Header Ads

চাঁদে যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা

চাঁদে যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা

ইদানিং এরকম মানুষের অভাব নেই যারা বিশ্বাস করে যে মানুষ আসলে কখনোই চাঁদে যায় নি এবং এখনও তাদের কাছে এমন প্রযুক্তি নেই যা ব্যবহার করে চাঁদে যাওয়া সম্ভব। হয়তো আপনিই এমন একজন অথবা আপনার আশেপাশেই এমন অনেক মানুষ আছে। আমি নিজে চাঁদে যাই নি বা নিজের চোখে দেখি নি মানুষকে চাঁদে যেতে, তাই আমার কখনোই বলা উচিত হবে না যে সত্যিই মানুষ চাঁদে গিয়েছিল/যায়নি, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, যাওয়া সম্ভব, এবং সেটা বাস্তবেই ঘটেছিলো, ইউটিউব বা গুগল ঘাটলে এখন অনেক অনেক পোস্ট, ব্লগ আর ভিডিও পাওয়া যাবে যেখানে বলা হয় চন্দ্রাভিযান আসলে পুরোটাই একটা বানানো ঘটনা। নাসার সাজানো নাটক, হলিউডের কারসাজি। অবিশ্বাসীদের কাছে অনেক প্রশ্নই আছে করার মত, তবে সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নিয়ে বলা যাক।

প্রশ্ন-১- চাঁদে তোলা ছবিগুলোতে আকাশে কোনো তারা নেই কেনো?

সম্ভাব্য উত্তরঃ হ্যা, চাঁদ এ বায়ুমন্ডল নেই, তাই আমরা পৃথিবী থেকে যতটা না তারা দেখতে পাই এর থেকে বেশি সংখ্যক এবং অধিক উজ্জ্বল তারা দেখা সম্ভব চাঁদ এর পৃষ্ঠ থেকে। যেহেতু চাঁদ এ বায়ুমন্ডল নেই তাই চাঁদ এর পৃষ্ঠে আপতিত আলোর পরিমাণ অনেক অনেক বেশি, এবং স্পেসস্যুটের রিফ্লেক্টেন্স ৯০% ছিলো, মানে এর উপরে যতটা আলো পতিত হয় তার শতকরা ৯০ ভাগ আলো প্রতিফলিত হয়, ক্যামেরার সেটিংস যদি এরকম করা থাকত যাতে করে তারা দেখা যায় তাহলে নভোচারীদের সূর্যের মত উজ্জ্বল দেখাতো, আমাদের তো ভাই চাঁদ এর ছবিতে তারা দেখানো মেইন উদ্দেশ্য ছিলো না, তাই ইচ্ছা করে শুধু চাঁদ এবং নভোচারীদের দেখানোর জন্য এক্সপোজার এমনভাবে সেট করা হয়েছে, তারা দেখার জন্য নয়। যারা ডিজিটাল ক্যামেরা চালাই তারা ম্যানুয়াল এক্সপোজার সম্পর্কে জানি। না জানলে তাদের থেকে জেনে নিতে পারেন।

প্রশ্ন-২- চাঁদ এ বাতাস নেই, তো পতাকাটি কিভাবে উড়লো?

সম্ভাব্য উত্তরঃ ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় পতাকাটি বাতাসে দুলছে, আসলে আমরা পৃথিবীতে যেভাবে পতাকা উত্তোলন করি চাঁদে সেটা সম্ভব নয়, কারন বাতাস নেই বিধায় পতাকাটি সব সময় নিচের দিকে ঝুলে থাকবে, যেটা অবশ্যই দৃষ্টিকটু, তাই এর ডিজাইনার Jack Kinzler পতাকা টানানোর জন্য উলম্ব দন্ডটির মাথায় ৯০ ডিগ্রি কোণে (আনুভূমিক) আরেকটি দন্ড লাগিয়ে দেন যাতে পতাকাটি ভালো দেখা যায়। দন্ডগুলো হালকা এলুমিনিয়ামের তৈরি, এটা কমনসেন্সের ব্যাপার যে এইরকম একটি দন্ড পৃথিবীর মাটিতে গেঁথে দিতে গেলেও আনুভূমিক দন্ডটি ভালোভাবেই কাঁপবে/উপরে নিচে দুলবে, সাথে পতাকাটিকেও কাঁপাবে। আর যেহেতু চাঁদের অভিকর্ষজ ত্বরণ পৃথিবীর ১/৬ ভাগ, তাই একবার দুললে সেটা স্থির হতে খানিক সময় লাগবে, তাই মনে হচ্ছিলো বাতাসে উড়ছে পতাকাটি।

প্রশ্ন-৩- চাঁদ এ তোলা ছবিতে একই বস্তুর একইসাথে অনেকগুলো ছায়া পড়লো কেনো? যখন আলোর একটাই উৎস? মানে সূর্য?

সম্ভাব্য উত্তরঃ না, উৎস একটাই না, আপনি কি জানেন? চাঁদ থেকে পূর্ণ একটি পৃথিবীর উজ্জ্বলতা পূর্ণিমার চাঁদ এর থেকেও ৪১.৬ গুণ বেশি উজ্জ্বল? আর তাছাড়া চাঁদ এর পৃষ্ঠ অনেক উচু নিচু, তাই একটু দূরে দাঁড়ানো নভোচারীদের ছায়ার দৈর্ঘ্য একইরকম হয়নি।

প্রশ্ন-৪- মুন ল্যান্ডিং এর সময় ল্যান্ডিং মডিউলের নিচে জেট ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও মডিউলের নিচে কোনো গর্ত/ খাদ সৃষ্টি কেন হয়নি?

সম্ভাব্য উত্তরঃ মডিউলটি সলিড পাথরের উপরে ল্যান্ড করেছিলো, সামান্য যা ধুলাবালি ছিল তা উড়ে গেছে, আরেকটি প্রশ্ন আছে তাদের, তাহলে নীল আর্মস্ট্রং এর পায়ের ছাপ এত স্পষ্ট হলো কিভাবে, উত্তর সহজ, অই ধুলাবালি মডিউলের নিচ থেকে সরে গিয়ে পাশেই স্থান নিয়েছে এবং এর উপরেই উনি পায়ের ছাপ রেখেছেন। বিশ্বাস না হলে রিসেন্ট চীনের চন্দ্রাভিযানের ভিডিও দেখতে পারেন, তাদের মডিউলের নিচেও অইরকম গর্ত নেই। (এখন বলতে পারেন ওটাও আসলে ভুয়া)

প্রশ্ন-৫- বায়ুমন্ডলের বাইরে তো মারাত্মক রেডিয়েশন, নভোচারীরা কিভাবে টিকে থাকলেন?

সম্ভাব্য উত্তরঃ স্পেস স্যুট ক্ষতিকর আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে রক্ষা করে, এবং স্পেসশীপ ও সামান্য হলেও রক্ষা করে, তবে পুরোটা নয়, আর চাঁদ এ তো শুধু স্পেসস্যুট ছিলো, তবে মোটামুটি হিসেব করে যতটুকু রেডিয়েশান এক্সপোজার পাওয়া গেছে তা মোটেও মৃত্যু ঘটানোর মত মারাত্মক নয় (তবে একেবারেও কম মারাত্মক না, রিসেন্টলি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে এপোলো মিশনের নভোচারীদের হৃদরোগে মারা যাওয়ার ঝুঁকি অনেক অনেক বেশি বাকিদের তুলনায়)

প্রশ্ন-৬- একটা ছবিতে দেখা যায় এক নভোচারীর হেলমেটের গ্লাসে একটা মানুষের প্রতিবিম্ব যে কিনা স্পেস স্যুট পরিহিত না, কিন্তু তা হলে তো অই লোকটার বেঁচে থাকার কথা নয়, তার মানে চন্দ্রাভিযান ভুয়া।

সম্ভাব্য উত্তরঃ ছবিটিতে ভালো করে তাকালেই দেখবেন অই লোকটির ছায়াতে স্পষ্ট দেখা যায় লোকটি হেলমেট পরিহিত এবং পিঠেও ব্যাকপ্যাক/অক্সিজেন সিলিন্ডার আছে। কাজেই...

উপরের প্রশ্ন ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রশ্ন আছে যা অপেক্ষাকৃত দুর্বল, তাই আজকে সেসব নিয়ে লিখলাম না।

শেষ করবো কিছু কথা বলে। অনেকেই বলে যে এতকিছু লাগবে না, এইটাই বিশ্বাস হয় না যে এমন প্রযুক্তি মানুষের কাছে আছে যা দিয়ে কিনা চন্দ্রাভিযান সম্ভব। ওনাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ভাইসকল, রাশিয়া যে এর থেকেও অনেক আগে কক্ষপথে স্পুটনিক উপগ্রহ পাঠালো, লাইকা নামের কুকুর পাঠালো, ইউরি গ্যাগারিনকে পাঠালো সেসব মিথ্যা মনে হয়নি আপনাদের কাছে?

যদি সেসব বিশ্বাস করে থাকেন তাহলে একটু খেয়াল করে দেখুন, অইটুকু করতে পারলে চাঁদে যাওয়াও আহামরি অতিরিক্ত বেশি কিছু নয়, কারণ পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণকে পরাজিত করে আউটার স্পেসে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া যাওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ, এরপরে কিছুই লাগে না, শুধু এম করে একটা ব্লাস্ট, ব্যাস, এরপরে চুপচাপ বসে থাকবেন, নিউটনের গতির প্রথম সূত্রানুযায়ী সময়মত চাঁদের কক্ষপথে কোনোরকম জ্বালানী ছাড়াই পৌঁছে যাবেন। আচ্ছা এসব ও বিশ্বাস হচ্ছে না? আপনি কি স্যাটেলাইট বা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের অস্তিত্বও বিশ্বাস করেন না? (বিশ্বাস করুন এরকম লোকের অভাব নেই, Flat earth society এর নাম শুনেছেন? এরা এই যুগেও বিশ্বাস করে পৃথিবী সমতল, আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে না, নিজের চোখেই দেখে নিতে পারেন, একটা পাওয়ারফুল বাইনোকুলার নিয়ে ISS এর কো-অর্ডিনেট জেনে আকাশে তাকান, নিজের চোখেই দেখতে পাবেন, প্রযুক্তি কি আছে আর কি নেই আপনি খবর না নিয়ে শুধু এর কাছে ওর কাছে শুনে বেড়ালেই হবে না, খোঁজ নিয়েই দেখুন না? ছবিতে আমি CERN এ Large Hadron Collider এর কয়েকটি ছবি দিয়েছি, এটা মানুষের তৈরি সবচেয়ে জটিল কয়েকটা স্ট্রাকচারের মধ্যে অন্যতম, পৃথিবী অনেক এগিয়ে গিয়েছে, হয়তো আপনার জ্ঞান আর চিন্তার পরিধির থেকে একটু বেশিই।

*"সম্ভাব্য উত্তর" এভাবে বলেছি কারণ আমি নিজের চোখে দেখিনি, তবে আমি এসব বিশ্বাস করি যেহেতু বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

*উপরের তথ্যগুলো ইউটিউবে+বিভিন্ন সাইটে আছে, এরপরেও সহজ বাংলায় সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য লেখা। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সংযুক্তিঃ 

মানবজাতি যে এই মিশনকে সন্দেহ করবে সেটা আর্মস্ট্রংরা বেশ ভালোভাবেও টের পেয়েছিল। তাই তারা চাঁদে একটা লেজার বিম রিফ্লেক্টর রেখে এসেছিল। আপনি যদি তেমন শক্তিশালী একটা লেজার লাইট চাঁদের সঠিক জায়গায় ফেললে দেখবেন যে লেজার বিম প্রতিফলিত হচ্ছে। এটাই চন্দ্র মিশনের সবচেয়ে বড় প্রমাণ ও এটা প্রমাণিতও হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য সন্দেহের বিরুদ্ধে যুক্তিগুলোর একটি পোস্ট গ্রুপে দেওয়া আছে। আশা করি চন্দ্রমিশনকে আর সন্দেহ করার কারণ নেই।

চাঁদে যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা

চাঁদে যাওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা

লিখেছেনঃ শাহরিয়ার আহসান

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: