Header Ads

বই রিভিউঃ মহাভারত (৪র্থ পর্ব)

বই রিভিউঃ মহাভারত (৪র্থ পর্ব)

বই : মহাভারত,
লেখক : কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস 
সারানুবাদ : রাজশেখর বসু

আজকের পোস্টটি মহাভারত নিয়ে আমার লেখা চার পর্বে বিভক্ত গ্রন্থ আলোচনার শেষ পর্ব । আমার লেখা আলোচনা পড়ে যদি আপনাদের ভাল লেগে থাকে তবে অন্য পর্বগুলো পড়ার জন্য পোস্টের শেষে উল্লেখ করা লিংকগুলো ব্রাউজ করতে পারবেন । আপনাদের সুবিধার জন্যই বিগত পর্বগুলোর লিংক প্রতিটি পোস্টের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে ।

আজকের পর্বে থাকবে যুদ্ধ পরবর্তী মহাভারতের বিশ্লেষণ।

যুদ্ধের শেষে সকল যোদ্ধাদের দাহ করার কাজ সম্পন্ন হল । অনেক সন্তান অনাথ হল, অনেক স্ত্রী বিধবা হলেন, অনেক মা তাদের সন্তান হারালেন । একটি উপাখ্যানে কথিত আছে কুরুক্ষেত্রে যারা নিহত হন তাঁদের স্বর্গপ্রাপ্তি ঘটে । আজকের পর্বে মূলত মহাভারতের নানা প্রভাবশালী চরিত্রদের রাজ্যভোগ এবং তাঁদের মৃত্যুকালীন এবং মৃত্যু পরবর্তী সময়ের বিবরণ থাকবে ।

মহাভারতের যুদ্ধের শেষে কেবল একজন মাত্র বীর যোদ্ধা মৃত্যুপথযাত্রী ছিলেন । তিনি হলেন মহাবীর ভীষ্ম । তিনি শরশয্যায় থেকে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য সূর্যের উত্তরায়ণের অপেক্ষায় রইলেন । শরশয্যায় তিনি মোট ৫৮ দিন শায়িত ছিলেন । শরশয্যাকালীন অবস্থায় তিনি যুধিষ্ঠির সহ সকলকে অনেক ধর্মোপদেশ দিয়েছিলেন । যদিও তাঁর কিছু বক্তব্য ছিলো ধর্মীয় গ্রন্থের সাথে সম্পূর্ণরুপে সাংঘর্ষিক ।

বর্ণপ্রথা হিন্দুধর্মের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়, বলা যায় বর্ণপ্রথা হিন্দু ধর্মের উপর একটি ভয়াল অভিশাপ । মহাভারতের সময়কালেও আমরা বর্ণ প্রথার নোংরা ব্যবহারকে দেখতে পায় । যে বর্ণ প্রথা তৈরী হয়েছিলো কাজের ভিত্তিতে, পরে তা হয়ে পরে জন্মের ভিত্তিতে ।

ভীষ্ম বলেছেন : “ব্রাহ্মণের ধর্ম ইন্দ্রিয়দমন বেদাভ্যাস এবং যাজন । ক্ষত্রিয়ের ধর্ম দান যজন বেদাধ্যয়ন প্রজাপালন ও দুষ্টের দমন ; তিনি যাজন এবং অধ্যাপনা করবেন না ।বৈশ্যের ধর্ম দান, বেদাধ্যয়ন, যজ্ঞ, সদুপায়ে ধনসঞ্চয় এবং পিতার ন্যায় পশুপালন । প্রজাপতি শুদ্রকে অপর তিন বর্ণের দাসরুপে সৃষ্টি করেছেন, তিন বর্ণের সেবা করাই শুদ্রের ধর্ম । শুদ্র ধনসঞ্চয় করবেনা , কারণ নীচ লোকে ধন দিয়ে উচ্চশ্রেণীর লোককে বশীভূত করে; কিন্তু ধার্মিক শুদ্র রাজার অনুমতিতে ধনসঞ্চয় করতে পারে । শূদ্রের বেদে অধিকার নেই , ব্রাহ্মণাদি তিন বর্ণের সেবা এবং তাদের অনুষ্ঠিত যজ্ঞই শূ্দ্রের যজ্ঞ ”।

তাঁর এই বক্তব্য সরাসরিই বেদ বিরুদ্ধ । ঈশ্বর কোন মানুষ বা শ্রেণীবিশেষকে কারো দাসরুপে সৃষ্টি করেননি। বিদুর নিজে শূদ্রবংশীয় পুত্র হয়েও কৌরবদের মন্ত্রীসভায় বিদ্যমান ছিলেন । । নিজ যোগ্যতায় ব্রাহ্মণত্ব অর্জন করেছেন । শিক্ষা বা বুদ্ধিমত্তায় কারোর চেয়ে কম ছিলেননা ।মহাভারতের যুদ্ধের পরও তিনি যুধিষ্ঠিরের রাজ্য পরিচালনাকালীন সময়ে যাবতীয় আইন সংক্রান্ত বিষয়ের দেখভাল করতেন। আরো অবাক করার মত বিষয় স্বয়ং কৃষ্ণ সেসময় ভীষ্মের নিকট উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনরুপ দ্বিমত পোষণ করেননি । বরং নীরব থেকেছেন ।

আমার নিজস্ব বিশ্লেষণে এর তিনটি কারণ পাওয়া যায় । হয়তো মৌন থেকে কৃষ্ণ সম্মতি জানিয়েছেন অথবা একজন বৃদ্ধ মৃত্যু পথযাত্রী মানুষের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তিনি কোনরুপ বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাননি অথবা তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার নিয়ম নীতি হয়ত এমনই ছিল। তিনটি কারণেরই সম্ভাব্যতা আছে । তবে যে কোন একটি কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি ।

ভীষ্ম বলেছিলেন: “ত্রিশ বৎসরের পাত্র দশ বৎসরের কন্যাকে এবং একুশ বৎসরের পাত্র সাত বৎসরের কন্যাকে বিবাহ করবে । ঋতুমতী হলে কন্যা তিন বৎসর বিবাহের জন্য অপেক্ষা করবে তারপর সে স্বয়ং পতি অন্বেষণ করবে” । যদিও অনুশাসনপর্বের ১৬ পরিচ্ছদে (সদাচার – ভ্রাতার কর্তব্য) বলা হয়েছে বয়স্থা কন্যাকেই বিয়ে করা বিজ্ঞ লোকের উচিত ।

পুত্রশোকে ভারাক্রান্ত ধৃতরাষ্ট্র পান্ডবদের ফিরে আসার পরও নিজের মাঝে ক্রোধকে লুকিয়ে রেখেছিলেন । ভীম যখন তাঁকে আলিঙ্গন করতে উদ্যত হন সেসময় ধৃতরাষ্ট্র তাঁকে জড়িয়ে ধরে নিজের বাহুবলে পিষ্ট করে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন । কৃষ্ণ সে পরিকল্পনা বুঝতে পেরে দুর্যোধনের তৈরী করা ভীমের লৌহমূর্তিকে ভীম হিসেবে ধৃতরাষ্ট্রের নিকট উপস্থাপিত করেন । অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র তা বুঝতে না পেরে সেই লৌহ মূর্তিকে আলিঙ্গন করে নিজের বাহুবল দ্বারা চূর্ণ করে ফেলেন । তবে শেষ পর্যন্ত পুত্র শোকে কাতর ধৃতরাষ্ট্র তাঁর ভুলটুকু বুঝতে পারেন এবং অনুতপ্ত হন ।

যুদ্ধের শেষে যুধিষ্ঠির পুনরায় অশ্বমেধ যজ্ঞ করে নিজেদের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করলেন । যুদ্ধজয়ের পর পঞ্চপান্ডব মোট ৩৬ বছর রাজ্য পরিচালনা করেন । প্রথম পনের বছর তাঁরা ধৃতরাষ্ট্রের সম্মতি নিয়ে রাজ্য পরিচালনা করতেন ।যুধিষ্ঠির সবসময় চাইতেন যেন পুত্রহারা ধৃতরাষ্ট্রের কোনরুপ অবহেলা না হয় । কিন্তু ভীম কোনভাবেই ধৃতরাষ্ট্রের অতীতে করা খারাপ ব্যবহারগুলো ভুলতে পারেননি। তাই অপ্রত্যক্ষভাবে ভীম এমন অনেক কাজ করতেন যা ধৃতরাষ্ট্রকে মানসিক কষ্ট দিত । একদিন ভীম তাঁর বন্ধুদের কাছে তাল ঠুকে বললেন: “আমার এই চন্দনচর্চিত পরিঘতূল্য বাহুর প্রতাপেই মূঢ় দুর্যোধনাদি পুত্র ও বান্ধবসহ নিহত হয়েছে ”। ভীমের এই বক্তব্য শুনে ধৃতরাষ্ট্র অত্যন্ত কষ্ট পান এবং গান্ধারী সময়কাল বিবেচনায় নীরব থাকেন । মূলত ভীমের এই বক্তব্য শোনার পরই ধৃতরাষ্ট্র বনগমনে ইচ্ছুক হন তবে অন্য পান্ডবগণ, দ্রৌপদী এবং মাতা কুন্তী এ বিষয়ে অজ্ঞাত ছিলেন । কুন্তী, বিদুর, গান্ধারী এবং সঞ্জয়ও তাঁর অনুগামী হন ।

বনগমনের পূর্বে ধৃতরাষ্ট্র ভীষ্ম, জয়দ্রথ, দুর্যোধনাদি, দ্রোণ, প্রমুখের শ্রাদ্ধ ক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য বিদুর মারফত যুধিষ্ঠিরের নিকট কিছু অর্থ প্রদানের অনুরোধ জানান ।যুধিষ্ঠির, অর্জুন রাজি হলেও ভীম সম্মত হননি । অর্জুনের অনুরোধের পর ভীম সক্রোধে অর্জুনকে বললেন : ভীষ্মদ্রোণাদি এবং সুহৃদগণের শ্রাদ্ধ আমরাই করব , কর্ণের শ্রাদ্ধ কুন্তী করবেন ।শ্রাদ্ধের জন্য ধৃতরাষ্ট্রকে অর্থ দেয়া উচিত নয়, তার কুলাঙ্গার পুত্রগণ পরলোকে কষ্ট ভোগ করুক । অর্জুন, পূর্বের কথা কি তুমি ভুলে গেছ ? আমাদের বনবাসকালে তোমার এই জ্যেষ্ঠতাতের স্নেহ কোথায় ছিল? দ্রোণ, ভীষ্ম এবং সোমদত্ত তখন কি করছিলেন? দ্যূতসভায় এই দুর্বুদ্ধি ধৃতরাষ্ট্রই বিদুরকে জিজ্ঞাসা করছিলেন – আমরা কোন বস্তু জিতলাম? এসব কি তোমার মনে নেই ?”

ভীমের প্রত্যুত্তরে মনোকষ্ট পেয়ে যুধিষ্ঠির নিজের কোষ থেকে অর্থ প্রদান করেন যাতে ভীম অসন্তুষ্ট না হন । কেবল শারীরিকভাবে বিশালাকার হয়ে শত্রুকে পরাস্ত করে একজন প্রকৃত বীর যোদ্ধা হওয়া যায়না । সেই সাথে দয়ালু, মহানুভবতা , উদারতা এসব গুণসমূহ থাকার প্রয়োজন পরে । যা ভীমের ছিলনা । অন্যথায় তিনি বয়োবৃদ্ধ , আত্মগ্লানিতে ভোগা, পুত্রশোকে কাতর, অনুতপ্ত, পিতৃসম ধৃতরাষ্ট্রের প্রতি এমন নিম্ন রুচির ব্যবহার করতে পারতেন না । ভীম সৎ ছিলেন এটুকু সত্য তবে তাঁর মাঝে বাকি মানবিক গুণগুসমূহের যথেষ্ঠ অভাব ছিল । তাঁর বীরত্ব অনুকরণযোগ্য, তাঁর সততা শিক্ষণীয়, তবে তাঁর কুরুচিপূর্ণ মানসিকতা কোনভাবেই অনুসরণযোগ্য নয় । কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সমাপ্তির পর ধৃতরাষ্ট্র পনের বছর হস্তিনাপুরে এবং তিন বছর বনবাসে অতিবাহিত করেন ।

ধৃতরাষ্ট্রগণ বনবাসে যাওয়ার কিছু দিন পর পান্ডবগণ তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এক মাস তাঁদের সাথেই বসবাস করেন । বনবাসে থাকাকালীন সর্বপ্রথম বিদুর দেহত্যাগ করেন এবং যোগবলে তিনি যুধিষ্ঠিরের শরীরে প্রবেশ করেন। ধৃতরাষ্ট্র, পঞ্চপান্ডব সহ অন্যরা ব্যাসের দিব্য শক্তির প্রভাবে এক রাতের জন্য কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তাঁদের মৃত আত্মীয়দের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ লাভ করেন । তারপর পঞ্চপান্ডবগণ হস্তিনাপুরে ফিরে যান।

তাঁদের ফিরে যাওয়ার ছয় মাস পর ধৃতরাষ্ট্র, কুন্তী, সঞ্জয় এবং গান্ধারী একটি বনে গমন করেন । সেই সময় বনে দাবানলের সূচনা হয়, কিন্তু অনাহারের ফলে তাঁরা শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বর ছিলেন তাই পালাতে পারলেন না । তাঁরা দাবানলেই দেহত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন । ধ্যানযোগে সমাধিস্থ হওয়ার ফলে তাঁদের শরীর কাঠের ন্যায় নিশ্চল হল । ধৃতরাষ্ট্রের নির্দেশে কেবল সঞ্জয় বনত্যাগ করলেন । সঞ্জয় গঙ্গাতীরের মহষির্গণকে সব কিছু জানিয়ে হিমালয়ে গমন করেন । তাঁদের মৃত্যুর সংবাদটি যুধিষ্ঠির নারদের নিকট থেকে প্রাপ্ত হন ।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের শেষে গান্ধারী যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হন । দিব্য দৃষ্টি দিয়ে তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতাকে দেখতে পান । তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে কৃষ্ণকে বললেন: “পতির শুশ্রুষা করে আমি যে তপোবল অর্জন করেছি তার দ্বারা তোমাকে অভিশাপ দিচ্ছি – তুমি যখন কুরুপান্ডব জাতিদের বিনাশ উপেক্ষা করেছ তখন তোমার জ্ঞাতিগণকেও তুমি বিনষ্ট করবে ।ছত্রিশ বৎসর পরে তুমি জ্ঞাতিহীন, আমাত্যহীন, পুত্রহীন ও বনচারী হয়ে অপকৃষ্ট উপায়ে নিহত হবে । আজ যেমন ভারতবংশের নারীরা ভূমিতে লুণ্ঠিত হচ্ছে, তোমাদের নারীরাও সেই রুপ হবে”। সবটা শুনে হালকা হেসে কৃষ্ণ গান্ধারীর সাথে সহমত ব্যক্ত করলেন এবং এই মর্মে গান্ধারীকে বললেন যে , “বৃষ্ণিবংশের সংহারকর্তা আমি ভিন্ন আর কেউ নেই” ।

৩৬ বছর পরে সেই ভয়াল সময় এল । দ্বারকায় নানা কুলক্ষণ দেখা দিল । কৃষ্ণের সুদর্শন চক্র সকলের সামনে আকাশে মিলিয়ে গেল, অপ্সরারা বলরামের তালধ্বজ এবং কৃষ্ণের গরুড়ধ্বজ হরণ করে উচ্চরবে বললেন: “যাদবগণ প্রভাসতীর্থে চলে যাও” । প্রভাসতীর্থে যাদবগণ অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লিপ্ত হয় এবং একে অন্যের হাতে প্রাণ দিতে থাকে । কৃষ্ণ দারুকের সহায়তায় অর্জুনের নিকট এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সংবাদ প্রেরণ করলেন । কৃ্ষ্ণ তাঁর পিতা বসুদেবকে অনুরোধ করলেন , অর্জুন না আসা পর্যন্ত নারীদের রক্ষা করতে ।বসুদেব অর্জুনের আগমনের পর দেহত্যাগ করেন । তাঁর চার জন স্ত্রী দেবকী, ভদ্রা, মদিরা এবং রোহিণী পতির (বসুদেব) চিতার আরোহণ করে তাঁর সহগামিনী হলেন ।

অর্জুন আসার পূর্বে বলরাম সমুদ্রে দেহত্যাগ করেন এবং কৃষ্ণ জরা নামক ব্যাধের দ্বারা শরবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন । ব্যাধ কৃষ্ণকে একটি মৃগ ভেবে ভুল করেছিলেন । তবে বলরাম এবং কৃষ্ণের এই মৃত্যুর কারণ গান্ধারী (কেবল কৃষ্ণের মৃত্যুর জন্য) এবং কতিপয় ঋষিগণের দেয়া অভিশাপ (বলরাম এবং কৃষ্ণ উভয়ের মৃত্যুর জন্য)। ঋষিগণের সাথে সারণ, শাম্ব প্রভৃতি বীরগণ দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁরা ক্রুদ্ধ হয়ে বলরাম ও কৃষ্ণের মৃত্যু এবং যদুকূল ধ্বংসের অভিশাপ দেন । কৃষ্ণ ঋষিগণের অভিশাপের সংবাদটি জানার পর তাঁদের সাথে সহমত জ্ঞাপন করেন এবং এর প্রতিকারের জন্য কোনরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে নিজেকে বিরত রাখেন ।

অর্জুন কৃষ্ণে প্রেরিত সংবাদ শুনে উপস্থিত হন এবং সবকিছু জেনে শোকাকুল হন । সকলের অন্তিমকার্য শেষ করে ৭ম দিনে অর্জুন কৃষ্ণের ১৬ হাজার স্ত্রী, যাদবনারীগণ, বালক এবং বৃদ্ধদের নিয়ে ইন্দ্রপ্রস্থে যাত্রা করলেন । অর্জুন দ্বারকার যে যে স্থান অতিক্রম করলেন তৎক্ষণাৎ সেই সেই স্থান সমুদ্র জলে প্লাবিত হল । ফেরার পথে অর্জুন দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হন তবে এককালের সেই মহাবীর অর্জুন এবার আর শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেননা । তাঁর সামনেই দস্যূরা বৃষ্ণি এবং অন্ধক বংশিয় সুন্দরীদের হরণ করে আবার অনেকে তাদের সাতে স্বেচ্ছায় গমন করেন । এরুপ দুর্দশা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে অর্জুন অবশিষ্ট নারীদের নিয়ে কুরুক্ষেত্রে এলেন । যাদবগণের একমাত্র বংশধর কৃষ্ণের পুত্র বজ্রকে তিনি ইন্দ্রপ্রস্থের রাজ্য দিলেন । কৃষ্ণের পত্নী রুক্মিণী, গান্ধারী, শৈব্যা, হৈমবতী, জাম্ববতী অগ্নিপ্রবেশ করলেন ।

কালের পরিক্রমায় এবার পঞ্চপান্ডবগণ এবং দ্রৌপদী দেহত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন । তাঁরা অভিমন্যূ পুত্র পরীক্ষিতকে রাজ্যে অভিষিক্ত করলেন এবং যুযুৎসুকে (ধৃতরাষ্ট্রের একমাত্র বেঁচে থাকা সন্তান) রাজ্য চালনার ভার দিলেন। কৃপাচার্যকে দিলেন পরীক্ষিতের শিক্ষার ভার । পঞ্চপান্ডবগণ এবং দ্রৌপদী হস্তিনাপুর থেকে পূর্ব দিকে যাত্রা করলেন । স্বয়ং ধর্ম একটি কুকুরের রুপ ধরে তাঁদের সমগ্র পথ অনুসরণ করলেন । পথিমধ্যে অগ্নির উপদেশে অর্জুন তাঁর অস্ত্র সমূহ জলে নিক্ষেপ করে বরুণের নিকট প্রত্যার্পন করলেন । বলে রাখা ভাল খান্ডব দগ্ধ করার সময় অগ্নি দেবের অনুরোধে বরুণ , অর্জুনকে গান্ডীব ধনু এবং কৃষ্ণকে সুদর্শন চক্র প্রদান করেছিলেন যা মৃত্যুর পর্বে তিনি তাঁদের নিকট থেকে প্রত্যার্পণ করেন ।

পাণ্ডবগণ হিমালয়ে যাওয়ার পথে যথাক্রমে দ্রৌপদী, সহদেব, নকুল , অর্জুন এবং ভীম ভূপাতিত হয়ে দেহত্যাগ করলেন । যুধিষ্ঠিরের মতে তাঁদের ভূপাতিত হওয়ার কারণসমূহ :

১. দ্রৌপদী : অর্জুনের প্রতি তাঁর বিশেষ পক্ষপাত ।

২. সহদেব : তিনি ভাবতেন তাঁর চেয়ে বিজ্ঞ আর কেউ নেই ।

৩. নকুল : নকুল ভাবতেন তাঁর মত রুপবান কেউ নেই ।

৪. অর্জুন : অর্জুন সর্বদা গর্ব করতেন যে তিনি একদিনেই সকল শত্রু বিনষ্ট করবেন, কিন্তু তিনি তা পারেননি । তাছাড়া তিনি অন্য ধনুর্ধ্বরদের অবজ্ঞা করতেন, ঐশ্বর্যকামী পুরুষদের এমন করা উচিত নয় ।

৫. ভীম : তিনি অত্যন্ত ভোজন করতেন এবং অন্যের বল না জেনেই নিজের বলের গর্ব করতেন ।

পরবর্তীতে যুধিষ্ঠির সশরীরে স্বর্গে প্রবেশ করেন । পথিমধ্যে কুকুরের জন্য ইন্দ্রের রথ ত্যাগ করার অভিপ্রায় এবং স্বর্গে পৌছানোর পর নিজের স্বর্গসুখ ত্যাগ করে তিনি তাঁর পরিবার পরিজন যেখানে আছেন সেখানে থাকতে ইচ্ছুক হন । অন্যের জন্য নিজের সুখ ত্যাগ করে যুধিষ্ঠির ইতিহাসে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন ।

তাঁর এমন উদারতায় স্বর্গের দেবতারাও মুগ্ধ হলেন । ধর্ম যুধিষ্ঠিরেকে তিনবার বিচলিত করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন । গুরু দ্রোণকে অশ্বত্থামার মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ দেয়ার শাস্তিস্বরূপ ইন্দ্র ছলের দ্বারা যুধিষ্টিরকে সাময়িক নরক দর্শন করান । পরে যুধিষ্ঠির আকাশগঙ্গায় স্নান করে মনুষ্যদেহ ত্যাগ করেন এবং দিব্য দেহ ধারণ করে তাঁর পরিবার পরিজনদের যে স্থানে ক্রোধ ত্যাগ করে সুখে আছেন সেখানে গমন করলেন ।

যুধিষ্ঠির দুর্যোধনকে স্বর্গে দেখে ক্রুদ্ধ হন কারণ তাঁর অতীত কার্যকলাপ । তবে একটি কথা প্রচলিত ছিল যে , যে ব্যাক্তি কুরুক্ষেত্রে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করবে তিনি স্বর্গলোক প্রাপ্ত হন তাছাড়া ক্ষত্রিয় ধর্মানুসারে ক্ষত্রিয়গণও যুদ্ধে নিহত হলে স্বর্গলাভ করেন ।

কিন্তু কেবল মিথ্যা সংবাদের জন্য যুধিষ্ঠিরের সাময়িক নরক ভোগ আমার কাছে যুক্তিসংগত বলে মনে হয়না । কারণ জতুগৃহ দাহে যুধিষ্ঠিরের সমর্থন, দ্যূতসভায় দ্রৌপদীকে পণ হিসেবে রাখা এসবও ধর্মমতে পাপ কাজ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা কিন্তু সেসবের জন্য যুধিষ্ঠিরকে কোন কিছুর সম্মুখীন হতে হলোনা বিষয়টি খুবই আশ্চর্যজনক ।

তবে কি ধর্ম সেসব কাজকে সমর্থন করে ? যদি সমর্থন করেই থাকে তবে দ্রৌপদীর বস্ত্র হরণের দিন কৃষ্ণ তাঁকে বাঁচাতে এলেন কেন? দ্রৌপদীর উপর প্রভুত্ব সৃষ্টিতে কৌরবগণ যে যুক্তিসমূহ দিয়েছিলেন সেগুলোকেও তো তাহলে ন্যায়সংগত বলতে হয় । তবে কেন ঘটল এই মহাভারতের যুদ্ধ? যুদ্ধ জয়ের পর যুধিষ্ঠির অশ্বমেধ যজ্ঞ করে নিজেকে রাজ্যে অভিষিক্ত করেন এবং সমস্ত পাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করেন । তবে কি যুধিষ্ঠিরের যজ্ঞে কোনরুপ ত্রুটি ছিল ? অন্যথায় তাঁকে কিছু সময়ের জন্য হলেও নরক দর্শন করতে হল কেন? কিন্তু মহাভারতের শেষাংশে এসে আমরা এসব ধোঁয়াশার কোনরুপ উত্তর খুঁজে পায়না । আর এসব উত্তরহীন প্রশ্নসমূহকে অজানা রেখেই শেষ হয় কালজয়ী গ্রন্থ মহাভারতের বিবরণ ।

মহাভারতে কৃষ্ণের ১৬ হাজার পত্নী সংখ্যার উল্লেখ আছে কিন্তু কিভাবে কৃষ্ণের পত্নী সংখ্যা ১৬ হাজার হলো তার কোন বিবরণ নেই । তেমনি লেখকও গ্রন্থের শেষে এ বিষয়ে কোনরুপ আলোকপাত করেননি । কৃষ্ণের মত মহাভারতের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের এমন বিশাল সংখ্যক স্ত্রী থাকার বিষয়টির সঠিক কোন ব্যাখ্যা আমারও জানা নেই । তাই আমিও এ বিষয়ে কোন তথ্য প্রদান করতে পারছিনা । মহাভারতের অন্যসব চরিত্রদের নানা কাজ এবং বক্তব্যের ডামাডোলে কৃষ্ণের এই বিশাল পত্নী সংখ্যার বিষয়টি অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে এমনই বলতে হয় ।

সমগ্র মহাভারতে (উপাখ্যান ব্যাতিত) গো হত্যাকে ঘৃণা করা হলেও সহদেব কি করে গোবৎসের চামড়ার উপর শয়ন করলেন (বিরাটপর্ব ৭ম অনুচ্ছেদ, ভীমের নিকট দ্রৌপদীর বিলাপ) তার কোনরুপ ব্যাখ্যা আমরা পায়না । কারণ গো বৎস বয়সের ভারে মারা গিয়েছে এমন যুক্তি খাটেনা। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে অথবা সে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে কেবল এই দুটি যুক্তিরই সম্ভাব্যতা রয়েছে । তবে এটুকু সত্য যে সঠিক কারণটির উল্লেখ থাকলে অনেক বিতর্কেরই অবসান হত । সে সময়ের সমাজ ব্যবস্থায় গোহত্যা চরম ঘৃণিত হলেও সহদেব কি করে গোবৎসের চামড়ার উপর ঘুমাতেন তা রীতিমত অবাক করার বিষয় ।

আমার নিজস্ব কয়েকটি কথা : আজ আমি আমার চার পর্বে বিভক্ত চিত্তাকষর্ক গ্রন্থ মহাভারতের আলোচনার ইতি টানলাম । আমার অনেক বক্তব্য হয়ত অনেকেরই ভাল লাগেনি আবার হয়ত অনেকেরই ভাল লেগেছে । তবে আমার কোন বক্তব্যে কেউ যদি মনে কোনরুপ কষ্ট পান তবে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী । কারো মনে কষ্ট দেয়া আমার উদ্দেশ্য নয় । আমি কেবল আমার ব্যাক্তিগত বিশ্লেষণটুকুই আপনাদের সবার সাথে ভাগ করেছি মাত্র । আমি নিজে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও নিজের ধর্মীয় আবেগকে কোনরুপ প্রশ্রয় দিইনি কারণ ধর্মীয় আবেগের আবেগের আধিক্য ঘটলে যুক্তি লোপ পায় । তাই আমি চেষ্টা করেছি ধর্মীয় আবেগকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রেখে মহাভারতের সবকিছুকে যুক্তি দিয়ে বিচার করতে । তবে কতটুকু পেরেছি তাঁর নির্ধারক আপনারা ।

মহাভারতের আলোচনাটি লিখার সময় আমি সর্বোতভাবে চেষ্টা করেছি জাতপ্রথার বিষয়গুলিকে উপস্থাপন করতে । জাতপ্রথা সেসময় ছিল আজো আছে এবং আমার দেশের হিন্দুদের মাঝে (বিশেষত ব্রাহ্মণ এবং ক্ষত্রিয়) এই জাত্যাভিমান প্রবল । এই দিক থেকে ভারতের কেবল উন্নত অঞ্চলগুলোর হিন্দুরা অনেকটাই গোঁড়ামি মুক্ত (তবে পুরোপুরি নয়) । খুব অবাক লাগে যখন দেখি আমার দেশের হিন্দুরা নানা আলাপ আলোচনায় ভারতীয় হিন্দুদের নিজ ধর্মচর্চায় উদারতার কথা বলে কিন্তু তারা সেসব থেকে কিছু শিখতে আগ্রহী হননা ।

বরং তারা কলার তুলে কে ব্রাহ্মণ কে ক্ষত্রিয় এসব নিয়ে অহংকার প্রকাশ করার মাঝেই নিজেদের সার্থকতা নিহিত বলে ভাবে । একসাথে বসে খাবার খেলে তাদের জাত যায়না, বন্ধুত্ব করতে জাত যায়না, তথাকথিত নীচু জাতের মানুষদের ঘরে নিমন্ত্রণ খেতে গেলে অথবা নীচু জাতির মানুষরা উঁচু জাতির মানুষদের ঘরে নিমন্ত্রণ খেতে এলেও কারো জাতে সমস্যা হয়না , যত জাত নিয়ে টানাটানি , লাফালাফি, রেষারেষি কেবল বিয়ের বেলায় । ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় প্রত্যেকের মাঝে লুকিয়ে থাকা জাত্যাভিমানের বিষয়টি তখন অনেকটা দিনের আলোর মতই ফুটে উঠে । ক্ষত্রিয়রা অনেকটাই সময়ের পটপরিবর্তনের ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের গোঁড়ামি কিছুটা ত্যাগ করতে শিখলেও ব্রাহ্মরণরা পুরোপুরিই গোঁড়ামিতে নাছোড়বান্দা । তারা বরং নানা ধারা উপধারার বুলি আওরিয়ে নিজেদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রমাণে ব্যাস্ত ।

জাত্যাভিমানকে নিজেদের শরীরের সাথে রশি দিয়ে ভালভাবে বেঁধে রাখতে বদ্ধ পরিকর । তাদের ব্যবহার, আচার আচরণে এমনটাই বোধ হয় যেন তারা জাত্যাভিমানের গোঁড়ামিকে নূন্যতম ছাড় দিতেও ইচ্ছুক নন । বরং রশি ছিঁড়ে যাওয়ার ভয় থাকলে তারা নিজেদের গরিমাকে সুপাগ্লু ব্যবহার করে হলেও যুক্ত করে রাখতে ইচ্ছুক । আর তাও যদি সম্ভব না হয় তবে প্রয়োজনে তারা সিমেন্ট ব্যবহার করে হলেও নিজেদের জাত্যাভিমানকে নিজেদের শরীরের সাথে আগলে রাখবেন । বিয়ের সময় তারা এমন একটি ভাবভঙ্গির প্রদর্শন করেন যেন তাদের চোখে ব্রাহ্মণ শ্রেণী ছাড়া আর কোন শ্রেণীর মানুষই নেই ।

এই গ্রুপে দুই বাংলারই অনেক হিন্দু দাদা দিদি আছেন তবে আমার বক্তব্যগুলো কেবল বাংলাদশের হিন্দুদের জন্যই প্রযোজ্য । হয়তো অনেকেই আমার লিখাটি পড়ে রেগে যেতে পারেন, তাদের প্রতি অনুরোধ রইল নীরবে আমার বক্তব্যগুলো একটু ভাবুন, সত্যতা অবশ্যই পাবেন । তবে সত্য সবসময় তেঁতো হয় তাই তার স্বাদটি খুব কম মানুষেরই ভাল লাগে । বাংলাদেশের ব্রাক্ষণ এবং ক্ষত্রিয়রা জাত্যাভিমানে আকণ্ঠ নিমজ্জিত । সময়ের ফেরে ক্ষত্রিয়রা গোঁড়ামিকে কিছুটা ত্যাগ করলেও ব্রাহ্মণরা তো কোনভাবেই করেন না । আজ পর্যন্ত এ বিষয়টিই আমার কাছে বোধগম্য হলোনা যে জাত্যাভিমান কি করে গর্বের কারণ হয় ? মানুষ নাকি যত উচ্চ শিখরে উঠে ততই নাকি নম্র হতে , ভদ্র হতে, উদার হতে শিখে ।

কিন্তু কথাটি শুনতে যতই সুন্দর লাগুক না কেন, হৃদয় আন্দোলিত করা হোক না কেন বাস্তবতা একদম ভিন্ন কথা বলে । বাস্তবতা দেখলে মনে হয় তথাকথিত উঁচু জাতে জন্মগ্রহণ মানুষকে আরো নীচু হতে শিখায়, গরিমার বৃদ্ধি ঘটায়, মনুষ্যত্ববোধকে পায়ের নিচে পিষে ফেলে, মনকে নিকশ কালো অন্ধকারে ভরিয়ে তুলে । তবুও আমরা জাত নিয়ে মিথ্যা গর্ব করি। আমি ব্রাহ্মণ, আমি ক্ষত্রিয় এসব বলে নিজেদের জাহির করি । এটা ভুলে যায় যে অন্যের চোখে আমরা নিজেদেরকেই কতটা ছোট করে ফেলছি । আবার পরে সেই আমরাই গলা ফাটিয়ে বলি “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই ”। হায়রে কি অদ্ভুত স্ববিরোধীতা !!!!

সবশেষে এটুকু বলতে চাই, বন্দন দাদাকে বিশেষ ধন্যবাদ না দিলে আমার লিখাটি অসম্পূর্ণই থেকে যাবে । কারণ দাদা যদি আমাকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা না দিতেন তবে বানানের ত্রুটি, চন্দ্রবিন্দু টাইপ করা জনিত সমস্যা এবং উপস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যে আমার চোখ এড়িয়ে যেত এতে কোন সন্দেহ নেই । তাই বন্দন দাদাকে আন্ত:রিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রদানের মাধ্যমে আমি আমার পোস্টটি শেষ করলাম । ধন্যবাদ বন্দনদা । আমার লেখা পোস্টে আপনার প্রদান করা সাহায্যের অবদান অনস্বীকার্য ।

লেখক পরিচিতিঃ
লিখেছেনঃ Joyraj Hore

এমন আরও বইয়ের নিয়মিত রিভিউ পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। প্রতি সপ্তাহের শনি এবং মঙ্গলবারে আমাদের বুক রিভিউ সিরিজের লিখা পাবলিশ হয়ে থাকে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে যোগ দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে ও লাইক দিয়ে রাখুন ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: