Header Ads

বই রিভিউঃ জোনাথনের বাড়ির ভূত

বই রিভিউঃ জোনাথনের বাড়ির ভূত

বইঃ জোনাথনের বাড়ির ভূত
লেখিকাঃ সুচিত্রা ভট্টাচার্য
পৃষ্ঠাঃ ম্যাগাজিনে ৪৫ পেজ

মহিলা গোয়েন্দা! মহিলা রহস্য লেখক আছেন। তাই বলে মহিলা গোয়েন্দা কয়জনা? মহিলা গোয়েন্দা সিরিজ যে বিশ্বসাহিত্যে খুব বেশি না তা বলা যায় খুব সহজেই। স্যু গ্র‍্যাফটনের বিখ্যাত এলফাবেট সিরিজে আমরা কিনসে মিলোনের সাথে পরিচিত হই। এ ইজ ফর এলিবাই, বি ইজ ফর বার্গলার এরকম জি ইজ ফর গানশট নামে এগিয়ে যাওয়া সিরিজে মহিলা গোয়েন্দা দেখতে পাই। তেমনি বাংলা সাহিত্যেও এক মহিলা গোয়েন্দা আছেন। নাম মিতিন। ভালো নাম প্রজ্ঞাপারমিতা। সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যের এই গোয়েন্দা চরিত্রটুকুর মিস ওয়াটসন অবশ্যই বোনঝি টুপুর। মিতিনের সাথে আমার পরিচয় শুধু নাম দিয়ে। জুয়েলদা, মানে আমার বড় ভাই একবার পুরো সমগ্রটা কিনে আনেন। সেখান থেকে মিতিনমাসীর সাথে পরিচয়। আপাতদৃষ্টিতে মিতিন একজন বিচক্ষণ মহিলা। তাই বলে ফেলু মিত্তির, শবর, ব্যোমকেশ বক্সী এর মত আশা করে লাভ নেই। কিন্তু পড়ার সময় এদের ছাপ আবছাভাবে পাবেন নিশ্চয়ই। গত কদিন ধরে শুধু ভারতীয় ম্যাগাজিনগুলো পড়ছি। স্বভাবতই এখান থেকেই পরিচয়। যাজ্ঞে, মিতিন মাসীর স্বামী পার্থ, যিনি প্রেসের মালিক, আর ছেলেটির নাম বুমবুম। তবে রহস্য সমাধান ওই পার্থ আর টুপুরকে নিয়ে। আনন্দমেলা পুজো সংখ্যায় "সারান্ডায় শয়তান" পড়েছিলাম। বেশ মজার লেগেছিলো। তবে আজ আলোচনা করবো "জোনাথনের বাড়ির ভুত" গল্পটি নিয়ে।

গল্পের শুরুতে উৎপল নামে পার্থের এক খ্রিস্টান বন্ধু দেখা করতে আসে। তার শ্বশুর জোনাথনের বাড়িতে গত কদিন ধরে হোলি স্পিরিট বা ভূতের আগমন ঘটেছে। ভুত বন্ধ ঘরে চেয়ার টেবিল সরাচ্ছে আওয়াজ করছে। মানুষের কাজ হওয়া সম্ভব নয়, বিড়াল হলেও হতে পারে। কিন্তু গত কদিন ধরে আবার বাল্ব ফেটে যাচ্ছে। গ্লাস ভেঙে যাচ্ছে বাড়ির। জোনাথনকে আবার সুরজমল নামে এক ডেভেলপার বাড়ি বিক্রির অফার করেছে। জোনাথন বিক্রি করবেন না এই বাড়ি। তার দিদিমার মাকে উপহার দেয়া বাড়ি। কিন্তু জোনাথনের ছেলে ডিক আবার এসব পছন্দ করছে না। বোন মির্নার সাথেও সম্পর্ক ভালো না। দুলাভাই উৎপলের সাথে অবশ্য সম্পর্ক ভালো। সুরজমলই কি আসলে ভুতের স্রষ্টা? নাকি আসলেই সেটা হোলি স্পিরিট। মিসেস জোনস, যার স্বামী প্যারালাইজড, তাই বাড়ির পরিচারিকা, তিনিও নাকি হোলি স্পিরিট দেখেছেন। এদিকে এই গোলোকধাঁধায় আরেকটি বড় রহস্য। এই বাড়িতে নাকি জোনাথনের দিদিমার বাবা গুপ্তধন লুকিয়ে গেছেন। উইলেও বলেছেন, "দোজ হু শেল লঙ্গার ফর মাই ট্রেজার শ্যাল গো টু মাই গ্রেইভ"। মৃত্যু! কেন? ভূত নাকি মানুষ? লৌকিক না অলৌকিক! সাদামাটা বর্ণনায় এক জটিল রহস্য উপন্যাস।

উপন্যাসের ঘটনাবলী খুব সুন্দরভাবে সাজানো। থ্রিল ফিলিংটা না এলেও একটা আয়েশি ভাব আছে। আমার খারাপ লাগেনি। বেশ ভালোই। বৃষ্টির দিনে এমন গল্পের আলাদা আনন্দ আছে।

No comments: