদের পরিকল্পনাটা কিছুটা আলাদা, এই লিঙ্কটাতে তারা কী ভাবছে পড়তে পার। পদ্ধতি যাই হোক না কেন, একটা কথা ঠিক, মঙ্গলে মানুষ পাঠানো আর কল্পনার স্তরে নেই, বাস্তবায়িত করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছি আমরা।

স্থায়ী ঘাঁটি কেমন হবে? মানুষ সেখানে স্বাভাবিকভাবে স্পেসস্যুট ছাড়া থাকতে পারবে। বিরাট স্বচ্ছ কিন্তু মজবুত প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে তৈরি হবে অর্ধগোলাকৃতি গম্বুজ, তার মধ্যে থাকবে বায়ু। জল, অক্সিজেন মঙ্গল থেকেই জোগাড় করতে হবে। প্রথমেই লাগাতে হবে গাছ এবং ক্লোরেলা জাতীয় সবুজ শ্যাওলা। তার থেকে অক্সিজেন ও খাবার পাওয়া যাবে। সৌরশক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সিলিকন মঙ্গলের মাটি থেকে পাওয়া যাবে। হয়তো এক শতাব্দী পরে মঙ্গলে মানুষের এমন এক বসতি গড়ে উঠবে যে কোনওভাবেই পৃথিবীর উপর নির্ভর করবে না। মানবসভ্যতা তখন প্রকৃত অর্থেই সৌরজাগতিক হয়ে উঠবে।

কিন্তু এখানেই তো শেষ নয়। আমরা চাই আরও একটা গ্রহ, আরও একটা পৃথিবী যেখানে আমরা বুকভরে কোনও বায়ুমণ্ডলে নিঃশ্বাস নিতে পারব, যেখানে খুশি যেতে পারব। সেটাও একেবারে আমাদের কল্পনার অতীত নয়। আমরা প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিটা আয়ত্ত করেছি, কিন্তু যে বিশাল মাপে তাকে প্রয়োগ করতে হবে, তা এই মুহূর্তে আমাদের সামর্থের বাইরে। বহু সংখ্যক রোবোট কারখানা লাগবে যারা মঙ্গলেই তৈরি করবে ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস। মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা এখন শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের থেকে পঞ্চান্ন ডিগ্রি কম। কয়েকশো কোটি টন গ্যাস বায়ুমন্ডলে মিশলে মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা কুড়ি ডিগ্রি বেড়ে হবে মাইনাস ৩৫ ডিগ্রি। এই তাপমাত্রায় মেরুতে জমে থাকা কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুতে মিশে যাবে। এও আর এক গ্রিনহাউস গ্যাস, তাই তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাবে। মহাকাশে একশো কিলোমিটার চওড়া আয়না বসিয়ে সূর্যের আলো প্রতিফলন করে মেরুর বরফ গলিয়ে ফেলতে হবে। এই দানব আয়না তৈরির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হয় ফোবোস বা ডিমোস নয়তো গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে পাওয়া যাবে। বায়ুতে জলীয় বাষ্প মেশার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে শূন্য ডিগ্রিতে পৌঁছোবে। এই পুরো কর্মকাণ্ডের জন্য অন্তত একশো বছর সময় লাগবে। এর পরেই মঙ্গলের আকাশ থেকে তিনশো আশি কোটি বছরে প্রথমবারের জন্য বৃষ্টি নামবে।

 বায়ুর চাপ প্রায় পৃথিবীর সমান হয়ে যাবে। আগেই বলেছি উত্তর গোলার্ধের গড় উচ্চতা দক্ষিণের থেকে কম, তাই গোটা উত্তর গোলার্ধ হয়ে যাবে এক মহাসমুদ্র। সবুজ উদ্ভিদের সাহায্যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থেকে অক্সিজেন তৈরি হবে। এক হাজার বছর পরে আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে আরও এক সবুজ গ্রহ। সময়টাকে কমানোর জন্য গ্রহাণুপুঞ্জ থেকে মঙ্গলে জল পাঠানোর বা মঙ্গলে নতুন আগ্নেয়গিরি তৈরি করে প্রচুর পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড মুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। কোনও গ্রহকে পৃথিবীর মতো করে তোলার এই ধরনের প্রস্তাবিত পদ্ধতিকে বলা হয় টেরাফর্মিং।

এ সমস্ত অবশ্য দূর-ভবিষ্যতের কথা, যদিও কেউ কেউ যেকোনও গ্রহকে এভাবে নিজেদের খুশিমতো পাল্টানোর নৈতিকতা নিয়ে এখনই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁরা বলেন যে পৃথিবীর ক্ষেত্রে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়, আমরা নিজেরাই আমাদের এই সুন্দর গ্রহটাকে প্রায় বাসের অযোগ্য করে তুলছি। টেরাফর্মিংয়ের সমর্থকরা আবার বলেন যে আমাদের সভ্যতা খুবই ঠুনকো। সাড়ে ছ’কোটি বছর আগে এক গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষের ফলে এমন দুর্যোগ এসেছিল যে শক্তিশালী ডাইনোসররা পর্যন্ত প্রায় লুপ্ত হয়ে যায়। এইরকম কোনও বিপদ থেকে পৃথিবীকে বাঁচানো এখনও আমাদের ক্ষমতার বাইরে। যদি সত্যিই এরকম কিছু পৃথিবীতে ঘটে, তাহলে মানবসভ্যতা অন্তত একটা গ্রহে টিকে থাকবে। এসব বিতর্ক অবশ্য এখন তুলে রাখা যেতে পারে। টেরাফর্মিংয়ের সাধ থাকুক বা না থাকুক, সাধ্য এখনও আমাদের নেই।

স্পেসএক্স মঙ্গলে যাওয়ার ওয়ান ওয়ে টিকিটের দাম এক কোটি টাকার থেকে নিচে নামাতে চায়। দামটা শুনলে খুব বেশি মনে হতে পারে, কিন্তু মনে রাখতে হবে মঙ্গল আর পৃথিবী যখন সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে, তখন তাদের দূরত্ব হয় সাড়ে পাঁচ কোটি কিলোমিটার (যদিও রকেটকে তার থেকে অনেক বেশি রাস্তা যেতে হবে)। সেই হিসাব করলে কিলোমিটার প্রতি খরচ পড়বে কুড়ি পয়সা। কলকাতার বাস ভাড়ার থেকেও কম! এর মধ্যে যাত্রা পথের খাবার, অক্সিজেন, সবকিছুর দাম ধরা থাকবে। তাই সত্যিই এত কম দামে টিকিট পাওয়া যাবে কি না জানি না। তবে যাঁরা অন্য গ্রহে বসতি স্থাপনের স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা করছে, তাঁদের সকলের উদ্দেশে রইল শুভেচ্ছা।

আলোকচিত্রঃ National Aeronautics and Space Administration (নাসা)
প্রথম প্রকাশঃ একপর্ণিকা ওয়েব ম্যাগাজিন

লেখক পরিচিতি

Gautam Gangopadhyay

লিখেছেনঃ GAUTAM GANGOPADHYAY
Professor at Calcutta University

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে । সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: