Header Ads

বুক রিভিউঃ অলীক মানুষ

বুক রিভিউঃ অলীক মানুষ

বইঃ অলীক মানুষ
লেখকঃ সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

একজন গ্রাম্য পীরকে ঘিরে আবর্তিত এই উপন্যাসের কাহিনী। সে ও তার পরবর্তী ২ প্রজন্মের কথাই উঠে এসেছে এই উপন্যাসে। পীরের অলৌকিকতা মুগ্ধ করে গ্রামীবাসীসহ তার (পীর) পরিবারকে। পীরসাহেব বদিউজ্জামান। তার তিনটি সন্তান, বড় ছেলে দেওবন্দ এর মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে মাওলানা। মেঝ ছেলেটি জন্মথেকেই প্রতিবন্ধী এবং ছোট ছেলে শফিউজ্জামান ওরফে শফি ওরফে ছবিলাল-ই এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

পীর সাহেবের একজায়গায় কখনোই মন টিকতো না তাই তার পরিবারকে সবসময়ই তৈরী থাকতে হতো কখন আবার নতুন জায়গায় গিয়ে নতুন করে ঘর বাঁধতে হয় তার জন্য। পীরসাহেব তার বড় ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়ালেখা করালে ও ছোট ছেলেকে তিনি পন্ডিত এর পাঠশালায় ভর্তি করেন যাতে ইংরেজ এর ভাষা শিখে তাদের সমুচিত জবাব দিতে পারে তার ছেলে। ইংরেজ এলেম না থাকলে তো তাদের সাথে পেরে উঠবে না মুসলমানরা এই ছিল অভিপ্রায়। পুরানো এলাকা ছেড়ে নতুন জায়গায় গৃহস্থালি পরিবর্তন এর কারণে মাঝপথে শফির লেখাপড়া থেমে যায়।

সেখানে দেখা মেলে দুই যমজ বোন রুকু আর াডকা। তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে শফির। রুকুর বাবার বন্ধু দেওয়ান বারি সাহেব এর রুকুদের বাড়িতে সাথে দেখা হয় শফির। যাকে বারিচাচাজি বলে পুরো উপন্যাসে পরিচয় পাওয়া যায়। বারিচাচা পীরসাহেবের সাথে কথা বলে আবার শফির পড়াশুনার ব্যবস্থা করেন তার এষ্টেট এর নবাবদের স্কুলেই। সেখানে দেখা মেলে কাল্লু পাঠান আর তার বউ সিতারার সাথে। সিতারা একদিন নদীতে গোসল করার সময় শফিকে আহবান করে- আও! শফিসাব খেলুঙ্গি । সিতারা কথায় কথায় শফিকে জানায় সেখানকার নবাবের এক উচ্চপদস্থ কর্মচারী সিতারাকে তার ঘরে এসে দৈহিক কামনা পূরণের প্রস্তাব দেয় সিতারা মেনে না নিলে সিতারাকে তুলে নিয়ে বিক্রি করে দেবার কথা বলে।

সিতারার কথায় শফি উক্ত কর্মচারীকে ইট ছুড়ে মারে আর তাতেই মারা যায় সেই কর্মচারী। এদিকে শফি ও তার বড়ভাই এর সাথে রুকু ও তার যমজ বোনের বিয়ের সম্বন্ধ তৈরী হয় শফি তা প্রত্যাখ্যান করে চলে আসলে শফির প্রতবন্ধি মেজভাইর সাথে রুকুর বিয়ে হয়। রুকু ও শফির মধ্যে গড়ে উঠেছিল প্রগাঢ় ভালোবাসা কিন্তু পড়াশোনার দোহাই দিয়ে সে বিয়ে প্রত্যাখান করলেও বিয়ে থেমে থাকেনি। রুকুর বিয়ে হয়ে যায় শফির প্রতিবন্ধী ভাই’র সাথে। তার পরে শফি পালিয়ে আশ্রয় নেয় এক ব্রহ্মচারীর আশ্রমে। সেখানে তার দেখা হয় এক প্রান্তিক কৃষক এর সাথে যার স্ত্রী আসমা।

বিয়ের খবরে এলোমেলো হয়ে যায় শফির পৃথিবী। সেই সময়ে রুকুর প্রতি তীব্র রাগ, দু:খ, ঘৃণায় সে একদিন নদীর তীরে আসমার সাথে সে মেতে ওঠে আদিম খেলায় এই প্রথম সে নারী দেহের স্বাদ পায়। যদিও এই ঘটনায় সে বহুবার বিবেকের তাড়নায় জর্জরিত হয় সে পরের কথা। সেই আশ্রমেই তার দেখা হয় স্বাধীনবালার সাথে। মনের মধ্যে কোথাও যেন প্রচন্ড টান অনুভব করে সে স্বাধীন এর জন্য।

কিন্তু স্বাধীন জানায় পুরুষ জাতির প্রতি সে কোন টান অনুভব করেনা। স্বাধীনের বাবা ছিলেন একজন বিপ্লবী যিনি ইংরেজদের হাতে মারা পরেন। একজন সঙ্গী নিয়ে শফি খুন করে ফেলে এক ইংরেজ সাহেবকে যে ছিল এক রেশম কুঠির মালিক আর স্বাধীন এর বাবার খুনী। আশ্রমের এক জমিদারের পুত্রের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা হয় এবং তারই সূত্রে জমিদার কন্যা রত্নময়ী’র সাথে তার এক অদ্ভুত সম্পর্কের তৈরী হয় যা কুয়াশার মায়াজালে আচ্ছন্ন। তার হাতে আরো খুন হয় রত্নময়ীরই এক কর্মচারী যে শফির কাছে জানতে চায় কেন সে রত্নময়ীর সাথে দেখা করবে শুধুমাত্র এই প্রশ্ন করার জন্য।

সে যেমন ছিল শান্ত তেমনিই ছিল অবাধ্য এক পাগলা ঘোড়া যার স্বাধীনতাকামী বন্দেমাতরাম ধ্বনিতে যেমন বিশ্বাস তেমনি তার বাবার ইসলামী চিন্তাধারাকে ও সে একেবারে ফেলে দিতে পারেনা এই রকম দোটানায় চলে তার জীবনের পদক্ষেপ। ইংরেজ সরকার তাকে সাত বছরের জন্য জেলা থেকে নির্বাসনের আদেশ দেন এবং পরবর্তীতে ফাসির হুকুম হয়, অথচ শফির বাবা পীরসাহেবের একটু চেষ্টাতেই হয়তো তার ফাঁসির হুকুম মাফ হয়ে যেতে পারতো তবুও পীরসাহেব ছেলের জন্য সেই চেষ্টাই করলেন না।

কিন্তু কেন করলেন না আর শেষ পর্যন্ত কি সে বাঁচতে পেরেছিল ফাঁসির হাত থেকে শফি ? প্রেম, ঘৃণা, হিংসা, রাজনীতি সবকিছুরই ছোয়া আছে এই উপন্যাসে।মানুষের মধ্যে কতটুকু সত্য কতটুকুই বা আকাঙ্খার প্রাপ্তি-তারই এক দ্বন্ধের উপ্যাখান এই বইটি। জানতে হলে বইটা হাতে নিতে হবে। আমার মতে রেটিং ৯/১০। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত যা অন্য কারো সাথে নাও মিলতে পারে। বেশি বেশি বই পড়ুন। অন্যকে বই পড়তে উৎসাহিত করুন।

লেখক পরিচিতিঃ
লিখেছেনঃ Abu Baker Siddik

এমন আরও বইয়ের নিয়মিত রিভিউ পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। প্রতি সপ্তাহের শনি এবং মঙ্গলবারে আমাদের বুক রিভিউ সিরিজের লিখা পাবলিশ হয়ে থাকে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে যোগ দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে ও লাইক দিয়ে রাখুন ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: