Header Ads

বই রিভিউঃ উভচর মানব

বই রিভিউঃ উভচর মানব

বইঃ উভচর মানব
লেখকঃআলেক্সান্দর বেলায়েভ
প্রকাশনী: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
অনুবাদক: ননী ভৌমিক
গায়ের দাম: ২০০ টাকা

যারা নিয়মিত বই পড়েন নিশ্চয়ই একটা প্রচলিত সমস্যা সবাই কম বেশি ভোগেন সেটা হচ্ছে কিছুদিনের জন্যে বই নামক বইটা আর গিলতে পারা যাচ্ছেনা । এতো ভাল সব বইগুলো একটু পড়েই কেমন জানি আর সম্ভব হচ্ছে না সেই আপনিই কিছুদিন আগেও এক নাগাড়ে বই পড়ে যেতেন ।

আমার এই সমস্যা প্রায়ই হয় তবে হঠাৎ এই বইটা শুরু করা মাত্রই বেশ আনন্দ লাগছিলো, কেমন যেনো রহস্যের গন্ধ ছিলো বইটাতে, ছিলো এ্যাডভেন্চার, কল্প বৈজ্ঞানিক রহস্যে গাঁথা বইটা পড়ে এতটাই মজা পেলুম যে মনে হচ্ছিলো আরেকটু জানি । একনাগাড় পড়তে বাধ্ হলাম তাই ।
প্রথমেই লেখকের প্রশংসা করবো আমি । লেখক, “আলেক্সান্দর বেলায়েভ” উনার এই প্রথম কোন বই আমি পড়েছি এবং বিমুগ্ধ হয়েছি । আমার ধারনা যেকোন বয়সের মানুষ আগ্রহ থাকলে পড়ে অবশ্যই মজা পাবেন ।

লেখকের পুরো নাম, আলেক্সান্দর রোমানোভিচ বেলায়েভকে (তবে তিনি আলেক্সান্দর বেলায়েভ নামেই অধিক পরিচিত) । মূলত তাকে রুশ কল্প বৈজ্ঞানিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় । জন্ম ১৮৮৪ সালে । তার সম্পর্কে জানা যায় তিনি একাধিক প্রতিভাধর ব্যাক্তি ছিলেন এবং তিনি একাধারে ছিলেন অর্কেস্ট্রার বাজনদার, রঙ্গমঞ্চের দৃশ্যপট আঁকিয়ে, সাংবাদিক এবং আইনবিদ। তিনি আইন এবং সংগীতের ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্যে বেলায়েভ বাজনা বাজাতেন এছাড়া নানান পেশাতেও নিযুক্ত থাকতে হতো তাকে ।

লেখকের প্রথম কল্প-বৈজ্ঞানিক উপন্যাসের নাম “প্রফেসর ডোয়েলের মস্তক” যা দ্বারা তিনি সুনাম অর্জন করলেও তার সবথেকে বিখ্যাত হচ্ছে এই “উভচর মানুষ” নামক কল্প-বৈজ্ঞানিক উপন্যাসটি । কল্প-বৈজ্ঞানিক উপন্যাস ছাড়াও তিনি চিকিৎসাবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা, মহাকাশ অভিযান ও জীববিদ্যার নানান সমস্যা নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক বই লিখেছেন-- যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী পাঠকদের কাছে আজও সমান গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়। মাত্র ৫৭ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে এই মহান লেখক পরলোক গমন করেন।

কাহিনী সংক্ষেপনঃ

”দরিয়ার দানো” কখন যে সমুদ্রের জলে ভেসে উঠবে এই ভয়েই অস্থির হয়ে থাকতো জেলেরা । আর্জেটিনায় গ্রীষ্মের উত্তাপ থাকলেও সেখানকার সবথেকে চান্চল্যকর খবর ছিলো “দরিয়ার দানো” কে নিয়ে । নানান গল্প শোনা গেলেও আসলে এই “দরিয়ার দানো” যে কে কারোরই জানা ছিলো না এমনকি সামনাসামনি কেউ এখন পর্যন্ত দেখে নি । তবে ভয়ের ব্যাপার তাকে নিয়ে থাকলেও লোকমুখে শোনা যায় সে নাকি অনেকেরই জীবনও বাঁচিয়ে দিয়েছে ।

এই অদ্ভুত প্রাণী যার বিচরন থাকতো সমুদ্রে হঠাৎ হঠাৎ কোথা থেকে ভেসে উঠতো শঙ্খ বাজানোর আওয়াজ । কি করুনই না সুর ছিলো সেটি যা শোনামাত্রই অনেকেই বুঝতে পারতো আশে-পাশে দরিয়ার দানো নিশ্চই আছে । রহস্য থাকলেও কারো সাহস হতো না তার সামনে যাবার । তবে “বালতাজার” এবং ”জুরিতা” নামক দু’জন ব্যাক্তি উঠেপড়ে লাগলো এই “দরিয়ার দানোকে” ধরতে । কিন্তু তাকে ধরা কি অতটাই সহজ ছিলো? তাদের প্রথম চেষ্টা গেলো বিফলে এমনকি ২য় চেষ্টাও । এরপরে শুরু করলো তাকে হাত করার এক সুগভীর পরিকল্পনা ।

এদিকে “সালভাতর” নামক এক বৈজ্ঞানির কথা শোনা গেলো সে নাকি রোগীকে করে তোলে সুস্থ, মরাকে দান করে জীবন, খোঁড়া কিংবা অন্ধকে একদম নাকি ভালো করে দিতো তবে তার দেখা পাওয়া ছিলো এতটাই মুশকিল এমনকি সে থাকতো গভীর রক্ষণশীল এক বাড়িতে । সবকিছুর মাঝে কি কোন যোগসূত্র ছিলো নাকি? মারিয়া হয়ে উঠলো “বালতাজার” এবং ”জুরিতা” জানার জন্যে আর কেই বা ছিলো এই “দরিয়ার দানো” ।


লেখক পরিচিতিঃ
লিখেছেনঃ Sinthi Ahmed

এমন আরও বইয়ের নিয়মিত রিভিউ পেতে EduQuarks এর সাথেই থাকুন। প্রতি সপ্তাহের শনি এবং মঙ্গলবারে আমাদের বুক রিভিউ সিরিজের লিখা পাবলিশ হয়ে থাকে। আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে যোগ দিন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে ও লাইক দিয়ে রাখুন ফেসবুক পেইজে। সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

No comments: