Header Ads

মহাশূন্যে ভাসার অনুভূতি!

মহাশূন্যে ভেসে থাকতে কেমন লাগে? স্পেসওয়াক করার সময় পায়ের নিচে তো কিন মাটি নেই । শূন্যে ভেসে থাকা মানুষের স্বভাবজাত স্বপ্ন । কিন্তু এমন কেউ কি ভাবেন যে কোন রকম সংযোগ ছাড়া , পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ও মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নিয়ে স্পেস ওয়াক করার কথা ! মানব ইতিহাসে অনেকেই মহাশূন্যে স্পেসওয়াক করেছেন।

মহাশূন্যে ভাসার অনুভূতি!
 
তবে বেশিরভাগই নিজেকে ইথার নামক এক তার বা রশি দিয়ে নিজেকে সংযুক্ত করে । ১৯৮৪ সালের ৪১-বি নামক স্যাটেলাইট কক্ষপথে স্থাপনের এক মিশনে প্রথমবারের মত নিরাপত্তা সংযোগ ছাড়া স্পেস ওয়াক করেন সদ্য প্র্যাত ম্যাককান্ডেল । তিনি ১২০ কিলোর এক Manned Maneuvering Unit (MMU) নামক একধরনের ব্যাকপ্যাক প্রপালশন ইউনিট নিয়ে তার নভোযান স্পেস শাটল চ্যালেঞ্জার থেকে ১০০ মিটার দূরে যান । ভাবছেন , এত ভরের বস্তু নিয়ে আবার স্যাটেলাইট কীভাবে স্থাপন করতে গিয়েছেন? মহাশূন্যে সব বস্তুর মত এই ১২০ কেজির নাইট্রোজেন প্রপালশন ইউনিট ও স্যাটেলাইটও ওজোনহীনতা অনুভব করে বিধায় শূন্যে ভাসতে থাকে । 

তাই ম্যাককান্ডেলের পিঠের ১২০ কেজি প্রপালসন ইউনিটের ওজোন তিনি অনুভব করেন নি । নিচের চিত্রে ম্যাককেন্ডেলকে মহাশূন্যে অ্যানইথারড অবস্থায় স্পেস ওয়াক করতে দেখা যাচ্ছে , যা আজকে নাসা পিকচার অফ দ্যা ডেতে তার সম্মানার্থে প্রকাশ করেছে । এই ছবিটি ধারন করেছিলেন আরেক নভোচারী রবার্ট স্টুয়ার্ট। উল্লেখ্য তাকে পরিবহন করা যান চ্যালেঞ্জার ১৯৮৬ সালের ২৮ জানুয়ারিতে অপর আরেকটি মিশনে ৭ জন ক্রূ নিয়ে অ্যাটলান্টিকে বিধ্বস্ত হয়েছিল । ধারনা করা হয় উড্ডয়নের ৭৩ সেকেন্ড পরে রকেট থ্রাস্টারে জ্বালানী ট্যাংকে বিস্ফোরন ঘটেছিল । 

এখন মহাকাশে সংযোগহীন স্পেসওয়াক করার সময় আর দানব ভরের Manned Maneuvering Unit (MMU) ব্যাবহার করা হয় না । মহাকাশচারীরা উন্নত প্রযুক্তির ব্যাকপাক প্রপালশন ইউনিট ব্যাবহার করেন । মিশন শেষে ম্যাককান্ডেলকে শূন্যে কোন সংযোগ ছারা স্পেসওয়াক করার অনুভুতি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করা হলে তিনি বলেছিলেন, ' মিশন কন্ট্রোল রুমে আমার স্ত্রী বার্নিস ছিল । সেখানে নেইল আর্মস্ত্রংও ছিল। আমি জানতাম সবাই নিসচুপ ছিল । আর আমি নেইলকে বললাম ," তোমার চাঁদে পা রাখার চাইতেও শূন্যে পা রাখা কৃতিত্বের , কারন আমার মধ্যে মহাশূন্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় কাজ করছিল " ।

তথ্যঃ 

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ জ্যোতির্বিদ্যা ও সৃষ্টিতত্ত্ব পেইজ

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: