Header Ads

সময় পরিভ্রমণ সম্ভাবনার দ্বার আপেক্ষিকতা

সময় পরিভ্রমণ সম্ভাবনার দ্বার আপেক্ষিকতা

আমাদের মাঝে টাইম ট্র্যাভেল নিয়ে অনেক কৌতুহল। অনেক জল্পনা-কল্পনা আছে এই সময় পরিভ্রমণ নিয়ে। তাই পদার্থবিদদের মাঝেও কিন্তু এ নিয়ে আগ্রহ ও গবেষণার কমতি নেই। তবে অনেক সময় সাধারণ মানুষ এটা নিয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেখায়। মনে রাখতে হবে এটি এখনও সুদূর তাত্ত্বিক বিষয়। সময় পরিভ্রমণ সম্ভব কি সম্ভব না, সময় পরিভ্রমণের আগামীর সম্ভাবনা, সময় পরিভ্রমণের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আপেক্ষিকতার মাধ্যমে আজ একটু আলোচনা করবো।

সময় পরিভ্রমণ কি?


সহজ কথায় বললে বর্তমান থেকে ( আসলে বর্তমান বলে কিছু নেই, বোঝার সুবিধার্থে ধরে নিচ্ছি ) অতীত কিংবা ভবিষ্যতের কোনো সময়ে ভ্রমণ করাকে আমরা সময় পরিভ্রমণ বা টাইম ট্র্যাভেল বলে জানি। অর্থাৎ এক সময় থেকে অন্য সময়ে ভ্রমণ করাকে টাইম ট্র্যাভেল বলে।

টাইম ট্র্যাভেল কি আসলেই সম্ভব?


যারা টাইম ট্র্যাভেলে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য বিস্ময়কর হলো যে হ্যা, তাত্ত্বিকভাবে টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান অনেক সময় আমাদের কল্পনাকে ছাড়িয়ে যায়। এটা তার অনন্য এক দৃষ্টান্ত। যারা একটু খুতখুতে তারা নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, বললেই তো হবে না। যুক্তি ও এর পিছনে বিজ্ঞান কোথায়? আসছে আসছে, যুক্তি আসছে....। এখন আমি যেভাবে টাইম ট্র্যাভেল করা যেতে পারব সেরকম কয়েকটা উপায় নিয়ে আলোচনা করবো।

টাইম ট্র্যাভেলের উপায়


সময় পরিভ্রমণ সম্ভাবনার দ্বার আপেক্ষিকতা

প্রথমেই বলে রাখি টাইম ট্র্যাভেলের জন্য সায়েন্স ফিকশন কিংবা মুভিতে যেভাবে একটা মেশিনকে উধাও হয়ে যেতে দেখা যায়, আপাতত সেরকম কোনো অদৃশ্য হওয়া যন্ত্রের দরকার নেই। তো বেশি কথা না বাড়িয়ে টাইম ট্র্যাভেলের সম্ভাব্য উপায়গুলোর উপর আলোচনা করছি।

আলোর গতি ও আপেক্ষিকতা


আপেক্ষিকতা নামটা মনে পড়লেই মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইনের কথা মনে পড়ে। তার যুগান্তকারী আবিষ্কার হলো থিওরি অব রিলেটিভিটি। তবে এখন আমরা বিশেষ আপেক্ষিকতায় মনোযোগ দেবো। বিশেষ আপেক্ষিকতা অনুসারে কোনো বস্তু আলোর গতি কিংবা এর কাছাকাছি গতিতে চললে তার ক্ষেত্রে সময় ধীর হয়ে যায়। এই থিওরির প্রমাণ পাওয়া যায় দুটো এটমিক ক্লক দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে। এখানে যে ঘড়িটি একটি চলন্ত বিমানে কয়েকদিন রাখা হয় সেই ঘড়িটির সময় অন্য স্থির ঘড়ির তুলনায় ধীর হয়ে যায়। তাই এটি টাইম ট্র্যাভেলের ক্ষেত্রে দারূণ এক মাধ্যম হতে পারে। তবে নিরাশার কথা এই যে কোনো ভরসম্পন্ন বস্তুই আলোর গতিতে যেতে পারবে না। কারণ আলোর গতিতে গেলে ভরবেগ অসীম হয়ে যাবে এবং এর জন্য শক্তিও লাগবে অসীম। তাই আপাতত আলোর গতিতে চলার মাধ্যমে সময় পরিভ্রমণের আশা স্থগিত রাখতে হচ্ছে।

ব্ল্যাকহোল


আবারো আমরা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা নিয়ে কথা বলবো। তবে এবারের প্রসংগটা হবে সাধারণ আপেক্ষিকতা নিয়ে। যারা বিজ্ঞানের একটু আধটু জানেন তারা নিশ্চয়ই ব্ল্যাকহোলের নামটি শুনে থাকবেন। ব্ল্যাকহোল হলো তারার এমন একটি অবস্থা যেখানে তারাটি এমনভাবে চুপসায় যে তার সমস্ত ভর একটি সিংগুলারিটি পয়েন্টে এসে জমা হয়। ফলে সেটি স্থান-কালকে অসীম মাত্রায় বাকিয়ে দেয়। এর দরূণ ব্ল্যাকহোলটির মুক্তিবেগ এতো বেশি হয় যে আলোও সেখান থেকে বেড়িয়ে আসতে পারে না। সাধারণ আপেক্ষিকতা অনুসারে যে বস্তু যতো ভারী হবে, তার কাছে সময় ততো ধীর হবে। তাই ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজনে প্রবেশ করলে সময় ধীর হতে শুরু করবে। তাই এমন একটি মহাকাশযান বানাতে হবে যাতে করে ব্ল্যাকহোলের চারপাশে চক্কর দেওয়া যায়। তাহলে স্পেসশিপে থাকা মানুষের কাছে সময় স্থির হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে পৃথিবীতে গেলে দেখবে যে পৃথিবীতে অনেক বছর পার হয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত যারা টাইম ট্র্যাভেলে আশাবাদী তাদের মুখে এখন হাসি ফুটতে শুরু করেছে। কিন্তু তাদের আবারো নিরাশ করে বলতে হচ্ছে যে, আমি বলেছি ব্ল্যাকহহোলের মুক্তিবেগ আলোর চেয়েও বেশি এবং কোনো ভরসম্পন্ন বস্তুই আলোর গতিতে যেতে পারে না। তাই উপরোক্ত মহাকাশযানটি বানানো অসম্ভব । তাই এভাবেও টাইম ট্র্যাভেল করা অসম্ভব। এবারে নিশ্চয়ই অনেকে আমার উপর বিরক্ত হচ্ছে, তাই এবার তাদের জন্য আশার কথা শুনাচ্ছি।

ওয়ার্মহোল


সময় পরিভ্রমণ সম্ভাবনার দ্বার আপেক্ষিকতা

বিজ্ঞানীদের থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের কাছেও ওয়ার্মহোল এখন একটি প্রিয় নাম। আসলে ওয়ার্মহোল কী? ওয়ার্মহোল হলো এই মহাবিশ্বে এমন একটি ছিদ্র যা দিয়ে অতি স্বল্প সময়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অনেক অনেক দূরে চলে যাওয়া যাবে। এবারে ওয়ার্মহোল থাকা কিভাবে সম্ভব এ নিয়ে একটু সহজভাবে বলি। আসলে আমাদের চারপাশে দেখা কোনো কিছুই মসৃণ নয়। উদাহরণস্বরূপ - আপনার স্মার্টফোনে কোনো স্ক্র‍্যাচ না থাকলে স্ক্রিনটিকে মসৃণ মনে হবে। কিন্তু অতি সূক্ষ্মভাবে দেখলে সেখানেও খাঁজকাটা খাঁজকাটা কিংবা ফাক-ফোকর জাতীয় থাকে। এটা যেমন ৩ মাত্রার জিনিসের ক্ষেত্রে ঠিক, তেমনই ৪ মাত্রার জগতের ক্ষেত্রেও ( সময় এখানে আরেকটি মাত্রা ) ঠিক। বলে রাখা ভালো সময় যে প্রকৃতির আরেকটি মাত্রা সেটিও আইনস্টাইন তার সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেছেন। কিন্তু ৪ মাত্রার জগতের ফাক- ফোকর তো অনেক সূক্ষ্ম হবে ও ক্ষুদ্র হবে। সেজন্য আবার ওয়ার্মহোলকে বড় করতে হবে। কিন্তু আমাদের চিরচেনা পজিটিভ এনার্জি দিয়ে সেটা সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের লাগবে নেগেটিভ এনার্জি, যেটা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। আরেকটি বিষয় হলো এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ার্মহোল খুঁজে পাওয়া যায় নি। আবার অনেক মনে করে একটা ব্ল্যাকহোল ও হোয়াইটহোলের মিলনস্থল একটা ওয়ার্মহোলের পথ। কিন্তু এখনো হোয়াইটহোল একটা হাইপোথিসিস। হোয়াইটহোল এখনো প্রমাণিত নয়। যাই হোক অনেক কথা বলে ফেললাম। যারা আপেক্ষিকতা নিয়ে কম-বেশি জানে তারা নিশ্চয়ই আপেক্ষিকতার গুরুত্ব আরো ভালোভাবে টের পেয়েছেন। আজকের টপিকটি ছিল আপেক্ষিকতা দিয়ে টাইম ট্র্যাভেলের ব্যাখা করা। তাই অনেক গুলো উপায় বাদ পড়েছে। সেগুলো নিয়ে অন্য একদিন আলোচনা করা যাবে। তবে জেনে রাখুন, টাইম ট্র্যাভেল এখনো আমাদের কল্পনার মাঝেই সীমাবদ্ধ আছে। কবে যে আমরা সময় পরিভ্রমণ করতে পারবো সেটা সময়ই বলে দেবে!

লেখক পরিচিতি
লিখেছেনঃ মহাকাশের কথা

লিখাটি ভালো লেগে থাকলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এবং নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিয়মিত এমন লিখা পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। যুক্ত হোন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে এবং ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: