Header Ads

বই রিভিউঃ নেমেসিস

বই রিভিউঃ নেমেসিস

বইঃ নেমেসিস
লেখকঃ মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
প্রচ্ছদঃ সিরাজুল ইসলাম নিউটন
প্রকাশনালয়ঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
ধরণঃ মৌলিক রহস্য উপন্যাস
মোট পৃষ্ঠাঃ ২৬৯
মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০/= মাত্র
রেটিংঃ করতে পছন্দ করি না

সেই মূহুর্তে আপনার কেমন লাগবে যখন আপনি টিভিতে দেখবেন আপনার প্রিয় লেখক মারা গেছেন? আচ্ছা আমি দূঃখিত। প্রশ্নটা বেশ কষ্টদায়ক।তাই না?তবে এবার আমি আপনাদের কাছে এসেছি এমন একটা রহস্য সমাধানের জন্য যার সাথে প্রশ্নটা সম্পর্কিত। বরং বলতে পারেন রহস্যময় এক খুনের রহস্য সমাধান করতে হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের ইনভেস্টিগেটর জেফরি বেগ আপনার সাহায্য চাইছে। সে যে পড়ে গেছে অথৈ জলে। সময় নষ্ট না করে প্রথমেই আসা যাক কেস সম্পর্কিত চরিত্রগুলোর পরিচয়ে-

জেফরি বেগ। হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের ইনভেস্টিগেটর। এফবিআই থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসা। চেহারা দেবদূতের মত। মধ্যবয়সী যুবক বলা যায় জেফরি বেগ কে। আচ্ছা জেফরি বেগই বা কেমন নাম? ওনার ধর্মটাই বা কি?

জেফরি বেগকে সার্বক্ষণিক সহযোগীতা দেবার জন্য থাকেন হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট এর সহকারী ইনভেস্টিগেটর জামান। বুদ্ধিদীপ্ত, কর্মঠ, চৌকষ,কুশলী, পড়ুয়া, সংযমী। গুনের যেনো কমতি নেই লোকটার।

জায়েদ রেহমান। বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান লেখক। বর্তমানে প্রায় পঙ্গু। একটা হাত আর বাকশক্তি ছাড়া পুরো দেহটাই অচল জায়েদ রেহমানের। ওনার দেখাশোনার জন্য আছেন সার্বক্ষণিক একজন নার্স। বিশাল এক এপার্টমেন্ট নিয়ে ধানমন্ডি এলাকায় সস্ত্রীক বসবাস করেন তিনি।

জায়েদ রেহমানের স্ত্রী বর্ষা রেহমান। দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের সময় মহিলার বয়স ছিলো একুশ। জায়েদ রেহমানের প্রথম স্ত্রীর নাম গোলনূর। লেখকের মেজ মেয়ের বান্ধবী এই বর্ষা।উঠতি অভিনেত্রী থেকে দেশের সবথেকে নামকরা লেখকের স্ত্রী বনে যাওয়া এই মহিলার মুখোশের নিচে আরেকটা পরিচয় আছে। সে একজন পরগামী নারী!

ইরাম চৌধুরীর এই কেসে একটা বড় ভূমিকা আছে। বিশিষ্ট শিল্পপতি সিএই চৌধুরীর একমাত্র সন্তান ইরাম এল.এস.ডি নেশায় আসক্ত। দুবার রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হলেও শোধরানো যায় নি ইরামকে। অবশ্য এলএসডিই ইরামের একমাত্র নেশা নয়। আরো একটা মারাত্মক নেশায় আসক্ত ইরাম। বইয়ের নেশা!

অমূল্য বাবুর সাথে সিএই চৌধুরীর প্রায় চল্লিশ বছরের সম্পর্ক। একে অন্যকে অন্ধের মত বিশ্বাস করেন। দুজনেরই ক্ষমতা অকল্পনীয়। প্রয়োজনে কঠোর হতে পারেন অমূল্য বাবু। এতটাই যা ভাবতেও পারবেন না।সিএই চৌধুরীকে প্রায় অচলই বলা চলে এই লোকটাকে ছাড়া। অবশ্য একেবারে খারাপ লোক নন এরা কেউই।

একটা রহস্যময় চরিত্র আছে এই কেস ফাইলে। হাতে গোনা কিছু মানুষ নাম জানে এই লোকের। এই লোকের সম্পর্কে একটা বক্তব্যই সার্বজনীন। চেহারার দিক দিয়ে নাকি জেফরি বেগের মতই সুদর্শন এই লোক! এই কেসে এনার ভূমিকা নিয়ে জেফরি বেগ কখনোই দ্বিধা করেন নি। কিন্তু কিছু একটা মিলছিলো না।

এডলিন।হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব এ কাজ করছে বর্তমানে। বেশ সুন্দরী। জেফরি বেগের প্রতি বেশ দূর্বলতা আছে এই মেয়ের।তবে জেফরি বিশেষ পাত্তা দেয় না।

হোমিসাইড ডিপার্টমেন্টের কর্তা মি.আহমেদ,ধানমন্ডি থানার ওসি,ইন্সপেকটর, এস.আই, জেফরি বেগ,একজন শিল্পপতি,একজন ফ্রীল্যান্স সাংবাদিক, একজন লেখক, তার চরিত্রহীনা স্ত্রী, কিছুটা রহস্য আর একটা বাড়ি নিয়েই কাহিনী এগিয়ে যাবে। 'ভিটা নুভা'।শেষ মুহুর্তে আপনারা দেখা পেতে পারেন রেবা নামের এক মহিলার।কি সম্পর্ক জেফরি বেগের সাথে এনার তা নাহয় আপাতত উহ্য থাক।

এবার আসা যাক কেস সম্পর্কে।

প্রতিদিনের মতই এক শীতের সকালে জগিং করতে বেরিয়েছিলো জেফরি বেগ। রাস্তা থেকেই তাকে তুলে নিলো সহকারী জামান।সরাসরি নাকি ঘটনাস্থলে যেতে হবে।জগিং এর পোশাক পাল্টানোরও নাকি সময় নেই।বিশিষ্ট লেখক জায়েদ রহমান মারা গেছেন!

ঘটনাস্থলে পৌছে জেফরি বেগ নিশ্চিত হয় এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। খুন! হাতেনাতে বাড়ির ফায়ারস্কেপ সিঁড়ি থেকে গ্রেফতার করে উঠতি নাট্যকার আলম শফিককে। গ্রেফতার করা হয় লেখকের স্ত্রী বর্ষাকে। সবই খুব দ্রুত ঘটে গেলো বলেই বুঝি জেফরি বেগ খুশী হতে পারলো না নিজের সাফল্যে। আরেকটু তদন্ত এগোতেই ঘটনা নতুন মোড় নিলো!

এদিকে খুনের তিনদিনের মাথায় লেখকের আত্মজীবনী 'কথা' প্রকাশ করলো একজন প্রকাশক। মারা যাবার আগে লেখক নিজেই পান্ডুলিপি মেইল করেছিলো প্রকাশককে।যার সাথে কিনা দু বছর কোন সম্পর্কই ছিলো না লেখকের।কথাই বন্ধ ছিলো!

সবথেকে বড় কথা আত্মজীবনীতে লেখক এমন কিছু কনফেশন করেছেন যা ভালো মত নাড়া দিয়েছে তার ফ্যান বেজকে!

আবার আরেক প্রকাশক আদালতে মামলা ঠুকে দিয়ে বললো এই বই নাকি আসল নয়।আসল বই নাকি লেখক তাকে দিতে চেয়েছিলেন আর সেটা নাকি সম্পূর্ন লেখাও হয় নি!

জেফরি বেগ নিশ্চিত খুনটা আলম শফিক বা বর্ষা রেহমান করেন নি। খুনের আগে এবং পরে দুবার যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হতে পারে না কোন নরনারী। তাহলে খুনটা করলো কে?

ইরাম চৌধুরীকে বিনা নোটিশে বোম্বে পাঠালো কেনো তার বড়লোক বাবা? কেনই বা এতগুলো লোক অপছন্দ করতো লক্ষ মানুষের কাছে দেবতুল্য এই লেখককে?

কেই বা সেই সুদর্শন যুবক যাকে ধানমন্ডি এলাকাতে গত একসপ্তাহ ধরে ঘুরতে ফিরতে দেখা গেছে?

ইচ্ছাকৃতভাবেই কিছুটা এলোমেলোভাবে লেখা এই রিভিউ পড়ে আপনার যেমন মাথার গোলমাল দেখা দিচ্ছে ঠিক এমনই গোলমালে পড়ে গেছে জেফরি বেগ। কিছুতেই কিনারা করতে পারছে না রহস্যের। তাই ও সাহায্য চাইছে আপনার। তদন্তে রাজি আছেন হোমিসাইড ডিপার্টমেন্ট এর হয়ে? তাহলে খাওয়া দাওয়ার কথা ভুলে যান।লেগে পড়ুন জেফের সাথে!উদ্ধার করুন ওকে এই অকূল সমূদ্রের মত রহস্য থেকে আর নাহয় নিরব দর্শক হয়ে দেখে যান জেফের কীর্তি।

ব্যক্তিগত মতামতঃ একজন লেখক হিসেবে আরেকজন স্বনামধন্য লেখকের ব্যক্তিগত জীবন থেকে এমন প্লট বের করাটা দৃষ্টি কটু লেগেছে আমার। তবে প্লট বাছবার পরে অসাধারণ লেখনীর ছোঁয়ায় আরো একটা মাস্টারপিস উপহার দিয়েছেন লেখক মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন। তাই রহস্যপ্রেমী হলে প্লটকে ইগনোর করে উপভোগ করুন টানটান উত্তেজনাপূর্ন ও বিতর্কিত এই উপন্যাস। প্রচুর রহস্য উপন্যার পড়ার জন্যই কিনা জানি না শেষের দিকে হালকা ধারনা করতে পারছিলাম কে খুনি।তবে খুনের কারন বোঝার জন্য একদম শেষ অবধি ওয়েট করতে হয়েছে।এবং খুনের কারনটা? অবিশ্বাস্য!

সতর্কবানীঃ
★একেবারে ডাইহার্ড হুমায়ুন আহমেদ ভক্ত হলে এই উপন্যাস আপনার জন্য নয়।
★ উপন্যাসটা আঠারো বছরের নিচের কারো জন্য নয়! (জানি নিষেধ মানবে না!)

লেখক পরিচিতিঃ
লিখেছেনঃ Sajeeb Chakroborty

এমন আরও বইয়ের নিয়মিত রিভিউ পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। প্রতি সপ্তাহের শনি এবং মঙ্গলবারে আমাদের বুক রিভিউ সিরিজের লিখা পাবলিশ হয়ে থাকে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে যোগ দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে ও লাইক দিয়ে রাখুন ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: