Header Ads

বই রিভিউঃ মহাভারত (১ম পর্ব)

বই রিভিউঃ মহাভারত (১ম পর্ব)

বই : মহাভারত,
লেখক : কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস 
সারানুবাদ : রাজশেখর বসু

মহাভারত একটি চিত্তাকর্ষক গ্রন্থ । এটি এমন একটি বই যা মানুষকে ন্যায় অন্যায় নিয়ে ভাবতে শেখায়, চিন্তার খোরাক যোগায়, মনে প্রশ্নের ঘনঘটা তৈরী করে দেয়, দ্বিধান্বিত করে দেয় এই ভাবিয়ে যে - যা ঘটল তা কি ঠিক হল না ভুল, উচিত না অনুচিত, ধর্মীয় বিধান আর যুক্তির মারপ্যাঁচে পাঠকও খেই হারিয়ে ফেলেন যদি যথাযথ মনোযোগ দিয়ে শুরু থেকে বইটি পাঠ করা না হয়ে থাকে ।

মহাভারত নিয়ে কিছুদিন আগে “স্টার জলসা” এবং “স্টার প্লাসে” প্রায় ৩০০ পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রচার করা হয়েছে । বলাবাহুল্য নানা চ্যানেলের নানা সত্য, অর্ধসত্য, ডাহা মিথ্যা এই বইয়ে বর্ণিত প্রকৃত ঘটনার সাথে মিশে সবকিছু মিলিয়ে রীতিমত একটি খিচুড়ি দশা করে ছেড়েছে ।

দুটি উদাহরণ দিয়েই বিষয়টি পরিস্কার করে দিই । ধারাবাহিকে দেখানো ঘটনা অনুসারে কুন্তী ও মাদ্রী দেবতাদের কৃপাপ্রসাদ প্রাপ্ত হয়ে যুধিষ্ঠির সহ তাঁর সকল ভাইদের জন্ম দিয়েছেন । অথচ পরবর্তী পর্বে যুধিষ্ঠির বনাম দুর্যোধন লড়াইয়ের সময়ে , দুর্যোধন তাঁকে বললেন : “তোমার ব্যভিচারিণী মাতা তোমাকে কার কাছ থেকে প্রাপ্ত করেছেন তাতো বললে না ”। কৃপাপ্রসাদপ্রাপ্ত মহিলা ঠিক কোন যুক্তিতে ব্যভিচারিণী হন তা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে ঠিক বোধগম্য হলো না ।

আরেকটি উদাহরণ হল অভিমন্যুর মৃত্যু । তাঁর মৃত্যু হয়েছে দু:শাসনের ছেলের গদার আঘাতে, কিন্তু ধারাবাহিকে দেখানো হল তিনি মারা গেলেন কর্ণের হাতে !!!

আজ পর্যন্ত অনলাইনে মহাভারত নিয়ে অনেক রিভিউ পড়েছি, বলা বাহুল্য সেগুলোকে রিভিউ না বলে এককথায় নোংরামি হিসেবেই বিবেচনা করা যায়। আজ আমি মহাভারত নিয়ে প্রথম পর্বের রিভিউ লিখলাম, যদি আমার লেখা পড়ে আপনাদের বাকিটুকু পড়ার আগ্রহ জাগে তবে আমি পরবর্তী পর্ব বইয়ের হাটে পোস্ট করবো ।

মহাভারতে অনেকগুলো চরিত্র বিদ্যমান, তাঁদের মধ্যে এমন কিছু চরিত্র আছেন যাঁরা মহাভারতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন । আমার রিভিউয়ে ১ম পর্বে আমি সেসব চরিত্রগুলির চারিত্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করবো।

মহামুনি ব্যাস : মহাভারতের সবচেয়ে অদ্ভুত চরিত্র হলেন এই মহামুনি ব্যাস । তিনি হলেন পরাশর এবং সত্যবতীর বিবাহপূর্ব ( পরবর্তীতে শান্তনুর সাথে সত্যবতী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন) সন্তান । সমগ্র মহাভারতে ব্যাসের অবস্থান অনেকটা স্ট্যান্ডবাই আর্মি ব্যাটেলিয়নের সদস্যদের মত । কৌরব এবং পান্ডব পক্ষের যখনই কোন প্রয়োজন হয়েছে ব্যাস সেখানেই উপস্থিত হয়ে তাদের পর্যাপ্ত ধর্মীয়জ্ঞান দিয়ে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন ।

তিনি একজন সুপণ্ডিত ছিলেন বটে যদিও সুপুরুষ ছিলেন কিনা তা যথেষ্ঠ বিতর্কের বিষয় কারণ তিনি তাঁর ছোট ভাই বিচিত্রবীর্যের দুই স্ত্রী অম্বিকা, অম্বালিকা এবং একজন দাসীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যথাক্রমে ধৃতরাষ্ট্র, পান্ডু এবং মহাজ্ঞানী বিদুরের জন্ম দেন । যদিও এই কাজটি তিনি ব্রহ্মার আদেশে করেছেন বলে মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে ।

তবে তাঁর মাতা সত্যবতীও একই অনুরোধ তাঁর নিকট করেছিলেন । মূলত বিচিত্রবীর্যের অকাল মৃত্যু ব্যাসের কাধে এই অস্বস্তিকর কাজের গুরুভার এনে দেয় । ভীস্মের অকৃতদার থাকার প্রতিজ্ঞা এবং বংশরক্ষায় সত্যবতীর অসহায়ত্ব ব্যাসের এমন কাজে জড়িত হওয়ার অন্যতম কারণ ।

ধৃতরাষ্ট্র : ব্যাস এবং অম্বালিকার সন্তান । ব্যাসের সাথে সংগম কালে তার মায়ের চোখ বন্ধ থাকার দরুণ তিনি জন্মান্ধ হন । বস্তুত তিনি ছিলেন পুত্র স্নেহে অন্ধ এবং পরশ্রীকাতর একজন ব্যাক্তি । যার ফল তাকে নিজের শতপুত্রের মৃত্যুর পাহাড় সমান কষ্ট দিয়ে ভোগ করতে হয় ।

বিদুর, দ্রোণাচার্য, ভীস্ম প্রভৃতি ব্যাক্তির সুপরামর্শে সাময়িক প্রকৃতস্থ হলেও পরবর্তীতে তিনি পুত্রের নিকট খেই হারিয়ে ফেলতেন । বনবাসের পূর্বে তাঁকে ভীমের নিকট থেকেও প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ নানা ভাবে অপমানের স্বীকার হতে হয় । এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ভীমের কটুক্তির চাবুক ধৃতরাষ্ট্রের সহ্য ক্ষমতা অতিক্রম করে ফলশ্রুতিতে তাঁর বনগমন নিকটবর্তী হয় ।

বিদুর : মহাভারতের অন্যতম জ্ঞানী ব্যাক্তিদের একজন । এক দাসী এবং ব্যাসের সন্তান তিনি । তাঁর জন্ম শুদ্রের ঘরে । পরবর্তীতে নিজ চেষ্টায় ব্রাহ্মনত্ব অর্জণ করেন । মহাভারতে কৌরব এবং পান্ডব উভয় পক্ষের অন্যতম মিত্র ছিলেন তিনি । সর্বোতভাবে চেষ্টা করেছেন যুদ্ধকে আটকানোর কিন্তু তিনি ব্যার্থ হন ।

ভীষ্ম : মহাভারতের সবচেয়ে প্রবীণতম চরিত্র । চারিত্রিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ়বান । নিজ প্রতিজ্ঞা রক্ষায় ইস্পাত কঠিন, নিজ নীতিতে অটল, নির্লোভী একজন মানুষ । তিনি পান্ডবদের প্রতি তাঁর একতরফা সমর্থনকে গোপন করেননি যদিও অন্ন দায়ের কারণে তিনি কৌরবপক্ষের হয়ে যুদ্ধ করে বিপুল পরাক্রম দেখান । সমগ্র মহাভারতে তিনি একজন ধর্মজ্ঞ বলে খ্যাত । যদিও দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের সময় তাঁর ধর্মীয় সংশয় এবং শরশয্যায় শায়িত থাকা অবস্থায় ধর্মীয় পুস্তকের বিপরীতে নানা সাংঘর্ষিক মন্তব্য তাঁর এই জ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

দ্রোণ : ভরদ্বাজপুত্র দ্রোণ । তিনি অস্ত্রে অত্যধিক নিপুণ , ধর্মজ্ঞ একজন ব্যাক্তি । ভীষ্মের মত পান্ডবদের প্রতি তাঁর পক্ষপাতীত্ব তিনিও কোনভাবেই গোপন করেননি । যদিও অর্জুনের প্রতি তাঁর অত্যধিক মমত্ববোধ তাঁকে একলব্যের আঙ্গুল কেটে ফেলার মত জঘন্য কাজ করতে প্রবৃত্ত করে ।

দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণে মৌন অবস্থান তাঁর চরিত্রের সবচেয়ে বড় কালিমা । জাত্যাভিমান ছিল তাঁর মাঝে প্রবল আর তাই তিনি একলব্যকে নীচু জাতির অজুহাতে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি আর যখন গ্রহণ করলেন বিনিময়ে চেয়ে নিলেন একলব্যের ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিকে । তাঁর মৃত্যুর সময়ও তাঁকে চরম অপমানের স্বীকার হতে হয় । হত্যার পূর্বে শিষ্য ধৃষ্টদ্যূম্ন কর্তৃক তাঁর চুলকে মুষ্টিবদ্ধ করে ধরা গুরু দ্রোণের চরম অপমান ছাড়া আর কিছুই নয় ।

যুধিষ্ঠির : মহাভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যাক্তি হলেন তিনি । যিনি লোভ, কাম, ক্রোধ এসব থেকে প্রায় শতভাগ নিজেকে দূরে রাখতে পারতেন । তবুও দ্যূতক্রীড়ায় দ্রৌপদীকে পণ হিসেবে রাখা, গুরু দ্রোণকে অশ্বত্থামার মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ প্রদান করা এসব ঘটনা তাঁর সাদা চরিত্রেও কালো দাগ ফেলেছে ।

অর্জুন : মহাভারতের একজন অনুকরণীয় বীর যোদ্ধা । দাম্ভিকতা যেন তাঁর মজ্জাগত , দয়ালু , ক্রোধী, কামার্তাও বটে । সুভদ্রাকে দেখতে পেয়ে বনবাসেও তিনি কামার্ত হয়েছেন দেখে কৃষ্ণ হেসে “সুভদ্রাহরণপর্বাধ্যায়ে” বলেছিলেন : “ বনবাসীর মন কামে আলোড়িত হলো কেন ?” তিনি কর্ণের সাথে সবসময় প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হতে চাইতেন ।

নিজেকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণের জন্য রীতিমত চোখে পরার মত একটি তাড়না তাঁর মাঝে দেখা যায় । প্রতিজ্ঞা রক্ষায়ও তিনি যথোচিত কঠোরতা দেখিয়েছেন । তবে গুরু দ্রোণের সহায়তায় একলব্যের ডানহাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির বলি চড়িয়ে তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনুর্বীর হয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্ন যে কোন সচেতন পাঠকের মনে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয় ।

ভীম : মহাভারতের সবচেয়ে নিষ্ঠুর চরিত্র হলেন ভীম । যিনি বাহুবলে দুর্যোধন অপেক্ষা কোনঅংশে কম ছিলেননা । বিচারবুদ্ধির কোন বালাই তাঁর ছিলনা , কুযুক্তি প্রদানে ছিলেন দক্ষ , অসম্ভব পেটুক স্বভাবের , ছিলনা ভদ্রতার বালাই । পুত্রহীন, বৃদ্ধ ধৃতরাষ্ট্র নিজের ভুল শুধরে নেয়ার পরও কেবল তাঁর দুর্ব্যবহারের কারণে দু:খিত মনে বনবাসে যান । তিনি কতটুকু নীচু মনের অধিকারী ছিলেন তা ধৃতরাষ্ট্রের প্রতি তাঁর করা ব্যবহারের বর্ণনা পড়লেই বোঝা যায় ।

যদিও সমগ্র মহাভারতের যুদ্ধে তিনি বীরোচিত যুদ্ধ করেছেন । দ্রৌপদীকে কীচকের লালসা থেকে উদ্ধার করেছেন । দু:শাসনের রক্ত পানের মত নিষ্ঠুর কাজ করে তিনি তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করেছেন যদিও পরবর্তীতে বলেছেন দু:শাসনের রক্ত তার দাঁতের নীচবধি নামেনি । সমগ্র মহাভারতে ভীমের ভূমিকা একবাক্যে বলে দেয়া যায় এভাবে : "মহাভারতে ভীম ছিলেন অনেকটা পাড়ার হুমকিধামকি দেয়া বড় ভাইয়ের মত যিনি কিছু ব্যাতিক্রম দেখলেই মেরে ঠান্ডা করে দেয়ায় বিশ্বাসী" ।

কর্ণ : “ ভাল ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে প্রেম জাগেনা , যা জাগে তার নাম হল সহানুভূতি ” – হুমায়ুন আহমেদ । স্যারের এই বক্তব্য কর্ণের বেলায়ও প্রযোজ্য তবে একটু ভিন্ন ভাবে , আর তা হল : "কর্ণের জন্য সবার মনে প্রেম জাগেনা যা জাগে তার নাম হল সহানুভূতি" ।

কর্ণ হলেন কুন্তীর বিবাহ পূর্ব সন্তান । কুন্তীর নিজের ভুলে সূর্যের সাথে করা মিলনের ফলে কর্ণের জন্ম। সমগ্র মহাভারতের চরিতগুলির মাঝে কর্ণের মত আর কোন চরিত্র নেই যা মানুষের হৃদয়ের এতটা গভীরে যেতে পেরেছে । যদিও এ কাজে ভারতীয় টিভি চ্যানেলগুলির বাহবা না দিয়ে পারা যায়না।

ভরাসভায় দ্রৌপদীকে বস্ত্রহরণের আদেশ দিয়েছিলেন এই কর্ণ, দ্রৌপদীকে বেশ্যা উপাধি দিতেও তিনি পিছপা হননি । কিন্তু বিধাতার কি খেল !!! কালের বিবর্তে দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণের নির্দেশদাতা হয়ে গেলেন দুর্যোধন !!! অন্যদিকে কর্ণ হয়ে গেলেন সকলের নিকট ধোয়া তুলশি পাতা ।

তবে মহাভারতের সমগ্র চরিত্রের মাঝে তাঁর জনপ্রিয় হয়ে যাওয়ার মূল কারণ সূতপুত্র হিসেবে নিজের অধিকারের জন্য তাঁর লড়াই , অপরদিকে জন্মের পর তাঁর মাতা কুন্তী কর্তৃক নিজের এবং নিজের পিতার সম্মান রক্ষার্থে তাঁর (কর্ণের) প্রত্যাখ্যান ।

এত কিছুর পরও কর্ণের চোখে পরার মত ভাল গুণ ছিল : তিনি ছিলেন বড়মাপের দানবীর । যুদ্ধে হয়ত অর্জুন ব্যাতিত পান্ডবদের সকল ভ্রাতা নিহত হতেন যদিনা যুদ্ধের পূর্বে তিনি তাঁর মাতা কুন্তীকে এই বলে প্রতিশ্রুতি না দিতেন যে সমর্থ এবং সুযোগ থাকলেও তিনি অর্জুন ব্যাতীত তাঁর অন্য ভাইদের হত্যা করবেননা ।

তিনি ছিলেন নিজের প্রতিজ্ঞা রক্ষায় ভীষ্মের মতই ইস্পাত কঠিন একজন ব্যাক্তি । কারো কাছ থেকে বিপদের দিনে উপকার পেলে নিজের জীবন দিয়ে হলেও কিভাবে তার প্রতিদান দিতে হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই কর্ণ ।

আমার দৃষ্টিতে কর্ণের কাছ থেকে যে কারোরই কৃতজ্ঞতাবোধ স্বীকারের শিক্ষা দেয়া উচিত । কৃতজ্ঞতা স্বীকারের দৃষ্টিকোণ থেকে সমগ্র মহাভারতে কর্ণ একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র । তাঁর আরো একটি বড় গুণ নীচু পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি কোনদিন তা নিয়ে লজ্জিত হননি বরং বুক ফুলিয়ে নিজের জন্ম পরিচয় দিয়েছেন । একজন বীরের আত্মসম্মানবোধ এমনই হওয়া উচিত । সব মিলিয়ে বলা যায় কর্ণ ছিলেন ধর্ম এবং অধর্মের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ।

দ্রৌপদী : মহাভারতের সবচেয়ে অভাগা যে দুজন মহিলা চরিত্র আছেন তাঁদের একজন হলেন দ্রৌপদী ।হেন কোন অপমান নেই যা তাঁকে সহ্য করতে হয়নি । দ্যূতসভায় রজস্বলা অবস্থায় বস্ত্রহরণের দ্বারা তাঁর সম্মান পর্যন্ত হুমকির সম্মুখীন হয় । পরবর্তীতে বনবাসে জয়দ্রথ এবং বিরাট রাজ্যে অজ্ঞাতবাসকালে বিরাট সেনাপিত কীচকের দ্বারাও তাঁর সম্মান হুমকির সম্মুখীন হয় ।

এক শ্রেণীর লেখক (লেখনী দেখে লেখক বলতে ইচ্ছে হয়না তবুও ভদ্রতার খাতিরে বললাম) দ্রৌপদীকে বেশ্যা উপাধি দিতে খুব গর্ববোধ করেন । এর কারণ তাঁর একাধিক স্বামী । কিন্তু যুধিষ্ঠির ব্যাতিত বাকি পান্ডব ভ্রাতাগণ এমনকি স্বয়ং কৃষ্ণেরও একাধিক স্ত্রী থাকা সত্বেও তাঁরা কেবল পুরুষ হওয়ার কারণে সেসব লেখকের নিকট থেকে চরিত্রবান হওয়ার চারিত্রিক সনদ লাভ করে থাকেন ।

গান্ধারী : মহাভারতের দ্বিতীয় অভাগা নারী । স্বামীর প্রতি যাঁর অগাধ ভালবাসা ছিল চোখে পরার মত । স্বামীর অন্ধত্বকে আপন করে নেয়ার জন্য তিনি তাঁর চোখ আজীবন ঢেকে রেখেছিলেন । কিন্তু তিনি পুত্র স্নেহে স্বামীর মত অন্ধ ছিলেননা । বরং স্বামীকে নানা সময়ে সতর্ক করতেন যদিও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি । পরিশেষে তাঁকে শতপুত্রের মৃত্যু শোক সইতে হয় ।

শকুনি : মহাভারতে কৃষ্ণের সমকক্ষ একজন বুদ্ধিমান ব্যাক্তি । দুর্যোধনের মামা, বিশ্বস্ত পরামর্শক, কূটচালে সিদ্ধহস্ত, পাশা খেলায় নিপুণ , এবং মহাভারত যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী এবং উস্কানি দাতা ।

দুর্যোধন : মহাভারতের অন্যতম খলনায়ক । যিনি ধর্মীয় নিয়ম জেনেও ধর্মকে কু - কাজে ব্যবহারে সিদ্ধহস্ত ছিলেন । সাথী হিসেবে পেয়েছিলেন তাঁর মতই দুজন ধূর্তকে : শকুনি এবং কর্ণ । যদিও সমগ্র মহাভারতের যুদ্ধেই তিনি বীরোচিত যুদ্ধ করেছেন । মাতৃসম বৌদি দ্রৌপদীকে বাম ঊরু প্রদর্শন করে তিনি নোংরামির উচ্চতর নমুনা তৈরী করেছেন । তবে প্রজাদের সাথে তিনি কখনো কোন খারাপ আচরণ করেননি এমনই মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে ।

কৃষ্ণ : মহাভারতের অপর প্রভাবশালী চরিত্র । যিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান, ধূর্তও বটে । ধর্ম বিষয়ে নানা সময়ে তিনি কুরু ও পান্ডব পক্ষকে নানা উপদেশ দিয়েছেন । যদিও যুদ্ধক্ষেত্রে আবার তিনিই সেই সব নিয়ম কিভাবে ছলের দ্বারা ভাঙ্গতে হয় সে পথের সন্ধান দিয়েছেন । তাঁর অনেক কাজ যেমন প্রশংসার দাবিদার তেমনি অনেক কাজ আবার তাঁকে চরম বিতর্কিত করেছে । কিন্তু তাঁর কার্যপরিধি এতটাই বড় যে তা আজ আর আলোচনা করা সম্ভব নয় । আমি পরবর্তী পর্বে এই নিয়ে বিস্তারিত লিখব।

আর এরই সাথে শেষ হল মহাভারত নিয়ে আমার প্রথম পর্বের রিভিউ । আপনাদের মন্তব্য এবং আগ্রহ জানার অপেক্ষায় রইলাম । পরবর্তী পর্বে আমি কৃষ্ণ, অভিমন্যু, অশ্বত্থামা এবং যুদ্ধ সম্পর্কে নানা ব্যাক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বর্ণনা লিখব যদিও তার পুরোটাই নির্ভর করছে আপনাদের পরবর্তী পোস্ট পড়তে চাওয়ার আগ্রহের উপর ।

পোস্ট লেখা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান এবং দিক নির্দেশনায় : শ্রদ্ধেয় বন্দন দাদা ।

লেখক পরিচিতিঃ
লিখেছেনঃ Joyraj Hore

এমন আরও বইয়ের নিয়মিত রিভিউ পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। প্রতি সপ্তাহের শনি এবং মঙ্গলবারে আমাদের বুক রিভিউ সিরিজের লিখা পাবলিশ হয়ে থাকে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে যোগ দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে ও লাইক দিয়ে রাখুন ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: