Header Ads

ভূমিকম্পের উৎস-সন্ধানে ও অন্যান্য

ভূমিকম্পের উৎস-সন্ধানে ও অন্যান্য

ভূমিকম্প নিয়ে নানা ধরনের লোককাহিনী প্রচলিত রয়েছে কমবেশি পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই। আমাদের দেশে চালু একটি পৌরাণিক গল্প হল পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে চারটি বিশালাকৃতির হাতির ওপর। তারা আবার আছে একটি কচ্ছপের ওপর দাঁড়িয়ে (চিত্র ১)। কচ্ছপটি দাঁড়িয়ে আছে একটি মহিষের দুই শিংয়ের ওপর। এদের মধ্যে যেকোনো একটি প্রাণীর গা চুলকালে তারা নড়াচড়া করে, ফলে পৃথিবীতে ভূমিকম্প হয়। রূপকথা তার জায়গায় আছে থাকুক, আমরা বরং বিজ্ঞানের চোখে ব্যাপারটা একটু দেখার চেষ্টা করতে পারি।

ভূমিকম্পের উৎস-সন্ধানে ও অন্যান্য
চিত্র ১। প্রচলিত লোককাহিনীর অ্যানিমেশন ছবি

ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়। এইরূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প (Earthquake) বলে। কম্পন থেকে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, তা ভূমিকম্পের মাধ্যমে প্রকাশ পায় ও এই তরঙ্গ ভূগর্ভের কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চলে উৎপন্ন হয় এবং উৎসস্থল থেকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্প সাধারণত কয়েক সেকেণ্ড থেকে এক/দু-মিনিট স্থায়ী হয়। মাঝেমাঝে কম্পন এত দুর্বল হয় যে, তা অনুভব করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ও ধনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে। পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখান থেকে ভূকম্প তরঙ্গ উৎপন্ন হয়, তাকে ভূমিকম্পের কেন্দ্র বলে। এই কেন্দ্র থেকে কম্পন ভিন্নভিন্ন তরঙ্গের মাধ্যমে সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শিলার পীড়ন-ক্ষমতা সহ্য সীমার বাইরে চলে গেলে শিলায় ফাটল ধরে ও শক্তির মুক্তি ঘটে। তাই প্রায়শই ভূমিকম্পের কেন্দ্র চ্যুতিরেখা অংশে অবস্থান করে। সাধারণত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৬ কিমি-র মধ্যে এই কেন্দ্র অবস্থান করে। তবে ৭০০ কিমি গভীরে গুরুমণ্ডল (Mantle) থেকেও ভূ-কম্পন উত্থিত হতে পারে।

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.০ এর থেকে বেশী এরকম ভারতে ঘটা কিছু বিধ্বংসী ভূমিকম্পের দিনক্ষণ নিচের সারণিতে উল্লেখ করা হল।

ভূমিকম্পের উৎস-সন্ধানে ও অন্যান্য
সারণি ভারতে ঘটা কিছু বিধ্বংসী ভূমিকম্পের বিবরণ (আরও জানতে)

সারণি ১ থেকে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের দেশে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল হল মূলত উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারত এবং হিমালয় সংলগ্ন এলাকা আর চিত্র ২ থেকে পরিষ্কার ভূমিকম্পের গড় পরতা মান রিখটার স্কেলে ৭-এর আশেপাশে। বাকি যে ভূমিকম্পগুলি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে হয়েছে তা বিচ্ছিন্ন ভাবে হয়েছে। তার থেকেও বড় ব্যাপার প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাস থেকেও আন্দাজ করা দুঃসাধ্য যে দেশের কোন প্রান্তে, কবে, কি মাত্রার ভূমিকম্প হতে চলেছে। এই পূর্বাভাস পৃথিবীর সকলের কাছেই একটি সাংঘাতিক চ্যালেঞ্জ।

ভূমিকম্পের উৎস-সন্ধানে ও অন্যান্য
চিত্র ২ ১৯৩০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ভারতে ঘটা কিছু বিধ্বংসী ভূমিকম্পের রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা তার গড়

ভূ-বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের উৎপত্তির পিছনে কারণ হিসেবে নিম্নলিখিত বিষয় গুলিকে ভাবছেন।

  • ভূপৃষ্ঠ জনিত – আমাদের ভূপৃষ্ঠ অনেকগুলো প্লেট-এর সমন্বয়ে গঠিত। এই প্লেটগুলো একটি আরেকটির থেকে আলাদা থাকে ফল্ট বা ফাটল দ্বারা। এই প্লেটগুলোর নিচেই থাকে ভূ-অভ্যন্তরের সকল গলিত পদার্থ। কোনও প্রাকৃতিক কারণে এই গলিত পদার্থগুলোর স্থানচ্যুতি ঘটলে প্লেটগুলোরও কিছুটা স্থানচ্যুতি ঘটে। এ কারণে একটি প্লেটের কোনও অংশ অপর প্লেটের তলায় ঢুকে যায়, যার ফলে ভূমিতে কম্পন সৃষ্টি হয়। আর এই কম্পনই ভূমিকম্প রূপে আমাদের নিকট আবির্ভূত হয়।
  • আগ্নেয়গিরি জনিত – কখনো কখনো আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ও গলিত লাভা উৎক্ষিপ্ত হবার কারণে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হতে পারে।
  • শিলাচ্যুতি জনিত – কখনো কখনো পাহাড় কিংবা উচু স্থান থেকে বৃহৎ পরিসরে শিলাচ্যুতি জনিত কারণে ভূমিকম্প হতে পারে। সাধারণত ভাঁজ পর্বতের নিকট অধিক ভূমিকম্প হয়।
  • তাপ বিকিরণ – ভূত্বক তাপ বিকিরণ করে সংকুচিত হয়ে পড়লে ফাটল ও ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভূমিকম্প হয়।
  • ভূগর্ভস্থ বাষ্প – নানাকারণে ভূগর্ভে বাষ্পের সৃষ্টি হয়। এই বাষ্প ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে তা ভূত্বকের নিম্নভাগ ধাক্কা দেয়; ফলে প্রচণ্ড ভূকম্পন অনুভূত হয় এবং ভূমিকম্প হয়।
  • হিমবাহ জনিত – কখনো কখনো প্রকাণ্ড হিমবাহ পর্বত গাত্র হতে হঠাৎ নিচে পতিত হয়। এতে ভূপৃষ্ঠ কেঁপে ওঠে এবং ভূমিকম্প হয়।
  • বিবিধ – সমুদ্রে জলের জোয়ার ভাটা, পৃথিবীর অভ্যন্তরে চৌম্বকীয় বিস্ফোরণ, উচ্চ জলপ্রপাতে জলের প্রচন্ড প্রবাহ ইত্যাদি।

এর মধ্যে প্লেট-তত্ত্বই (টেকটোনিক প্লেট বা পাত) হচ্ছে প্রধান। টেকটোনিক পাত মূলত পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ, যা আসলে পাথরের একটি স্তর, যার উপরে পৃথিবীর উপরস্থ সবকিছু অবস্থান করছে। পৃথিবীর বহিঃপৃষ্ঠকে ৮ টি বড় বড় খণ্ডে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হল ইন্ডিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান, ইউরেশিয়ান, আফ্রিকান, অ্যান্টারটিকান, নর্থ আমেরিকান, সাউথ আমেরিকান ও প্যাসিফিক (চিত্র ৩)।

ভূমিকম্পের উৎস-সন্ধানে ও অন্যান্য

এছাড়াও আরও কয়েকটি অপ্রধান পাত হল আরব্য পাত, ক্যারিবীয় পাত, জুয়ান দে ফুকা পাত, কোকাস পাত, নাজকা পাত, ফিলিপিনীয় পাত, স্কোশিয়া পাত ইত্যাদি (বিশদে আরও জানতে)। এই প্লেটগুলি স্থির নয়। ইন্ডিয়ান প্লেট বছরে গড়ে ২ ইঞ্চি করে উত্তরদিকে এগোচ্ছে আর ইউরেশিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিচ্ছে। হিমালয় নামক ভঙ্গিল পর্বতটি এইভাবেই উৎপন্ন হয়েছে। ক্রিকেট বা ফুটবল প্রভৃতি সবখেলার মাঠেই যেমন সীমানা নির্ধারিত, তেমনই এই ৮ টি টেকটোনিক প্লেট অঞ্চলেরও নির্দিষ্ট সীমানা রয়েছে আর এই সীমানা বরাবর প্লেটগুলির মধ্যে ধাক্কাধাক্কি অবিরাম চলতেই থাকে। তাই এই সীমানা বরাবর অঞ্চলগুলিতেই নিয়মিত ভাবে ভূমিকম্প সৃষ্টি হচ্ছে। ভূ-বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে এই প্লেট গুলি বছরে গড়ে ৩ ইঞ্চি করে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে। আমাদের দেশের যাবতীয় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হল ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগকারী লাইন বরাবর। এর অবস্থান হিমালয় পর্বতমালার একেবারে নিচ বরাবর এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমানার পূর্ব দিকের রাজ্যগুলির পার্বত্য এলাকা ও ইন্দো-বার্মা সীমানার পার্বত্য অঞ্চলের তলদেশ বরাবর। তা এই টেকটোনিক প্লেট গুলির নড়াচড়ার কারন কি? ভূ-বিজ্ঞানীদের দাবী – 

  • পৃথিবীর গুরুমণ্ডল (Mantle)-এ প্রচণ্ড উত্তপ্ত অবস্থায় গঠনকারী উপাদান লোহা, নিকেল ইত্যাদি গলিত অবস্থায় থাকে। এদের পরিচলনের ফলে প্লেটগুলির মধ্যে আন্দোলন সৃষ্টি হয়। 
  • পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের জন্যে ও অনেক সময় প্লেটগুলির নড়াচড়া হয়। আর একদল বিজ্ঞানীর দাবী সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষ বলও এই নড়াচড়ার জন্য কিছুটা দায়ী। 
  • অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কারনটি হল পৃথিবীর আহ্নিক গতি। 

এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পের সঠিক ভবিষ্যত বাণী করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু চেষ্টা চলছে অবিরত। গবেষণায় দেখা গেছে যে, যেখানে ভূমিকম্প হবে সেই অঞ্চলের ও তার আশেপাশের বেশ খানিকটা এলাকা জুড়ে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের অসঙ্গতি দেখা যায়। প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট স্ফেরিক্স (এক প্রকার কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ) ও আমাদের দ্বারা প্রেরিত আর এক প্রকার কম কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট তড়িৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ (সাব-আয়নস্ফেরিক ট্রান্সমিটেড সিগন্যাল)-এর আচরণেও অনেক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রাক-ভূমিকম্প পর্যায়ে রেডন গ্যাসের নির্গমন, ভূগর্ভস্থ জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ইত্যাদি। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এসব তথ্য রেকর্ড করা ও বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে যে সময় লাগে তার মধ্যেই ঘটনা ঘটে যায় আর ক্ষয়ক্ষতি যা হবার তা হয়ে যায়। তবে এই কম্পনের পূর্বাভাস যদি কেউ বুঝতে পারে সে হল পশু পাখিরা। ভূমিকম্পের মূল আঘাতের আগেই মৃদু কম্পন তারা অনুভব করে এবং অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। 

“নদী তুমি কোথা হইতে আসিতেছ?” – আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু এই প্রশ্নের উত্তরে পেয়েছিলেন “মহাদেবের জটা হইতে”। ভাগীরথীর উৎস সন্ধান করতে করতে তিনি পৌঁছেছিলেন তুষারমণ্ডিত গিরিশৃঙ্গ গোমুখ-এ, আমরাও ভূমিকম্পের উৎস সন্ধান করতে করতে পৌঁছে গেলাম মূলত সেই হিমালয়ের পাদদেশে। ভঙ্গিল পর্বত যেই প্লেট সঞ্চালনের ফলে তৈরি হয়েছিল বহু কোটি বছর ধরে, সেই প্লেট সঞ্চালনের জন্যই মাঝে মাঝেই কেঁপে উঠছে বসুধা। আমাদের করছে সাবধান প্রকৃতির অবাধ্য যেন আমরা না হই। 

সবশেষে, অবশ্যম্ভাবী ভাবেই এসে যায় ভূমিকম্পের আগে বা পরে আমাদের করনীয় ব্যাপারগুলোর কথা। যেহেতু পূর্বাভাস করা সেভাবে সম্ভব হচ্ছে না তাই সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া আমাদের আর বিশেষ কিছু করার নেই। দুটো দিক রয়েছে এই আলোচনার। ভূমিকম্প হলে যাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কম হয় তার ব্যবস্থাগ্রহন আর ভূমিকম্পের পরে আপতকালীন ক্রিয়াকলাপ। 

ভূমিকম্পকালীন আপতকালীন করণীয়সমূহ 
  • ভূমিকম্প অনুভূত হলে নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রাখতে হবে। অযথা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করা ঠিক নয়। 
  • ঘরের বাইরে খোলা স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। গাছ, উঁচু বাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে। 
  • যদি ঘর থেকে বের না হওয়া যায়, তাহলে মাথা বাঁচাতে শক্ত টেবিল, খাট, ডেস্ক বা বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নিতে হবে। 
  • লিফট এর বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে। 
  • বারান্দা, আলমারি, কাঠের আসবাবপত্র, বাঁধানো ছবি, ঝুলন্ত কোন ভারি বস্তু থেকে দূরে থাকতে হবে। 
  • গাড়িতে থাকলে ব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে হবে। 

ভূমিকম্পের পরে আপতকালীন করণীয়সমূহ 
  • একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। এর নাম After Shock. তাই প্রথম কম্পনের পর খোলা জায়গায় বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত After Shock কেটে যাওয়ার জন্য। 
  • গ্যাস বা অন্য কোন রাসায়নিক দ্রব্যের গন্ধ পেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। 
  • উদ্ধারের ক্ষেত্রে শিশু, অসুস্থ, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। 
  • প্রয়োজন ছাড়া টেলিফোন, মোবাইল ফোন একদম ব্যবহার করা উচিত নয়। জরুরি সেবা বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে কোনভাবে ব্যাহত করা ঠিক নয়। 
  • বিপর্যয় ঘটে গেলে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করা উচিত। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনে দ্রুত ও নিরাপদে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

লেখক পরিচিতি

Suman Paul

SUMAN PAUL 
পদার্থবিজ্ঞান-এর শিক্ষক ও গবেষক


লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: